<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021</id><updated>2011-11-30T00:40:12.630+06:00</updated><category term='হাসিনা'/><category term='সমুদ্র'/><category term='আমেরিকা'/><category term='ভূমিকম্প'/><category term='প্রযুক্তি'/><category term='বিদেশি'/><category term='hasina'/><category term='স্বাস্থ্য'/><category term='ডুবে যাবে'/><category term='সেনাবাহিনী'/><category term='সাক্ষাৎকার'/><category term='ভ্রমণ কাহিণী'/><category term='meeting'/><category term='টিপস'/><category term='কম্পিউটার'/><category term='কৌতুককর'/><category term='audio'/><category term='পিলখানা'/><category term='আর্মি'/><category term='army'/><category term='বীরাঙ্গনা'/><category term='দেশি'/><category term='মুক্তিযুদ্ধ'/><category term='কাজী আনোয়ার হোসেন'/><category term='ধ্যান'/><category term='officer'/><category term='করণীয়'/><category term='মিটিং'/><category term='কর্নেল তাহের'/><category term='গুয়ানতানামো'/><category term='প্রথম আলো'/><category term='জলবায়ু'/><category term='বাংলাদেশ'/><category term='আবু তাহের'/><category term='অর্থনীতি'/><category term='রাজনীতি'/><title type='text'>আর্কাইভ</title><subtitle type='html'>ব্যক্তিগত সংবাদ সংগ্রহশালা। এইখানে সংরক্ষিত সকল সংবাদের স্বত্ব সম্মান্বিত সংবাদদাতাদের। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপনি এটি ব্যবহার  করতে পারেন। কিন্তু কোন প্রকার বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে করুন।</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>28</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-946608965763325268</id><published>2011-03-31T14:45:00.004+06:00</published><updated>2011-03-31T15:12:53.997+06:00</updated><title type='text'>﻿ প্রধানমন্ত্রীতাজউদ্দীন আহমদকে ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১)</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/-Hc4vRN8BMWs/TZRFPpUXgNI/AAAAAAAAA8Y/78xbr2jqIPQ/s1600/indira-gandhi_to_tazduddin.jpg"&gt;&lt;img style="float: left; margin: 0pt 10px 10px 0pt; cursor: pointer; width: 222px; height: 320px;" src="http://4.bp.blogspot.com/-Hc4vRN8BMWs/TZRFPpUXgNI/AAAAAAAAA8Y/78xbr2jqIPQ/s320/indira-gandhi_to_tazduddin.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5590169172565262546" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;h2 class="title mb10"&gt;প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;সূত্র: &lt;/span&gt;&lt;a style="font-style: italic;" href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141549"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141549&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নয়াদিল্লি&lt;br /&gt;ডিসেম্বর ৬, ১৯৭১&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,&lt;br /&gt;৪ঠা ডিসেম্বর তারিখে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং  আপনি যে বার্তা পাঠিয়েছেন তা পেয়ে আমি ও ভারত সরকারের আমার সহকর্মীবৃন্দ  গভীরভাবে অভিভূত হয়েছি। বার্তাটি পেয়ে ভারত সরকার আপনার নিবেদিতপ্রাণ  নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের জন্য আপনার অনুরোধ  পুনর্বিবেচনা করেছে। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বিদ্যমান বর্তমান  পরিস্থিতির আলোকে ভারত সরকার স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ  সকালে এ বিষয়ে পার্লামেন্টে আমি একটি বিবৃতি প্রদান করেছি।&lt;br /&gt;অনুলিপি প্রেরণ করা হলো।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের জনগণকে প্রচুর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আপনাদের যুবসম্প্রদায়  স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য এক আত্মোৎসর্গীকৃত সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে।  ভারতের জনসাধারণও অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিরক্ষায় যুদ্ধ করছে। আমার কোনো  সন্দেহ নেই যে মহান উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এই সহমর্মিতা প্রচেষ্টা ও ত্যাগ  দুই দেশের মৈত্রীকে আরও সুদৃঢ় করবে। পথ যতই দীর্ঘ হোক না কেন এবং ভবিষ্যতে  দুই দেশের জনগণকে যত বড় ত্যাগ স্বীকারই করতে বলা হোক না কেন আমি নিশ্চিত যে  জয় আমাদের হবেই।&lt;br /&gt;এই সুযোগে আপনাকে, আপনার সহকর্মীগণকে এবং বাংলাদেশের বীর জনগণকে আমার প্রীতিসম্ভাষণ ও শুভকামনা জ্ঞাপন করছি।&lt;br /&gt;আমি এই সুযোগে আপনার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য  ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের প্রতি আমার সর্বোত্তম শ্রদ্ধা  জ্ঞাপন করছি।&lt;br /&gt;আপনার একান্ত&lt;br /&gt;(ইন্দিরা গান্ধী)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনাব তাজউদ্দীন আহমদ&lt;br /&gt;মাননীয় প্রধানমন্ত্রী&lt;br /&gt;গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার&lt;br /&gt;মুজিবনগর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভারতের পার্লামেন্টে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীতাজউদ্দীন আহমদকে ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি&lt;br /&gt;সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-946608965763325268?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/946608965763325268/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=946608965763325268' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/946608965763325268'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/946608965763325268'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_188.html' title='﻿ প্রধানমন্ত্রীতাজউদ্দীন আহমদকে ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১)'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/-Hc4vRN8BMWs/TZRFPpUXgNI/AAAAAAAAA8Y/78xbr2jqIPQ/s72-c/indira-gandhi_to_tazduddin.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-6749591739792027697</id><published>2011-03-31T14:07:00.005+06:00</published><updated>2011-03-31T15:21:13.188+06:00</updated><title type='text'>৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি</title><content type='html'>&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);font-size:85%;" &gt;৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;h3 style="font-weight: normal;" class="shoulder"&gt;আক্রমণকারীকে প্রত্যাঘাত করতে হবে&lt;/h3&gt;&lt;span style="font-style: italic;font-size:85%;" &gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141543"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141543&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;  মাননীয় স্পিকার, আজ সকালে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার  আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম পাকিস্তান  বিমানবাহিনী আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের বেশ কয়েকটি বিমান  ক্ষেত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। সমান্তরালভাবে তাদের স্থলবাহিনীগুলো পশ্চিম  সীমান্তজুড়ে আমাদের অবস্থানের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে। তাদের প্রচারযন্ত্র  সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে এই অভিযোগ প্রচার করছে যে ভারত তাদের ওপর আক্রমণ ও  আগ্রাসন শুরু করেছে।&lt;br /&gt;খবরটি আমার কাছে পৌঁছায়, ঠিক যখন আমি কলকাতা ত্যাগ করছিলাম। [দিল্লিতে]  ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা  করে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি। আমরা সবাই একমত এবং এই সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ  হয়েছি যে জাতির স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে  পৌঁছেছি যে আগ্রাসী আঘাতকারী শক্তিকে প্রত্যাঘাত করতে হবে।&lt;br /&gt;নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার বর্বরোচিতভাবে  দলিত করে চলেছে বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি ও মৌলিক মানবাধিকার। তাদের  হানাদার বাহিনী যেসব অপরাধ করে চলেছে, প্রতিহিংসাপ্রসূত হিংস্রতার দিক থেকে  সেগুলো তুলনাবিহীন। লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, আমাদের দেশে  তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক কোটি মানুষকে। পুরো একটি জাতির এই নিশ্চিহ্নকরণ  অভিযানের প্রতি এবং আমাদের নিরাপত্তার ওপর এই হুমকির প্রতি আমরা বারবার  বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সবখানেই মানুষ সহানুভূতি প্রকাশ  করেছে, ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বোঝা এবং তার বিপদ উপলব্ধি  করেছে।...&lt;br /&gt;পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ক্রোধান্ধ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশের জনগণ এমন  কিছু মূল্যবোধের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নিবেদিত হয়েছে, যেসব  মূল্যবোধ উপলব্ধি করতে সামরিক বাহিনী অক্ষম; এবং সেই সব মূল্যবোধ তারা দলিত  করে চলেছে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশেই।&lt;br /&gt;মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ-তৎপরতার সাফল্য যতই বেড়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী ততই  বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের ঐতিহ্য নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের পাশে দাঁড়ানো নয়,  বরং নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানো; এবং সে কারণেই তাদের রোষানল এখন বর্ষিত হচ্ছে  আমাদের ওপর।...&lt;br /&gt;বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনকে পাকিস্তান বিস্তৃত করেছে ভারতের  বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধরূপে।..আমরা শান্তির পক্ষে, কিন্তু আজ শান্তিই  বিপন্ন: শান্তি রক্ষা করতে হবে। আজ আমরা লড়াই করছি জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও  জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে। সর্বোপরি আমরা লড়ছি আমাদের লালিত আদর্শ ও  শান্তি রক্ষার স্বার্থে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশ ডকুমেন্টস থেকে নেওয়া&lt;br /&gt;ইংরেজি থেকে অনূদিত, ঈষৎ সংক্ষেপিত&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-6749591739792027697?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/6749591739792027697/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=6749591739792027697' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6749591739792027697'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6749591739792027697'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_7067.html' title='৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-6014891984539321353</id><published>2011-03-31T13:56:00.001+06:00</published><updated>2011-03-31T13:57:31.271+06:00</updated><title type='text'>﻿ কমান্ডারদের নাম (মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)</title><content type='html'>&lt;h2 class="title mb10"&gt;কমান্ডারদের নাম&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141534"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141534&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেশরক্ষা মন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ&lt;br /&gt;প্রধান সেনাপতি : কর্নেল এম এ জি ওসমানী&lt;br /&gt;চিফ অব স্টাফ : লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ রব&lt;br /&gt;ডেপুটি চিফ অব স্টাফ : গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার&lt;br /&gt;‘জেড’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান&lt;br /&gt;‘এস’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর কে এম সফিউল্লাহ&lt;br /&gt;‘কে’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ&lt;br /&gt;সেক্টর নং ১&lt;br /&gt;মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-১০ জুন ’৭১)&lt;br /&gt;মেজর রফিকুল ইসলাম (১১ জুন-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ২&lt;br /&gt;মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-অক্টোবর ’৭১)&lt;br /&gt;ক্যাপ্টেন এ টি এম হায়দার (অক্টোবর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৩&lt;br /&gt;মেজর কে এম সফিউল্লাহ (এপ্রিল-৩০ সেপ্টেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;মেজর এ এন এম নূরুজ্জামান (১ অক্টোবর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৪&lt;br /&gt;মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (মে-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৫&lt;br /&gt;মেজর মীর শওকত আলী (আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৬&lt;br /&gt;উইং কমান্ডার এম কে বাশার (জুন-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৭&lt;br /&gt;মেজর খন্দকার নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট ’৭১)&lt;br /&gt;মেজর কাজী নূরুজ্জামান (আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৮&lt;br /&gt;মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-১৫ আগস্ট ’৭১)&lt;br /&gt;মেজর এম আবুল মঞ্জুর (১৮ আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ৯&lt;br /&gt;মেজর এম এ জলিল (এপ্রিল-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;সেক্টর নং ১০&lt;br /&gt;কোনো সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়নি। প্রধান সেনাপতি তাঁর নিয়ন্ত্রণে এই বাহিনীকে রেখেছিলেন।&lt;br /&gt;সেক্টর নং ১১&lt;br /&gt;মেজর জিয়াউর রহমান (১০ জুন-১২ আগস্ট ’৭১)&lt;br /&gt;মেজর আবু তাহের (১২ আগস্ট-১৪ নভেম্বর ’৭১)&lt;br /&gt;ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান (১৫ নভেম্বর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১) &lt;br /&gt;সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস&lt;br /&gt;মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, (২০০৪)।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-6014891984539321353?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/6014891984539321353/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=6014891984539321353' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6014891984539321353'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6014891984539321353'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_1260.html' title='﻿ কমান্ডারদের নাম (মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-3959097237826717</id><published>2011-03-31T13:55:00.000+06:00</published><updated>2011-03-31T13:56:02.632+06:00</updated><title type='text'>বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল (১৯৭১)</title><content type='html'>&lt;h2 class="title mb10"&gt;বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141533"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141533&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="cb oH"&gt;                     &lt;/div&gt;                     &lt;div class="alternativeCol justify cb oH mb10"&gt;               ‘জেড’ ফোর্স&lt;br /&gt; ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং রওশন আরা ব্যাটারি।&lt;br /&gt;‘এস’ ফোর্স&lt;br /&gt; ২য় ও ১১তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।&lt;br /&gt;‘কে’ ফোর্স&lt;br /&gt; ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং মুজিব ব্যাটারি।&lt;br /&gt;১নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,১০০  খ. গণবাহিনী: ২০,০০০&lt;br /&gt;২নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ৪,০০০  খ. গণবাহিনী: ৩০,০০০&lt;br /&gt;৩নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ৬,৬৯৩  খ. গণবাহিনী:২৫,০০০&lt;br /&gt;৪নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ৯৭৫ খ. গণবাহিনী: ৯,০০০&lt;br /&gt;৫নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ১,৯৩৬  খ. গণবাহিনী: ৯,০০০&lt;br /&gt;৬নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,৩১০  খ. গণবাহিনী: ১১,০০০&lt;br /&gt;৭নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,৩১০  খ. গণবাহিনী: ১২,৫০০&lt;br /&gt;৮নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ৩,৩১১  খ. গণবাহিনী: ৮,০০০&lt;br /&gt;৯নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ৩,৩১১ খ. গণবাহিনী: ৮,০০০&lt;br /&gt;১০নং সেক্টর&lt;br /&gt; এই সেক্টরের কোনো ভৌগোলিক সীমানা ছিল না। বিভিন্ন নদীবন্দর ও শত্রুপক্ষের  নৌ-যানগুলোতে অভিযান চালানোর জন্য নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে সেক্টরটি গঠিত  হয়েছিল। নৌ-কমান্ডোর সংখ্যা ৫১৫ জন।&lt;br /&gt;১১নং সেক্টর&lt;br /&gt; ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,৩১০ খ. গণবাহিনী: ২৫, ০০০                             &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-3959097237826717?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/3959097237826717/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=3959097237826717' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/3959097237826717'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/3959097237826717'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_9260.html' title='বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল (১৯৭১)'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-1856026081357690328</id><published>2011-03-31T13:54:00.001+06:00</published><updated>2011-03-31T13:54:56.629+06:00</updated><title type='text'>তেলিয়াপাড়া সম্মেলন</title><content type='html'>&lt;h2 class="title mb10"&gt;তেলিয়াপাড়া সম্মেলন&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141532"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141532&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১ এপ্রিল ২ ও ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসাররা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও  সমন্বয় সাধনের জন্য তেলিয়াপাড়া (হবিগঞ্জ) চা-বাগানে উপস্থিত হন। বিকেলে  ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক  ব্রিগেডিয়ার ভিসি পান্ডে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাঙালি অফিসাররা  ব্রিগেডিয়ার পান্ডের কাছ থেকে কর্নেল এম এ জি ওসমানী (অবসরপ্রাপ্ত) এবং ৮  ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত  নেন যে ৪ এপ্রিল কর্নেল ওসমানীসহ ওই এলাকার সব সামরিক অফিসার তেলিয়াপাড়ায়  একত্র হয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করবেন। ব্রিগেডিয়ার পান্ডের  মাধ্যমে আগরতলায় কর্নেল ওসমানীকে আর রামগড়ে ৮ ইস্ট বেঙ্গলকে আলোচনার সংবাদ  জানানো হয়।&lt;br /&gt;৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে সভা শুরু  হয়। এখানে উপস্থিত হন কর্নেল এম এ জি ওসমানী, লে. কর্নেল সালাউদ্দীন মো.  রেজা, লে. কর্নেল আব্দুর রব, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কে এম সফিউল্লাহ,  মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কাজী নুরুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত), মেজর নুরুল  ইসলাম, মেজর সাফাত জামিল, মেজর মাইনুল হোসেন চৌধুরী, ক্যাপ্টেন আব্দুল মতিন  প্রমুখ। এ ছাড়াও বৈঠকে বিএসএফের ব্রিগেডিয়ার ভিসি পান্ডে, আগরতলার  (ত্রিপুরা) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সায়গল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহকুমা প্রশাসক  কাজী রফিকউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।&lt;br /&gt;সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে  আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলাদেশ সরকার গঠন না হলেও বাস্তবতার প্রয়োজনে  সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসারের সদস্য এবং সাধারণ সশস্ত্র জনতাকে নিয়ে  মুক্তিবাহিনী গঠন করা হবে। কর্নেল ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান থাকবেন।  মুক্তিযুদ্ধের সুবিধার্থে বাংলাদেশকে মোট চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে, যার  নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জিয়াউর রহমান (চট্টগ্রাম অঞ্চল), মেজর কে এম  সফিউল্লাহ (সিলেট অঞ্চল), মেজর কে মোশাররফ (কুমিল্লা অঞ্চল) এবং মেজর আবু  ওসমান চৌধুরী (কুষ্টিয়া অঞ্চল)। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে ভারী  অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদের অভাব মেটানোর জন্য তাঁরা অবিলম্বে ভারতের  সাহায্য প্রার্থনা করবেন।&lt;br /&gt;এই সভা ছিল স্বাধীনতাযুদ্ধকালে সামরিক বিষয়সমূহ সমন্বয় সাধনের জন্য প্রথম সভা।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-1856026081357690328?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/1856026081357690328/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=1856026081357690328' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1856026081357690328'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1856026081357690328'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_2275.html' title='তেলিয়াপাড়া সম্মেলন'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-6437771523660428386</id><published>2011-03-31T13:53:00.000+06:00</published><updated>2011-03-31T13:54:03.258+06:00</updated><title type='text'>বহু প্রতীক্ষিত সেক্টর কমান্ডারদের সভা</title><content type='html'>&lt;h2 class="title mb10"&gt;বহু প্রতীক্ষিত সেক্টর কমান্ডারদের সভা&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141529"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141529&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জুন মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে  যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সিদ্ধান্ত হয় যে  প্রশাসনিক ও রণকৌশলের সুবিধার্থে রণাঙ্গনকে কয়েকটি অঞ্চল বা সেক্টরে ভাগ  করা হবে। মন্ত্রিসভা প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়।&lt;br /&gt;প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানী ১১ থেকে ১৫ জুলাই সেক্টর কমান্ডারদের সভা  আহ্বান করেন। সভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ৮, থিয়েটার রোডে। সভায় সেক্টর  কমান্ডার ছাড়াও সদরদপ্তরের স্টাফ অফিসাররা এবং সেক্টরের বেসামরিক বিষয়ক  উপদেষ্টারাও যোগ দেন। শেষ মুহূর্তে সংবাদ পেয়ে তড়িঘড়ি করে হলেও প্রায় সব  সেক্টর কমান্ডার ও বেসামরিক বিষয়ক উপদেষ্টা যথা সময়ে কলকাতায় এসে পৌঁছেন।  তবে ৫ ও ১০ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার এবং ১, ৫ ও ৭ নম্বর সেক্টরের বেসামরিক  বিষয়ক উপদেষ্টারা প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিলেন। সভা শুরুর আগে ২৮-৩০ জুনের  মধ্যে বাংলাদেশ বাহিনীর সদরদপ্তর থেকে বেশ কয়েকটি নীতিনির্ধারণী চিঠি  প্রচারিত হয়। এই চিঠিগুলোই সভার আলোচ্যসূচিতে প্রাধান্য পায়।&lt;br /&gt;সভায় আগত সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে কয়েকজন স্বাধীনতাযুদ্ধকে গতি দান এবং  যুদ্ধে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি যুদ্ধ কাউন্সিল গঠনের  প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে কর্নেল ওসমানীকে দেশরক্ষামন্ত্রী পদে উন্নীত করে  যুদ্ধ কাউন্সিলের প্রধান নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া কাউন্সিলে সাতজন সামরিক  সদস্য প্রস্তাব করা হয়। সেক্টর কমান্ডারদের অধিকাংশ এই প্রস্তাবের পক্ষে মত  পোষণ করেন। মেজর জিয়াউর রহমান এই প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও  মেজর খালেদ মোশাররফ এর বিরোধিতা করেন। কর্নেল ওসমানী যুদ্ধ কাউন্সিলকে তাঁর  একক নেতৃত্বের জন্য হুমকি মনে করে সভার শুরুতেই প্রধান সেনাপতির পদ থেকে  ইস্তফা দেন। ফলে শুরুর দিন প্রধান সেনাপতি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।  দেশরক্ষামন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম দিনে সভাপতিত্ব  করলেও শুরুতেই ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে ওই দিন আলোচনা দীর্ঘায়িত  হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর বড় সময় ব্যয় হয় কর্নেল ওসমানীকে মানিয়ে  পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করাতে। সভার শুরুতে বেশ কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার  উল্লেখ করেন যে ২৮ জুন থেকে প্রচারিত পত্রগুলো তাঁরা পাননি।&lt;br /&gt;সূচনার বিব্রতকর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ১২ তারিখ থেকে সভা যথাযথভাবে শুরু  হয়। সেক্টর কমান্ডাররা সভায় তাঁদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সাফল্য, সমস্যা ও  পরিকল্পনার কথা আলোচনা করেন। একনাগাড়ে পাঁচ দিন সভা চলার পর ১৫ জুলাই সভার  সমাপ্তি ঘটে। ১৫ জুলাই রাতে সেক্টর কমান্ডাররা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ  নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং  আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে শপথ নেন। ১৭  জুলাইয়ের মন্ত্রিসভায় প্রধান সেনাপতি সেক্টর কমান্ডারদের সভার প্রতিবেদন  পেশ করেন। ৬ আগস্ট সভার কার্যবিবরণী প্রচার করা হয়, তবে সভায় গৃহীত অনেক  সিদ্ধান্তই বিশেষ করে সেক্টর সীমানা, গণবাহিনীর সংগঠন ও অস্ত্রশস্ত্র,   গেরিলাযুদ্ধের রণকৌশল ইত্যাদি কার্যবিবরণী প্রকাশের আগেই জুলাই মাসের মধ্যে  পৃথক পত্র দ্বারা প্রচারিত হয়।&lt;br /&gt;যুদ্ধকালে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের একমাত্র সামরিক সভা, পরবর্তী সময়ে সেক্টর  কমান্ডারদের সভা অনুষ্ঠিত হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১১ জানুয়ারি ১৯৭২,  ঢাকায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সূত্র: লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, রফিকুল ইসলাম&lt;br /&gt;বীর উত্তম, (২০০৬)।&lt;br /&gt;মূলধারা’ ৭১, মঈদুল হাসান, (২০০৮)।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-6437771523660428386?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/6437771523660428386/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=6437771523660428386' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6437771523660428386'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6437771523660428386'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post_31.html' title='বহু প্রতীক্ষিত সেক্টর কমান্ডারদের সভা'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-4707015463190800671</id><published>2011-03-31T13:49:00.002+06:00</published><updated>2011-03-31T13:53:03.869+06:00</updated><title type='text'>প্রথম সরকারি নির্দেশ (১৯৭১)</title><content type='html'>&lt;h2 class="title mb10"&gt;প্রথম সরকারি নির্দেশ&lt;/h2&gt;&lt;span style="font-style: italic;font-size:85%;" &gt;সূত্র: &lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141527"&gt;http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141527&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="cb oH"&gt;                     &lt;/div&gt;                     &lt;div class="alternativeCol justify cb oH mb10"&gt;               প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম সরকারি  নির্দেশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এতে দেশবাসীর প্রতি  প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ছিল:&lt;br /&gt;১. কোন বাঙ্গালী কর্মচারী শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন না। ছোট বড়  প্রতিটি কর্মচারী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করবেন।  শত্রু কবলিত এলাকায় তারা জনপ্রতিনিধিদের এবং অবস্থা বিশেষে নিজেদের  বিচার-বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করবেন।&lt;br /&gt;২. সরকারী, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যে-সমস্ত কর্মচারী অন্যত্র গিয়ে  আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা স্ব স্ব পদে বহাল থাকবেন এবং নিজ নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী  বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করবেন।&lt;br /&gt;৩. সকল সামরিক, আধা সামরিক লোক কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অবিলম্বে নিকটতম  মুক্তিসেনা শিবিরে যোগ দেবেন। কোন অবস্থাতেই শত্রুর হাতে পড়বেন না বা  শত্রুর সাথে সহযোগিতা করবেন না।&lt;br /&gt;৪. যে কেউ শত্রুপক্ষকে খাজনা-ট্যাক্স দেবে, অথবা এ ব্যাপারে সাহায্য করবে,  বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনী তাদেরকে জাতীয় দুশমন বলে চিহ্নিত করবে এবং  তাদের দেশদ্রোহের দায়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে।&lt;br /&gt;৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে নৌ-চলাচল সংস্থার কর্মচারীরা কোন অবস্থাতেই  শত্রুর সাথে সহযোগিতা করবেন না। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তাঁরা যানবাহনাদি নিয়ে  শত্রুকবলিত এলাকার বাইরে চলে যাবেন।&lt;br /&gt;৬. কালোবাজারী, মুনাফাখোরী, মজুদদারী, চুরি, ডাকাতি বন্ধ করতে হবে; এদের প্রতি কঠোর নজর রাখতে হবে।&lt;br /&gt;৭. গ্রামে গ্রামে রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিবাহিনীর নিকটতম শিক্ষাশিবিরে রক্ষীবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠাতে হবে।&lt;br /&gt;৮. শত্রুপক্ষের গতিবিধির সমস্ত খবরাখবর অবিলম্বে মুক্তিবাহিনীর কেন্দ্রে জানাতে হবে।&lt;br /&gt;৯. স্বাধীন বাংলা মুক্তিবাহিনীর যাতায়াত ও যুদ্ধের জন্য চাওয়া মাত্র সমস্ত  যানবাহন (সরকারী/বেসরকারী) মুক্তিবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করতে হবে।&lt;br /&gt;১০. বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী অথবা বাংলাদেশ সরকার ছাড়া অন্য কারো কাছে পেট্রল, ডিজেল, মবিল ইত্যাদি বিক্রি করা চলবে না।&lt;br /&gt;১১. কোন ব্যক্তি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অথবা তাদের এজেন্টদের কোন প্রকারের  সুযোগ-সুবিধার সংবাদ সরবরাহ অথবা পথনির্দেশ করবেন না। যে করবে, তাকে  আমাদের দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত শাস্তির  ব্যবস্থা করতে হবে।&lt;br /&gt;১২. শত্রুবাহিনীর ধরা পড়া সমস্ত সৈন্যকে মুক্তিবাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এবং সাপ্তাহিক জয় বাংলা, ১১ই মে ’৭১ সংখ্যায় মুদ্রিত।’                             &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-4707015463190800671?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/4707015463190800671/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=4707015463190800671' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4707015463190800671'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4707015463190800671'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2011/03/blog-post.html' title='প্রথম সরকারি নির্দেশ (১৯৭১)'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-4781127315255084899</id><published>2009-10-27T00:16:00.003+07:00</published><updated>2009-10-27T00:23:56.156+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='আবু তাহের'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সেনাবাহিনী'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কর্নেল তাহের'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='রাজনীতি'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মুক্তিযুদ্ধ'/><title type='text'>সামরিক আদালতে প্রদত্ত তাহেরের জবানবন্দি</title><content type='html'>&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);font-size:130%;" &gt;সামরিক আদালতে প্রদত্ত তাহেরের জবানবন্দি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;সূত্র: &lt;/span&gt;&lt;a style="font-style: italic;" href="http://www.col-taher.com/statment.html"&gt;http://www.col-taher.com/statment.html&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনাব চেয়ারম্যান ও ট্রাইব্যুনালের সদস্যবৃন্দ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আপনাদের সামনে দন্ডায়মান এই মানুষটি, যে মানুষটি আদালতে অভিযুক্ত- সেই একই মানুষ এ দেশের মুক্তি ও স্বাধিনতা ছিনিয়ে আনার জন্য রক্ত দিয়েছিল, শরীরের ঘাম ঝরিয়েছিল। এমনকি নিজের কীবন পর্যন্ত পণ করেছিল। এটা আজ ইতিহাসের অধ্যায়। একদিন সেই মানুষটির কর্মকান্ড আর কীর্তির মূল্যায়ন ইতিহাস অতি অবশ্যই করবে। আমার সকল কর্মে, সমস্ত চিন্তায় আর স্বপ্নে এই দেশের কথা যেভাবে অনুভব করেছি তা এখন বোঝানো সম্ভব নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। এই দেশের সঙ্গে আমি রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। আর এরা কিভাবে অস্বীকার করে এই দেশের অস্তিত্বে আমি মিশে নেই। যে সরকারকে আমিই ক্ষমতায় বসিয়েছি, যে ব্যক্তিটিকে আমিই নতুন জীবন দান করেছি, তারাই আজ এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আমার সামনে এসে হাজির হয়েছে। এদের ধৃষ্টাতা এতোবড়ো যে তারা রাষ্ট্রোহিতার  মতো আরো অনেক বানানো অভিযোগ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা করেছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবই বিদ্বেষপ্রসূত, ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক, সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি সম্পূর্ণ নিরপরাধ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডকৃত দলিলপত্রে দেখা যায় যে উনিশ শ' পঁচাত্তর-এর ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আমার নেতৃত্বে সিপাহি অভ্যুত্থান হয়। সেদিন এভাবেই একদল বিভ্রান্তকারীর ঘৃন্য ষড়যন্ত্র নির্মূল করা হয়। মেজর জেনারেল জিয়উর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান আর দেশের সার্বভৌমত্বও থাকে অটুট। এই যদি হয় দেশদ্রোহীতার অর্থ তাহলে হ্যাঁ, আমি দোষী। আমার দোষ আমি দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছি। এদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছি। সেনাবাহিনী প্রধানকে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেছি। সর্বোপরি বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছি। সেই দোষে আমি দোষী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর জন্য সেই ছিয়াত্তরের একুশে জুন থেকে আমাকে এভাবে ভয় দেখানো ও কষ্ট দেয়ার কোন দরকার ছিল না। পঁচাত্তরের সাতই নভেম্বর বিচারপতি সায়েমের যে সরকারকে আমরা ক্ষমতায় বসিয়েছি তারা এসব ভালভাবেই জানে। কতগুলো নীতির প্রশ্নে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম। সব রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করতে দেয়ার কথা ছিল, আর একটা সরকার গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। আমার দেশবাসী এর সবই জানে। তারা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে রেখেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাকে এভাবে জেলের মধ্যে এমন এক নিম্ন আদালতের সামনে বিচার করার জন্য হাজির করা হয়েছে। এটা দেশ ও জাতির জন্য চরম অপমানজনক। আপনাদের কোন অধিকার নেই আমার বিচার করবার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগগুলো খন্ডন করার আগে আপনািদের সামনে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই, যা এখানে উল্লেখ  করা হবে খুবই প্রাসঙ্গিক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পঁচিশ মার্চের সেই কালোরাত্রির কথা আমার মনে পড়ছে। পাকিস্তানি সেনারা বর্বর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আমাদের দেশবাসীর ওপর। সেদিন চাপিয়ে দেয়া এক যুদ্ধে জয়ী হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় ছিল না। হেরে গেলে আমাদের ওপর চেপে বসতো এক জঘন্যতম দাসত্ব। পাকিস্তানি  সামরিক জান্তা তাদের পত্রপত্রিকায় তো প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাঙালির উচ্চশিক্ষার যোগ্য নয়। তাদের দৌড় থাকবে মাদ্রাসা পর্যন্তই। বাঙালিরা এমনকি দেশপ্রেমিকও নয়, তাদের সংস্কৃতি নীচু মানের। এদেরকে শুধুমাত্র উর্দু ভাষাতেই কথা বলতে বাধ্য করা উচিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যখন থেকে আমার দেশের মানুষের অবস্থা সম্বন্ধে ভলভাবে বুঝতে শুরু করি, তখন থেকেই আমি পাকিস্তানের ধারণাটার সঙ্গেই কখনো একমত হতে পারিনি। জাতীয় আশা-আকাংক্ষার বাস্তবায়ন করতে বাঙালিরা নিজেদের জন্য একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে পারে না- এ ধারণাটাই আমি কখনো মেনে নিতে পারি নি। তখন থেকেই আমি সবসময় চেয়েছি আমার দেশের জনগণের মুক্তি ও বাঙালি জনসাধারণের জন্য একটা ন্যায় ভিত্তিক আবাসভুমি। আমি জানি না, পাকিস্তানি সেনবাহিনীতে আমার মতো আর কতজন বাঙালি অফিসার এভাবে একটা স্বাধীন বাংাদেশের কথা চিন্তা করেছিলেন। নিজের বেলায় এতটুকু বলতে পারি.স্বাধীনতার এই স্বপ্ন এক ধ্রুবতারার মতো আমার সব কাজে পথ দেখিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার এখনও মনে পড়ে পাকিস্তানিরা আমাদের কি পরিমাণ ঘৃণা করতো। তাদের অবজ্ঞা ও উপহাস ছিল অসহ্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে আমাদের শেখানো হতো বাঙালিরা হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকের জাতি। তাদের জণ্ম হয়েছে গোলামী করার জন্য। বাঙালিদের 'পাਆা মুসলমান' ও দেশপ্রেমিক নাগরিক বানানো পাকিস্তানিদের পবিত্র দায়িত্ব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা যারা পচিশ্ম পাকিস্তানে ছিলাম তাদের জন্য সেই দিনগুলো ছিল চরম পরীক্ষার মতো। সেদিন আমি দেশ ও জাতির ডাকে সাড়া দিতে দ্বিধা করি নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল হেড কোয়ার্টার থেকে যখন নির্দেশ গেল- 'সবকিছু পুড়িয়ে দাও, যাকে সামনে পাও তাকেই মেরে ফেল'; তখন পচিশ্ম পাকিস্তানে অবস্থানরত কারুরই আর জানতে বাকি ছিল না সামরিক জান্তার বর্বর চক্রান্ত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করি নি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জানেন আমি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পেছনের সারির অফিসার ছিলাম না। আমি ঐতিহ্যবাহী বালুচ রেজিমেণ্টে কমিশন পাই, পরে পাকবাহিনীর অভিজাত প্যারা কম্যান্ডো গ্রুপ 'স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ'-এ আমি যোগ দেই। দীর্ঘ ছয় বছর আমি সেই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। একজন সৈনিক ও অফিসার হিসাবে সামনাসামনি শত্রুকে মোকাবেলা করতে আমি কখনো ভয় পাইনি। পাক-ভারত যুদ্ধে আমি কাশ্মীর ও শিয়ালকোট সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নেই। সেই যুদ্ধের ক্ষত চিহ্ন এখনো আমার শরীরে বর্তমান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাঙালি অফিসারদের মধ্যে একমাত্র আমিই 'মেরুন প্যারাসুট উইং' পাই। আমি একসঙ্গে একশত পঁয়ত্রিশটি স্ট্যাটিক লাইন জাম্প করার কৃতিত্বের অধিকারী। আমার কৃতত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। জর্জিয়া প্রদেশের ফোর্ট বেনিং.এ অবস্িথত রেঞ্জার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আমাকে রেঞ্জার পুরস্কার ভূষিত করে। আমি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্যাগ.এ অবস্িথত স্পেশাল ফোর্সেস অফিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে সমম্ানসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করি। উল্লেখ্য, তখনো পর্যন্ত আর কোন বাঙালি অফিসার এই কৃতিত্ব অর্জনে সক্ষম হননি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন সামরিক জান্তার বর্বরতম ফ্যাসিস্ট আক্রমণের দিনগুলো ফিরে আসা যাক। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলাম। দেশে ফিরে দেখি নির্বাচন হয়ে গেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জিতেছে। দেশে ফিরে অনেকের সঙ্গে আলাপ করার পর আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া হবে না। সামরিক জান্তা আর তার দোসর জুলফিকার আলী ভুট্টো, এই লোকটা পাকিস্তানি রাজনীতির অধ্যায়ে একটা জ্বলন্ত অভিশাপ, এরা কোনদিনই রাষ্ট্রক্ষমতার আইনানুগ দাবীদার আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাদের দৃঢ় সংকল্প ছিল যে তারা কখনো পাকিস্তানে কোন বাঙালিকে ক্ষমতাসীন হতে দেবে না, শেখ মুজিবকে তারা কোনভাবেই মেনে নিতে বা সহ্য করতে পারছিল না। আমি অঘটনের আভাষ পেলাম। তাই আমার স্ত্রী ও পরিবারকে ময়মনসিংহে আমার গ্রামের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই। সময়টা ছিল ফেব্রুয়ারি মাস। শীতের প্রকোপ তখনো যায়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি জানতাম বাঙালিরা কোন অন্যায়কেই বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবে না, তারা প্রতিরোধ করবেই। আমার মনে হচ্ছিলো দেশের মানুষকে স্বাধীন করার দিন এগিয়ে আসছে। জানি না কয়জন এভাবে ভাবতেন। যতই দিন যাচ্ছিলো, আমাদের মনমানসিকতারও দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছিলো। আস্তে আস্তে আমরা অনিবার্য ঘটনাবলীর জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পঁচিশে মার্চ আমি কোয়েটায় স্কুল অফ ইনফ্যাণ্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এ উচ্চতর কারিগরী প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলাম। সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জানতে পারলাম সেদিন রাতে বাংলাদেশে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারা রাত আমি কোয়েটার খালি রাস্তায় হেঁটে বেড়ালাম। কি হচ্ছে তা আঁচ করবার চেষ্ট করছিলাম। সেই রাতে আমার জাতির ওপর কি সীমাহীন দুর্যোগ নেমে এসেছিল তা আমি এখনো কল্পনা করতে পারি না। বাংলাদেশের বুকে যেন এক নারকীয় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরদিন ২৬শে মার্চ ভোরেই রেডিওতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানেরে ভাষণ শুনলাম। সে এক ভয়ংকর মুহূর্ত। এক নতুন দেশের জণ্মযন্ত্রণা যেন আমি অনুভব করছিলাম। বাংলাদেশে তাদের কর্মকান্ডের জন্য পাক হানাদার বাহিনীর প্রতি আমার বিদ্বেষ কোন গোপনীয় ব্যাপার ছিল না। তাই অচিরেই আমি উপরওয়ালাদের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ালাম। হঠাৎ করে আঠাশে মার্চ স্কুল অফ ইনফ্যাণ্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কোর্স বন্ধ করে দেয়া হলো, আমাদের সবাইকে যার যার ইউনিটে যোগ দিতে আদেশ দেয়া হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সে সময় অনেক বাঙালি জুনিয়র অফিসার আমার কাছে এসে পরামর্শ চায়। আমি তাদের স্পষ্টভাষায় বলে দেই মাতৃভূমির প্রতিই হচ্ছে তাদের একমাত্র কর্তব্য। তাদের একমাত্র চিন্তা হবে পচিশ্ম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যেয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়া। এরা আমাকে আরো জানায় যে তারা কোয়েটায় অবস্থানরত অন্য আরো সিনিয়র অফিসারদের কাছে গেয়ে তারা এদের উপদেশ দেয়া তো দূরের কথা সৌজন্য করে আপ্যায়ন কিংবা কথাটা পর্যন্ত  বলে নি; শেষে আবার পাকিস্তানি প্রভুরা তাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ করে। আমার মনোভাব জানার পরে এ সমস্ত সিনিয়র অফিসাররা আমাকে শুধু এড়িয়েই চলে নি, এমনকি কথা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজকে সেই একই অফিসারদের অনেকেই এদেশের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে বেশ উচ্চপদে রয়েছেন। আর তাদের কয়েকজন আবার আমার বিচার করার জন্য এখানে উপস্িথত রয়েছেন। পঁচিশে মার্চের আগে এই অফিসাররা শেখ মুজিবের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সম্পর্কের কথা জাহির করতে বেশ উৎসাহ পেতেন, পঁচিশে মার্চের পর এরাই আবার তাঁকে দশদ্রোহী বলে আখ্যা দেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(ভাষণের এই পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাহেরকে বাধা দেন। এখানে এই ধরনের কথা বলা যাবে না বলে তাঁকে জানানো হয়। কোর্টের মধ্যে প্রচন্ড বাকিবিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। তাহের চেয়ারম্যান কর্নেল ইউসুফ হায়দারকে বলেন-'আমার বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিলে আমি বরং চুপ থাকাটাই ভালো মনে করব। এমন নিম্ন মানের ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি। নিজের ওপরই ঘৃণা লাগে।' আরো বাকবিতন্ডার পরে তাহেরের আইনজীবিদের হস্তক্ষেপের ফলে শেষে তাহেরকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেয়া হয়।)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরে আমি জেনে খুব খুশী হই যে যাদের আমি পালিয়ে আসতে উৎসাহ দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে সেকেন্ড লেফটেন্যাণ্ট নূর ও সেকেন্ডে লেফটেন্যাণ্ট এনাম পালিয়ে যেতে পেরেছে ও স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। কয়দিন পরই পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করার অভিযোগে আমাকে কোয়েটায় নজরবন্দি করা হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্কুল অফ ইনফ্যাণ্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এর কমান্ডাণ্ট বি. এম. মোস্তফার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন পর তাঁর হস্তক্ষেপে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তুলে নেয়া হয়। খারিয়া সেনানিবাসে একটা মাঝারি রেজিমেণ্টের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করা হয়। আমাকে আমার আগের কমান্ডে ইউনিটে ফিরে যেতে দেয়া হয়নি। এই ইউনিটকে ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল আমার ভাইদের হত্যা করার জন্য। এরাই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খারিয়া সেনানিবাসে আমি ক্যাটেপ্ন পাটোয়ারী ও ক্যাটেপ্ন দেলোয়ারকে আমার সঙ্গে পালিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করি। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মীরপুর শহরে কর্মরত এক বাঙালি প্রকৌশলীর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার আর সীমান্ত পর্যন্ত যাবার ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে মীরপুর পৌঁছে দেখি, অবাক কান্ড, ইঞ্জিনীয়ার সাহেব বাসায় তালা মেরে পরিজন সহ সটকে পড়েছেন। এই প্রথম দেখলাম বাঙালি অভিজাত শ্রেণীর দেশপ্রেমের নমুনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিকেলটা আমরা তার লনে বসেই কাটিয়ে দিলাম। রাত নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পাহাড়ি পথে রওয়ানা দিলাম। আমার দুই সহযাত্রী ক্যাটেপ্ন পাটোয়ারী ও ক্যাটেপ্ন দেলোয়ারের পাহাড়ি পথে হেটে অভ্যাস নেই। কয়েক ঘণ্টা পর তারা আর এগোতে পারলো না। আমাদের আবার ফিরে আসতে হলো খারিয়াতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন পচিশ্ম পাকিস্তানে প্রায় এক হাজার বাঙালি অফিসার ছিলেন। তাদের অনেককেই বললাম পালিয়ে যেয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে। বোঝাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু আসলে এদের দেশপ্রেম ড্রইং রুমের তর্কবিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর বেশী না। পরে যখন আমি এবোটাবাদে বালুচ রেজিমেণ্টাল সেণ্টারে বদলি হয়ে যাই সেখানেও আমি বাঙালি অফিসারদের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৌভাগ্যবশত এদের মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেড কোয়ার্টার্সে কর্মরত মেজর জিয়াউদ্দিন আমার সঙ্গে পালাতে রাজী হয়ে যান। আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে দেরী হলো না। আমার যা সঞ্চয় হল তার দিয়ে একটা পুরানো গাড়ী কিনলাম। গাড়ী দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে। পিন্ডি থেকে আমরা দু'জন রওয়ানা দিলাম। পথে ঝিলাম কেণ্টনমেণ্ট থেকে ক্যাটেপ্ন পাটোয়ারীকে সঙ্গে নিলাম। দিনের আলো তখনো কিছু বাকী ছিল। তাই শিয়ালকোট ক্যাণ্টনমেণ্টে মেজর মঞ্জুরের বাসায় উঠলাম। আমার পরিকল্পনা শুনে মঞ্জুর চুপ হয়ে গেলেন। তার মধ্যে কোন উৎসাহ দেখলাম না। কিন্তু তার স্ত্রী জেদ ধরলে বাঙালি ব্যাটম্যানসহ মেজর মঞ্জুর সপরিবারে আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। সন্ধ্যার পর গাড়ী করে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছলাম। তারপর গাড়ী ফেলে রেখে হাঁটতে হাঁটতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আমরা ভারতে পৌঁছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম এই ভেবে যে এবারে সব শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি ঘটবে। কিন্তু যুদ্ধের পর দেশের কি দশা হলো? যে যুদ্ধের বেশীর ভাগই হয়েছিল স্বদেশের মাটির বাইরে, সে যুদ্ধ আমাদের জনগণকে কি সুফল উপহার দিতে পারে। নিরস্ত্র, শান্তিপ্রিয়, ভীত সন্ত্রস্ত্র মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল আশ্রয় আর খাবারের খোঁজে। বেঁচে যাওয়া সৈন্যদের মধ্যে বেশীরভাগই তাই- করেছিল। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য নেতৃত্বদানকারী গণসংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ছিল ঐ একই উদ্দেশ্যে। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট লাভকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ছিল এক বিরাট দায়িত্ব ও কর্তব্য। দুর্ভাগ্যবশত সম্পূর্ণ অস্ত্র বলহীন একটি নিরস্ত্র জাতির ভবিষ্যত নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনরকম চিন্তাই করেনি। সম্ভাব্য ভয়াবহতা মোকাবেলা করার জন্য আগে থেকে তারা জনগণকে কোনভাবেই প্রস্‘ত করেনি। একটা আধুনিক সেনাবাহিনীর সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে বেসামরিক জনসাধারণের সংঘাতে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে একটা চরম বোকামী। আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটেছিল, আর সে জন্য আমাদের মূল্যও দিতে হয়েছে চড়াভাবে। দেশের অজস্র মানুষের ভাগ্যের কথা চিন্তা করে আওয়ামী নেতৃত্ব যদি আন্তরিক ও সাহসী ভূমিকা নিত তাহলে ঘটনা প্রবাহ অন্যরকম হতে পারতো। কিন্তু তা হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের সৈন্যদের ক্ষেত্রেও ঐ একই কথা খাটে। অত্যাসন্ন জাতীয় যুদ্ধ সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। পরিনামে বিশ্বের এক অন্যতম প্রধান আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও সুশিক্ষিত নিয়মিত সেনবাহিনীর বিরুদ্ধে কিভাবে অনিয়মিত বাহিনীর মাধ্যমে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করা যাবে তার কোন পরিকল্পনাই ছিল না। ভারত খুব খুশী মনেই আমাদের শিশুদের, সাধারণ মানুষকে আর সেনাদের প্রতি খাবার আর আশ্রয়ের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত ছিল। কারণ ভারত জানতো এতে করে আন্তজার্তিক রাজনীতি আর কূটনীতির অঙ্গনে তাদের সমম্ান ও ভাবমূর্তি বেড়ে যাবে। আর উপমহাদেশে তার আধিপত্য বিস্তারের নীতি ও আরও সুদৃঢ় হবে। আসলে বাংলাদেশের ঘটনায় ভৌগলিক, রাজনৈতিক, অর্থ ও সম্পদের দিক থেকে সবচাইতে বেশী লাভবান হয়েছিল ভারত। যুদ্ধের ব্যাপারে এতটুকু বলতে পারি- আমাদের অফিসার ও সৈনিকরা মূলত ভারতীয়দের ইচ্ছামাফিক তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি যখন যুদ্ধে যোগ দেই তখন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক কর্নেল ওসমানী আমাকে বিভিন্ন সেক্টর পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের খুঁতগুলো চিহ্নিত করে আরও সুষ্ঠভাবে যুদ্ধ পরিচালনার উপায় খুঁজে বের করা। প্রথমেই আমি এগারো নং সেক্টরে যাই। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে বিস্তৃত এই সেক্টরের সীমানা। বর্তমানে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এই এলাকায় প্রচলিত সামরিক কায়দায় একটা ব্রিগেড গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তখন এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীয় সেনবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সন্ত সিং।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি দেখে অবাক হয়ে গেলাম, এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এজন ভারতীয় অফিসারকে। রণকৌশলগত দিক দিয়ে ঢাকা আক্রমণ করার জন্য এই সেক্টরের গুরিুত্ব অপরিসীম। আমি ঘুরে ঘুরে সেক্টরের পর সেক্টর পরিদর্শন করতে থাকলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আমি মিশে গেলাম; তাদের সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলাপ করলাম। আমার কাছে এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে যাদের ওপর আমাদের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল তাদের কেউই সেই দায়িত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি। সোজা কথায় তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের জাতীয় যুদ্ধ হয়ে উঠেছিল প্রায় হেরে যাওয়া একটা ব্যাপার। অথচ আমরা যুদ্ধ করছিলাম একটা অত্যন্ত সৃশৃঙ্খল নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে। আমাদের শত্রুরা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সুশিক্ষিত। তারা কঠোরভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত। অন্যদিকে আমাদের এমন কোন সুসংহত নেতৃত্বই ছিল না যা এই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হতাশাগ্রস্থ সৈন্যদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। আমাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সুযোগ সুবিধা কিংবা অস্ত্রশস্ত্রের কিছুই ছিল না। অথচ আমাদের নেতৃত্ব তখন বিদেশের মাটিতে একটি প্রচলিত ধরনের সেনাবাহিনী গঠনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন। আমাদের ছেলেদের কখনও সাহস কিংবা দেশপ্রেমের অভাব ছিল না। কিন্তু তারা ছিল অসংগঠিত, বিভিন্ন দলে বিভক্ত স্বাধীনতা পাগল দামাল ছেলে; যারা কখনও পাক বাহিনীর সামরিক আক্রমণের কথা চিন্তাও করেনি। অসতর্কাবস্থায় এরা তাই পাকিস্তানিদের জঘন্য গণহত্যার শিকার হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের যুদ্ধকৌশলের দুর্বলতাগুলো খুব সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। প্রথমত আমরা সমস্ত জাতি এক যুদ্ধে জড়িত হয়ে পড়েছিলাম। অথচ আমাদের সামনে কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া গেরিলা যুদ্ধ কখনো বিকাশ পেতে পারে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এই সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের রাজনৈতিক দিক-নর্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দ্বিতীয়ত গেরিলা যুদ্ধের তাত্ত্বিক কাঠামো সম্বন্ধে নেতৃত্বের কোন ধারণাই ছিল না। কর্নেল ওসমানী, মেজর জিয়া, মেজর খালেদ ও মেজর শফিউল্লাহর মতো অন্যান্য যারা নিয়মিত সামরিক কাঠামোর লোক তাঁদের মধ্যে এমন লোক খুব কমই চিলেন যারা গেরিলা যুদ্ধ কিভাবে সংগঠন করতে হয় সে সম্বন্ধে কোন ধারণা রাখতেন। গেরিলা যুদ্ধের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা ছিল এসব অফিসার আর তাদের প্রচলিত কায়দার সামরিক চিন্তাভাবনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তৃতীয়ত স্বাধীনতা যুদ্ধের সামরিক নেতাদের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল। আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্য ও অফিসারদের কতগুলো নিয়মিত ব্রিগেডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। সাধারণভাবে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা তাই প্রয়োজনীয় সামরিক নেতৃত্ব ও কলাকৌশল অর্জন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এর আসল কারণ হচ্ছে মুক্তিবাহিনীর নেতাদের মুক্তি সংগ্রাম সম্বন্ধে ধারনার অভাব। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল কিভাবে একটা নিয়মিত বাহিনী গড়ে তুলে নিজেদের ক্ষমতার আসন পাকাপোক্ত করা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন বলা হচ্ছিল যথা সময়ে বিশ ডিভিশন সৈন্যের এক বাহিনী গড়ে তোলা হবে। আর ঠিক এভাবেই তখন বিকাশমান একটি জাতীয় গণযুদ্ধের স্বাভাবিক বিকাশের গতি রুদ্ধ করা হচ্ছিল। দেশের ভেতর মুক্তিসেনারা বীরের মতো যুদ্ধ করে যাচ্ছিল, কিন্তু তাদের অনুপ্রেরণা দেয়ার মতো কেউই ছিল না। বাইরে থেকে বাধা না আসলে হয়তো দেশের ভিতরেই স্বাভাবিকভাবে যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারত। আগরতলা আর মেঘালয়ে মেজর খালেদ মোশাররফ আর জিয়ার নেতৃত্বে যে দুই ব্রিগেড সুশিক্ষিত সৈন্য গড়ে উঠেছিল তাদের যদি মুক্তিযুদ্ধে সঠিকভাবে নিয়োজিত করা হতো তাহলে সাত.আট মাসের মধ্যেই দেশের মাটিতে ক্ষেতমজুর-কৃষকদের নিয়ে বিশ ডিভিশনের এক বিশাল গেরিলা বাহিনী প্রস্তুত হয়ে যেত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার কথা শুনে কর্নেল ওসমানী যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছিলেন। তখন তাঁর কাজকর্ম খুব সহজই ছিল। ঘুমানো জন্য তাঁর একটা নিচিশ্ত আশ্রয় ছিল। আর ঘুরে ঘুরে সেক্টর সদরগুলো দেখার জন্য তাঁর হাতে থাকতো অনেক সময়। আসলে এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের নামে এক প্রহসন। নেতৃত্ব ছিল পাগলামীর নামান্তর। একটা গেরিলা যুদ্ধ আর একটা নিয়মিত যুদ্ধের মধ্যে আসলে অনেক তফাৎ। কিন্তু কর্নেল ওসমানী কখনোই তা বুঝতে চাননি। গেরিলা যুদ্ধের প্রথম দিকেই একটা নিয়মিত বাহিনী গঠনের চিন্তা করা একদম ঠিক নয়। ঠিক সময় এলে একটা গেরিলা বাহিনী নিজেই নিয়মিত বাহিনীতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এগারো নং সেক্টরের কৌশলগত গুরুত্ব দেখে সেখানেই থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নেই। বিভিন্ন সেক্টর ঘুরে বেড়ানোতে শুধু সময়ের অপচয় হতো মাত্র। ওসমানী অসন্তুষ্ট মনেই আমাকে সেক্টর প্রধান নিয়োগ করলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(এতটুকু বলার পর তাহেরক আবার বাধা দেয়া হয়। আবারো বাক-বতন্ডা শুরু হয়। তাহেরকে তাড়াতাড়ি শেষ করতে বলা হয়। কর্নেল তাহের তখন বলেন- এভাবে আমাকে বাধা দিতে থাকলে জবানবন্দি বলে যাওয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমার জীবনে অনেক নীচু লোকই চোখে পড়েছে, কিন্তু আপনার মতো নীচ মনের লোক আমি একজনও দেখিনি।)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চতুর্থত বাংলাদেশের মাটিতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে কাদের সিদ্দিকী, মেজর আফসার, খলিল, বাতেন ও মারফতের মতো এরা অনেক খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর এক বিশাল দল গড়ে উঠেছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধরত শক্তিগুলোর এটাই ছিল স্বাভাবিক বিকাশ। দুর্ভাগ্যবশত কর্নেল ওসমানীর নিয়মিত সামরিক কমান্ড ও প্রবাসী সরকার এই স্বাভাবিক  শক্তির বিকাশকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। তার ফলে নিয়মিত বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পঞ্চমত ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অশুভ প্রভাবে মুক্তিবাহিনীর কিছু সংখ্যক ছেলের মাথায় ব্যক্তিগত লোভ-লালসার চিন্তা ঢুকে যায়। এদের আদর্শগত ভিত্তি ছিল নিতান্তই দুর্বল। এরাই অনেক লুট-পাটের ঘটনার নায়ক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসব সমস্যা সমাধানের পথ ছিল একটাই। তা হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তাঞ্চলে প্রবাসী সরকারকে নিয়ে আসা। আমি সামরিক নেতৃত্বকে বোঝাতে চেষ্টা করি যেন ভারতীয় এলাকা থেকে সরে এসে বাংলাদেশের ভেতরে কোথাও সদর দপ্তর স্থানান্তর করা হয়। মেজর জিয়া আমার সঙ্গে একমত হলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সব কমান্ড সীমান্তের এপারেই স্থানান্তর করা উচিত। আমাদের ইচ্ছা ছিল সব সেক্টরে সমন্বিতভাবে একটা নির্ধারিত সময়ে এই কাজ হোক। তাই সেক্টর কমান্ডারদের একটা সভা ডাকা হলো। কর্নেল ওসমানী সহ মেজর খালেদ মোশাররফ আর মেজর শফিউল্লাহ আমার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেন। বাংলাদেশের মাটিতে সেক্টর সদর দপ্তর স্থানান্তর করা থেকে আমাদের বিরত করা হলো। শুধু তাই না, মেজর জিয়ার ব্রিগেডকে আমর সেক্টর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার সঙ্গে থেকে যান ফ্লাইট লেফটেন্যাণ্ট হামিদুল্লাহ নামে এজন বিমান বাহিনীর অফিসার ও যুদ্ধাহত অফিসার সেকেন্ড লেফটেন্যাণ্ট মান্নান। যাতায়াতের জন্য আমাকে শুধুমাত্র একটা জিপ দেয়া হয়েছিল। আমাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ব্রিগেডিয়ার সিং ভাবলেন তিনি তাঁর ইচ্ছামতো আমাদের চালাতে পারবেন। ব্রিগেডিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় চল্লিশ মাইল দূরে 'তুরা' নামে এক জায়গায় আমার সেক্টরের সদর দপ্তর স্থাপন করার পরামর্শ দিলেন। উল্লেখ্য, আমাদের প্রায় সব সেক্টর সদরই ছিল ভারতের অনেক ভেতরে। আমাদের প্রায় সব সেক্টর অধিনায়কই তাদের তাবুতে কার্পেট ব্যবহার করতেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি ব্রিগেডিয়ার সিং-এর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম। কামালপুর শত্রু-ঘাটির আটশ' গজ দূরে অবস্িথত হলো এগারো নং সেক্টরের সদর দপ্তর। আমি ভালোভাবেই জানতাম আমাকে সেই পথের ওপর জোর দিতে হবে যা আমাদেরকে এনে দেবে চূড়ান্ত বিজয়। আর এই পথ হবে কামালপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে শেষে ঢাকা। কামালপুরই ছিল ঢাকার প্রবেশদ্বার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি এখন সুবেদার আফতাব নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি স্মরণে কিছু বলতে চাই। সে ছিল সুঃসাহসী এক নিবেদিত প্রাণ যোদ্ধা। সে কখনো দেশের মাটি ত্যাগ করে নি। কিছু সংখ্যক যুবককে নিয়ে সে বীরত্বের সঙ্গে পাক দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলো; মওকা পেলেই সে তাদেরকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়তো। এগারো নং সেক্টরে আসার পর আমি শুনতে পেলাম সুবেদার আফতাব এক বিদ্রোহী। সে কারো আদেশ-নির্দেশের তোয়াਆা করে না। রৌমারি থানার কোদালকাঠি নামে এক জায়গায় সে অবস্থান করছিলো। বারবার নির্দেশ পাওয়া সত্ত্বেও সে কখনোই মেজর জিয়া বা ব্রিগেডিয়ার সিং-র সঙ্গে দেখা করে নি। আমি আফতাব সম্বন্ধে যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে পড়লাম। আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আঠারো মাইল হেঁটে আমি কোদালকাঠি পৌঁছাই। সে দারুণ অবাক হয়ে গিয়েছিল। দেশের ভূখন্ডে খোদ একজন অফিসারকে দেখবে তা সে কখনো আশাই করেনি। যুদ্ধ কৌশল নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে দেখি আমাদের মত অভিন্ন। তারপর থেকেই আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে যাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান আবারো বাধা দিলেন। তাহের তখন বলেন- এই কথাগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। আপনিতো (চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে করে) যুদ্ধে ছিলেন না, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বন্ধে আপনার কি ধারণা থাকবে।' এই বলে তিনি আবার শুরু করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুুবেদার আফতাব আমাকে জানালো, সে রৌমারি থানার এক বিস্তীর্ণ এলাকা মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ষোলই ডিসেম্বর পর্যন্ত এই এলাকাগুলো মুক্তাঞ্চল ছিল। যুদ্ধ চলাকালীণ পুরো সময়টাই সে ভারতের অভ্যন্তরে ঘাঁটি স্থাপন করতে অস্বীকার করে আসছিল। সে রাত আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলে কাটিয়ে দিলাম। দেখলাম সে খুব সহজেই মানুষের নেতৃত্বের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে পেরেছে। তার সামনে নিজেকে বড়ো ছোট লাগলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুবেদার বললো সে যে কোন কিছু করার জন্য প্রস্তুত আছে। ওদের অবস্থানের কিছু দূরে এক চরে পাকিস্তানিদের এক ঘাঁটি ছিল। আমি তখন তাদের তাড়িয়ে দেয়ার জন্য একটা আক্রমণের প্রস্তাব দিলাম। দুই শিবিরের মধ্যে একটা নদী। পাকিস্তানিরা যে চরে অবস্থান নিয়েছিল তা একটা খালের মাধ্যমে দু ভাগে ভাগ হয়ে আছে। আমি আর সুবেদার একটা নৌকায় করে চরে পৌঁছলাম। দেখি পাকিস্তানিরা চরের অন্য প্রান্তে। এই চর ছিল ঘন কাশবনে ঢাকা। আমি পরিকল্পনা করলাম একদল যোদ্ধা রাতে নদী পার হয়ে খালের পাশের কাশবনে অবস্থান নেবে। পরদিন ভোরে একটা ছোট দল বের হবে পাকিস্তানিদের হাতে তাড়া খাবার জন্য। চারদিনের মধ্যেই সুবেদার আফতাব পরিকল্পনা মাফিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যা আশা করেছিলাম তাই হলো, পাকিস্তানিরা ভোরবেলার দলটাকে পিছু ধাওয়া করলো। এভাবে ওদের মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যু ফাঁদের আওতার ভেতরে নিয়ে আসা হলো। প্রথম দফা আক্রমণেই পাকিস্তানিদের বেশ বড়োসড়ো ক্ষতি হলো। ওরা দু'বার আক্রমণ করলো, দু'বারই আক্রমণ প্রতিহত হওয়ায় আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে তারা পালিয়ে গেল। এভাবেই রৌমারি থানা সহ বাহাদুরবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা আমাদের দখলে আসে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর আমরা চিলমারীর ওপর নজর দেই। চিলমারী যুদ্ধ এক পরিচিত সংঘর্ষ। আমি এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। তখন মাঝ সেপ্টেম্বর। একরাতে বারো শ' মুক্তিযোদ্ধা ব্রਜ਼পুত্র নদী পাড়ি দিল। আমাদের লক্ষ্যস্থল পাহারায় ছিল দুই কোম্পানি পাকিস্তানি নিয়মিত সৈন্য। এছাড়া অজস্র রাজাকার তো ছিলই। আমরা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চিলমারী বন্দরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। আর প্রচুর গোলাবারুদ ও যুদ্ধবন্দি নিয়ে ফিরে এসেছিলাম। এটা ছিল এক দুঃসাহসিক আক্রমণ। এমন নজির যুদ্ধের ইতিহাসে কমই আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রেডিওতে প্রচারিত স্বাধীনতা যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদের বেশীর ভাগেই থাকতো আমাদের সেক্টরের খবর। এমনকি বিখ্যাত আমেরিকান সাংবাদিক জ্যাক অ্যান্ডারসনও আমাদের এলাকার অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এই বলে- কামালপুরের ঘাঁটি পতনের মানেই হচ্ছে পাকিস্তানিরা এই যুদ্ধে হেরে গেছে। কামালপুরে যুদ্ধ পরিচালনার সময় আমার একটা পা হারাই। আমার সেক্টরের ছেলেরাই সবার আগে ঢাকা পৌঁছেছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলতে যেয়ে অবশ্যই আমাদের মুক্তিসেনাদের দেশপ্রেম, বীরত্ব ও আনুগত্যের উল্লেখ করতে হয়। এরাই জাতির সেরা সন্তান। এছাড়াও গ্রামের সব গরীব গ্রামবাসীদের কথাও বলতে হয়। এরা আমাদের দিয়েছে খাদ্য ও আশ্রয়। শত্রু-সনার অবস্থান সম্পর্কে তারা আমাদের সব সময় খবর দিয়েছে। এরা ছিল আমাদের সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণার উৎস। আমার হাতে তো তাও একটা অস্ত্র ছিল। এদের কাছে কিছুই ছিল না। আমাদের সাহায্য করতে যেয়ে এরা পাকিস্তানি বুলেটের শিকার হয়েছে। তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের স্ত্রী-মা-বোনদের সমম্ানহানি করা হয়েছে। এরাই ছিল আসলে সবচেয়ে বেশী সাহসী। এদের কথা আমি সব সময় মনে রাখবো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ষোলই ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। এতে আচর্শ্যের কিছুই ছিল না। আমাদের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অসাবধানী, অযোগ্য ও দেউলিয়া আচরণের জন্যই প্রবাসী সরকার সম্পূর্ণবাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ভারতীয় হস্তক্ষেপের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। ঘাঁটিগুলো ভারতে থাকায় ও ভারতের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে আমাদের নিয়মিত সৈন্যরা ছিল মানসিকভাবে দুর্বল ও হীনমন্য। বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে পা দেয়া মাত্রই ভারতীয় সৈন্যরা বিজিত সম্পদের ওপর বিজয়ী বাহিনীর  মতোই হাত বসালো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনাব চেয়ারম্যান ও ট্রাইবুনালের সদস্যবৃন্দ, আমি এখানে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই একজনের কথা। ভারতীয় সৈন্যদের লুট-পাটে বাধা দেওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছিলেন এই কমান্ডিং অফিসার। তিনি মেজর এম. এ. জলিল; নয় নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক। তিনিও এই মামলায় একজন সহ-অভিযুক্ত। জলিলকে এর জন্য যথেষ্ট খেসারত দিতে হয়েছিল। দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন করা প্রচীরের অন্তরালে কাটাতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবার পর মেজর জলিল আরেকটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। তরুণ বিপ্লবীদের প্রতিনিধি আ.স.ম.আব্দুর রব (যিনি এ মামলায় একজন সহ-অভিযুক্ত)-এর সহযোগিতায় মেজর জলিল বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল জাসদ গঠন করেন। এখানে উল্লেখ্য আ.স.ম.আব্দুর রব সেই ব্যাক্তি যিনি প্রথম ঐতিহাসিক বটতলা সমাবেশে একাত্তরের দোসরা মে তারিখে আমাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি, মেজর জলিলকে যে ট্রাইব্যুনালে বিচার করে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল আমি ছিলাম সেই ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ মামলায় অভিযুক্ত আমার ভাইদের সম্পর্কে আমি এখন দু'একটি কথা বলতে চাই। মনে হয় ইচ্ছা করে আমাদের পুরো পরিবারটাকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আমার বড় ভাই ফ্লাইট সার্জেণ্ট আবু ইউসুফ খান সৌদী আরবে; সৌদী বিমান বাহিনীতে ডেপুটেশনে ছিলেন। যুদ্ধ বাঁধলে পালিয়ে এসে তিনি আমাদের সেক্টরে যোগ দেন। এখন শুনতে যে রকম লাগুক না কেন এটাতো ঠিক যে ঐ ঘাঁটিতে তখন আরো অনেক বাঙালি অফিসার ছিলেন, তারা কেউই পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দেন নি। বরং এরা পচিশ্ম পাকিস্তানে ফিরে যান ও পরে তিহাত্তর সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জামালপুরের যুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তাকে 'বীর বিক্রম' পদকে ভূষিত করা হয়। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি কমান্ড হেডকোয়ার্টারে পৌঁছান ও জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জেনারেল নিয়াজীর গাড়ীর পতাকার গর্বিত মালিক। আমার বিশ্বাস পৃথিবীতে এমন ভালো লোকের সংখ্যা খুব কম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার ভাই আনোয়ারও এই মামলায় অভিযুক্ত। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক (বর্তমানে অধ্যাপক)-সম্পাদক। যুদ্ধের সময় সে আমার সেক্টরের একজন স্টাফ অফিসার ছিল। সে এমন লোক.একজন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা কোন শরণার্থীর প্রয়োজন হতে পারে এই ভেবে সে নিজে দ্বিতীয় কোন শার্ট পর্যন্ত ব্যবহার করতো না। আমার ভাই বাহারের কথাও উল্লেখ করতে হয়। এই সরকারের বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই কিছুদিন আগে আরও তিনজন বীর যুবকের সঙ্গে তাঁকে আমরা হারিয়েছি। সে যুদ্ধ চলাকালে প্রায় দু'শ মুক্তিযোদ্ধার একটি কোম্পানি পরিচালনা করতো। নভেম্বরের মধ্যেই সে নেত্রকোণা মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বেশীর ভাগ এলাকা মুক্ত করেছিল। অসারধারণ বীরত্বের জন্য তাকে দু'দুবার বীর প্রতীক পদকে ভূষিত করা হয়। সে-ও এদেশের এক জাতীয় বীর। আমার সর্বকনিষ্ঠ ভাই বেলাল। সেও এই সরকারের ঘৃণ্য চক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। তাঁকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁকেও দু'বার 'বীর প্রতিক' পদকে ভূষিত করা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা ছয় ভাই ও দুই বোন স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলাম। যুদ্ধে অবদানের জন্য আমাকে 'বীর উত্তম' পদক দেয়া হয়। আমাদের মধ্যে চার জনকে তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সামরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। এসবই ইতিহাসের অংশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আমাদের গ্রাম লুণ্ঠিত হয়। আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ও তাঁর ওপর অত্যাচার করা হয়। আমি এখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার কাদেরের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তাঁর পদক্ষেপে আমার বাবা ছাড়া পেয়েছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ ত্যাগের পর সবাই আশা করেছিল যে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হবে, শুরু হবে একটা সুষ্ঠু ও ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ। আমাদের আশা ছিল একটা সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশের, যে দেশে দুর্নীতি ও মানুষে মানুষে শোষণের কোন সুযোগ থাকবে না। যেদেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেশরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্ক হবে আন্তরিক। এই সেনাবাহিনী হবে আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আশা এই স্বপ্ন নিয়েই আমাদের জাতি বারবার এত কঠোর সংগ্রামে নেমেছে। এই আশায় বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমাদের আদর্শ ও মূল্যবোধ। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। কেউ বুঝে ওঠার আগেই অধঃপতনের ধারা শুরু হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাহাত্তরের এপ্রিলে পা-এ অস্ত্রোপাচারের পর অন্যান্য আনুষঙ্গিক চিকিৎসা শেষে আমি দেশে ফিরে আসি। স্বদেশে ফিরেই আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যাণ্ট জেনারেল পদে যোগ দেই। আমি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনি, তখন এই কাজ  ছিল দুঃসাধ্য। এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজেই জানেন কিভাবে আমি অবৈধ কাজ-কর্মের দায়ে ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত ও মেজর জেনারেল শফিউল্লাহর মতো আরো কিছু উচ্চপদস্থ অফিসারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল এরা অবৈধভাবে টাকা-পয়সা  ও সম্পদ কুক্ষিগত করেছেন। পরিস্িথতি তখন ছিল খুবই নাজুক। আমার বিশ্বাস ছিল অফিসারদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত যে কোন সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে। কেবল তখনই তারা বুক ফুলিয়ে সাহসের সঙ্গে খাঁটি সৈনিকের মতো দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি কখনোই এ নীতির প্রশ্নে আপোস করিনি। কয়েক মাসের মধ্যেই আমাকে কুমিল্লায় অবস্িথত ৪৪তম ব্রিগেডের নতুন অধিনায়ক নিয়োগ করা হয়। কুমিল্লা ব্রিগেডের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই আমার অধীনস্থ অফিসারদের নির্দেশ দেই মুক্তিযুদ্ধের আগে বা পরে অবৈধ উপায়ে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তার সব ফিরিয়ে দিতে হবে। এরা আমার নির্দেশ পালন করেছিলেন। আমার হাতে ছিল একদল অফিসার যাদের ছিল একটা স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ নীতিবোধ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটাকেই আমি নেতৃত্বের স্বরূপ মনে করেছি। আমি সব সময় মানুষের ভালো দিকটা জাগিয়ে তুলতে চেয়েছি, কোন মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়াকে আমি ঘৃণা করতাম ও এড়িয়ে চলতাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং ঢাকা ও কুমিল্লা সেনানিবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাকে উৎপাদন-বিমুখ স্থায়ী সেনাবাহিনীকে একটা বিপ্লবী গণবাহিনীতে পরিণত করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমার সৈনিক জীবনে লক্ষ্য করেছি, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে একটা স্থায়ী সেনবাহিনী জাতীয় অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা স্বরূপ। এ ধরনের সেনাবাহিনী সমাজ প্রগতির পক্ষে একটা বিরাট বাধা। জাতীয় উৎপাদনে এদরে কোন অবদানই থাকে না। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যে নিষ্ঠা, আনুগত্য ও ত্যাগের মনোভাব লক্ষ্য করেছিলাম, তাতে স্বাধীনতা উত্তরকালে একটা উৎপাদনমুখী বিপ্লবী গণবাহিনী (আর পি এ) গঠন করা অসম্ভব বলে আমার মনে হয়নি।  আর এতে আমি সবচেয়ে বেশী উদ্বুদ্ধ হয়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সামরিক বাহিনীর অনেকেরই এটা জানার কথা যে আমি কুমিল্লা ব্রিগেডকে একটা 'গণবাহিনী'র মতো করে গড়ো তুলতে চেষ্টা করেছিরাম। মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সেনাদের নিয়ে একটা শক্তিশালী সেনাবহিনী গঠন করতে আমি সব সময় চেষ্টা করেছি। আমার সামরিক সংগঠন প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিল 'উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী'। এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের অফিসার ও সৈনিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্রমিক-কৃষকের সঙ্গে উৎপাদনে অংশ নেয়। আমরা নিজেরা জমিতে হাল ধরেছি, নিজেদের খাবার উৎপাদন করে নিয়েছি। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গ্রামের মানুষের বাড়ী গিয়েছি। এটাই ছিল স্বনির্ভর হওয়ার একমাত্র পথ। আমি যথেষ্ট আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করছি কুমিল্লা ব্রিগেযের অফিসারদের কথা, তারা আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন ভালোভাবেই। এঁরা আমাদের ইউনিটকে কিছু দিনের মধ্যেই একটা উৎপাদনমুখী শক্তিতে পরিণত করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু বিরোধ দেখা দিল অল্প দিনের মধ্যেই। মুজিব সরকার সেনাবাহিনী গঠনের ব্যাপারটা উপেক্ষা করে কুখ্যাত আধা-সামরিক শক্তি রক্ষীবাহিনী গড়ে তোলায় মন দেয়। ভারতীয় উপদেষ্টা ও অফিসারেরা এই রক্ষীবাহিনী গঠনে সরাসরি জড়িত ছিল। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে আমার পূর্ণ বিরোধিতার কথা জানালাম। যুদ্ধের সময় ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত গোপন চুক্তির ব্যাপারেও আমি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদ জানাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেনা সদর দপ্তরে খুঁজলেই আমার প্রতিবাদের দলিল পাওয়া যাবে। এই দুই কারণে আর তাছাড়া বর্তমান প্রচলিত উপনিবেশিক কাঠামোর সেনাবাহিনী থেকে সম্পূর্ণবাবে সরে আসার ব্যাপারে আমার ঐকান্তিক ইচ্ছার কারণে সরকারের সঙ্গেও সরকারের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। কিছু দিনের মধ্যেই লেঃ কর্নেল জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে সরকারের মত বিরোধ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীতে থেকে সরে আসাটাই প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ালো। বাহাত্তরের নভেম্বর লেঃ কর্নেল জিয়াউদ্দিন ও আমি সেনাবাহিনী থেকে সরে আসলাম। আমরা দু'জন নিজেদের পথে এগিয়ে গেলাম, পছন্দমত রাজনীতি বেছে নিলাম। যখনই সম্ভব হতো আমরা পরস্পরের খোঁজ-খবর নিতাম আর ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে একে অন্যকে অবহিত করতাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৩ সালে আমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ড্রেজার সংস্থার পরিচালকের পদে একটা চাকুরি নেই। আমি যে সময় দায়িত্ব নেই তখন এই সংস্থা ইতোমধ্যেই আমরা একে কর্মক্ষম করে তুলি। ১৯৫২ সালে সংস্থার জণ্ম লগ্নের সময় থেকে আর কখনোই এর আয় অত বেশী ছিল না। সংস্থার একজন পহারাদার থেকে শুরু করে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী পর্যন্ত সবাইকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন আমি কিভাবে এই সংস্থা চালিয়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(তাহের তাঁর বক্তব্যের এই পর্যায়ে আবার বাধা পেলে বলেন- 'জনাব চেয়ারম্যান ও মামলার সমম্ানিত সদস্যবৃন্দ, আমাকে সবকিছু বলতেই হবে। তাহলে আপনারা আমাকে আরো কাছ থেকে বুঝতে পারবেন...)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৫ সালের পনেরই আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার কি ভূমিকা পালন করেছে তা দেশবাসী সবারই জানা। কিভাবে একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছিল তার এখন দলিলের বিষয়। এক কথায় বলা যায়, আমাদের লালিত সব স্বপ্ন, আদর্শ ও মূল্যবোধগুলো এক এক করে ধ্বংস করা হচ্ছিল। গণতন্ত্রের অসমম্ানজনক কবরশয্যা রচিত হয়েছিল। মানুষের অধিকার মাটি চাপা পড়েছিল। আর সারা জাতির ওপর চেপে বসেছিল এক ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফ্যাসিবাদি নির্যাতনের গর্ভে ধীরে ধীরে জণ্ম নিল ফ্যাসিবাদ বিরােধী গণপ্রতিরোধ আন্দোলন। এটা খুবই দুঃখজনক ও  বেদনাদায়ক যে এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের অন্যতম প্রধান পুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান শেষ পর্যন্ত একনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ মুজিব তাঁর সংঘাতময় রাজনৈতিক জীবনে কখনো স্বৈরতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে আপোস করেন নি। তিনি ছিলেন এককালে আমাদের গণতন্ত্র ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকালেও তিনিই ছিলেন একমাত্র নেতা যিনি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, জনগণের মধ্যে তাঁর ব্যাপক ভিত্তি ছিল। প্রতিদানে জনগণ তাঁকে তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। জনগণই মুজিবকে সণ্মান এনে দিয়েছিল, বহুগুন করে তাঁকে নায়কের প্রতিমূর্তি দিয়েছিল। আসলে জনগণ তাদের নেতা হিসেবে মুজিবকে তাঁদের মন মতো করে গড়ে নিয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'মুজিব' নামটি ছিল রণহুংকার। মুজিব ছিলেন জনগণের নেতা। এক কথা অস্বীকার করার অর্থ সত্যকে অস্বীকার করা। তাই চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করার অধিকার শুধু জনগণেরই ছিল। সে মুজিব জনগণকে প্রতারিত করে একনায়ক হয়ে উঠেছিলেন তাকে জনগণের শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করাটাই হতো সব থেকে ভালো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে জনতা মুজিবকে নেতার আসনে বসিয়েছিল, সেই জনতাই একদিন একনায়ক মুজিবকে উৎখাত করতো। ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করার অধিকার জনতা কাউকে দেয় নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৫ সালের পনেরই আগস্ট। একদল সামরিক অফিসর আর সেনাবাহিনীর একটা অংশবিশেষ শেখ মুজিবকে হত্যা করে। সেদিন সকালে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারীর এক অফিসার আমাকে টেলিফোন করেন। তিনি বলেন, মেজর রশীদের পক্ষ থেকে তিনি আমাকে টেলিফোন করেন। তিনি বললেন, 'বাংলাদেশ বেতার' ভবনে যেতে বললেন। তিনি আমাকে শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের খবরও দিয়েছিলেন। আমাকে জানানো হয় যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী খন্দকার মোশতাক আহমেদ এই অফিসারদের নেতৃত্বে রয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি তখন রেডিও চালিয়ে দেই। জানতে পেলাম শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে আর খন্দকার  মোশতাক ক্ষমতা দখল করেছেন। এই খবর শুনে আমি যথেষ্ট আঘাত পাই। আমার মনে হলো এতে রাজনৈতিক স্িথতিশীলতা নষ্ট হবে। এমনকি জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সমম্ুখীন হতে পারে। এর মধ্যে আমার কাছে অনেকগুলো টেলিফোন আসতে থাকলো। সবার অনুরোধ ছিল আমি যেন 'বাংলাদেশ বেতার' ভবনে যাই। আমি ভাবলাম, যেয়ে দেখা উচিত পরিস্িথতি কি দাঁড়িয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকাল নটায় বেতার ভবনে গেলাম। মেজর রশীদ আমাকে একটা কক্ষে নিয়ে গেলেন। সেখানে আমি খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মেজর ডালিম আর মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমানকে দেখতে পাই। খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ আলোচনা করলাম। আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে এই মুহূর্তে জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা করাটাই সবচেয়ে জরুরী। মেজর রশীদ আমাকে আরেকটা কক্ষে নিয়ে গেল ও জানতে চাইল আমি মন্ত্রীসভায় যোগ দিতে উৎসাহী কিনা। আমি তাকে পরামর্শ দিলাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে অবস্থা পর্যালোচনা করে এটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে। মেজর রশীদ জোর দিয়ে বললো আমি আর লেঃ কর্নেল জিয়াউদ্দিন-ই এ অবস্থা সামাল দিতে সক্ষম। সে বললো অন্য কোন বাহিনী প্রধানদের ওপর কিংবা কোন রাজনীতিবিদের ওপর তার কোন আস্থা নেই। আমি তার প্রস্তাব নাকচ করে দিলাম। আমি তাকে পরামর্শ দিলাম বাকশালকে বাদ দিয়ে অন্য সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে যেন একটা সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খন্দকার মোশতাকের সামনে বিবেচনার জন্য আমি বেশ কয়েকটা প্রস্তাব রেখেছিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(১) অবিলম্বে সংবিধান স্থগিত করণ,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২) দেশব্যাপী সামরিক শাসন ঘোষণা ও তার প্রবর্তন,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩) দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দান,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪) বাকশালকে বাদ দিয়ে একটা সর্বদলীয় গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার গঠন করা,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৫) জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটা জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খন্দকার মোশতাক আমার সব কথা মন দিয়ে শুনলেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেন। রশীদ বারবার জোর দিয়ে বলতে থাকল যে আমি যেন বঙ্গভবনে খন্দকার মোশতাকের শপথ গ্রহণের সময় উপস্িথত থাকি। সকাল সাড়ে এগারোটায় আমি বেতার ভবন ত্যাগ করি গভীর উদ্বেগ নিয়ে। আমার মনে হচ্ছিল মোশতাক তার কথা রাখবেন না, বরং উটেল্াপথে এগুবেন। আমার আরো মনে হচ্ছিল এটা শুধু মোশতাক আর সেই অফিসারদের দলের ব্যাপার নয়। এর পেছনে অন্য কিছু বা অন্য কারো হাত রয়েছে। তারাই আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার ধারণাই সত্যে পরিণত হলো। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষনে খন্দকার মোশতাক আমার সঙ্গে আলোচিত একটা কথাও উল্লেখ করেন নি। দুপুর বেলায় আমি যখন বঙ্গভবনে পৌঁছলাম ততক্ষণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ। সেদিন সন্ধ্যাবেলায় আমি হত্যাকান্ডে জড়িত অফিসারদের সঙ্গে আলোচনায় বসি।  এদের নেতা ছিল মেজর রশীদ। সেদিন সকালে মোশতাকের কাছে আমি যে প্রস্তাবগুলো রেখেছিলাম এদের কাছেও সেগুলো পেশ করি। সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগেই যাতে জরুরি ভিত্তিতে সব রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়া হয় সে ব্যাপার আমি বেশ জোর দিয়েছিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের আলোচনার শেষের দিকে আলোচনায় যোগ দেয়ার জন্য জেনারেল জিয়াকে ডেকে আনলাম। আমার প্রস্তাবগুলো সবাই সমর্থন করলেন। এ ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছিলেন যে সে মুহূর্তে সেটাই ছিল একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। পরদিন মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ ও মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমার অনেকক্ষণ আলাপ হয়। তাঁরাও আমার প্রস্তাবগুলো সঠিক ও গ্রহণীয় মনে করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু ষোলই আগস্ট আমি বুঝতে পারলাম মেজর রশিদ ও মেজর ফারুক শুধু আমার নামটাই ব্যবহার করছে, যাতে তাদের নেতৃত্বাধীন সিপাহিরা এই ধারণা পায় যে আমি তাদের সঙ্গে রয়েছি। পরদিন ১৭ আগস্ট এটা পরিઋকার হয়ে গেল যে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক। আমি আরো বুঝতে পারলাম যে এর পেছনে খন্দকার মোশতাকসহ আওয়ামী লীগের উপরের তলার একটা অংশও সরাসরি জড়িত। এই চক্র অনেক আগেই যে তাদের কর্মপন্থা ঠিক করে নিয়েছিল  সেটাও আর গোপন রইল না। সেদিন থেকেই আমি বঙ্গভবনে যাওয়া বন্ধ করে ও এই চক্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জেনারেল ওসমানীকে খন্দকার মোশতাকের সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি আমর সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করতেন, তাঁর সঙ্গে প্রায়ই আমাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো। তিনি সব সময় লেঃ কর্নেল জিয়াউদ্দিনের খোঁজ খবর জানতে চাইতেন ও তার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। মজিব সরকার জিয়াউদ্দিনের ওপর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিল। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আগে এই পরোয়ানা উঠিয়ে নিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে হবে। তাহলেই শুধুমাত্র জিয়াউদ্দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেপ্টেম্বরের শেষে দিকে মেজর রশীদ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটা  প্রস্তাব আনলেন। আমি আর লেঃ কর্নেল জিয়াউদ্দিন একটা রাজনৈতিক দল গঠন করবো; আনুষঙ্গিক সব খরচ বহন করবেন তিনি। আমি তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। তাকে জানিয়ে দেই যে সব রাজনৈতিক বন্দিদের অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। এটা পরিઋকার হয়ে গিয়েছিল যে মোশতাকের কোন রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল না। সেনাবাহিনীতে একটা ছোট অংশ বাদে অন্য কোথাও তার কোন সমর্থন ছিল না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার সমর্থন ছিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসুন, আমরা মোশতাক সরকারের কথায় ফিরে আসি। মোশতাক সরকার জনগণকে মুজিব সরকারের চাইতে কোন ভাল বিকল্প উপহার দিতে পারে নি। পরিবর্তন হয়েছিল শুধু এই, রুশ-ভারতের প্রভাব বলয় থেকে মুক্তি হয়ে দেশ মার্কিন সাম্রাজ্যেবাদের পক্ষপুটে ঝুঁকে পড়েছিল। এ ছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্িথতি ছিল আগের মতোই। সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। অন্যদিকে রাজনৈতিক নিপীড়ন আগের থেকেও বেড়ে গিয়েছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অত্যাচারের প্রবৃত্তি যেন দিন দিন বেড়েই চলছিল। জনগণের দুর্ভোগ ও হয়রানি আগের মতোই চলতে থাকে, রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত থাকে। সত্যিকার অর্থে দেশ তখন একটা বেসামরিক একনায়কতন্ত্র থেকে সামরিক আমলাতান্ত্রিক এক নায়কতন্ত্রের কবলে পড়ে গিয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানুষ অস্িথর হয়ে ওঠে। তারা এই অবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। রুশ-ভারতের চর। জনতার কাছে অগ্রহণযোগ্য অসামাজিক শক্তিগুলো পরিস্িথতির সুযোগ নেয়ার জন্য ওঁৎ পেতে ছিল। মোশতাক সরকারের ব্যর্থতার সুযোগ আমাদের জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন করার জন্য একটা ষড়যন্ত্র গড়ে ওঠে। এই চক্রান্তের নায়ক ছিলেন উচ্চাভিলাষী ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। প্রতিবিপ্লবী ষড়যন্ত্রমূলক অভ্যুত্থানের মাধ্যেমে পঁচাত্তরের তেসরা নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ক্ষমতায় আসেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; সেদিন আমি অসুস্থ, আমার নারয়ণগঞ্জের বাসায় বিছানায় পড়ে ছিলাম। ভোর চারটার দিকে টেলিফোন বেজে উঠল। ওপারে ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। আমার সাহায্য তার খুব দরকার। কিন্তু কথা শেষ হলো না, লাইন কেটে গেল। সেদিন বেশ কিছু সিপাহি, এন.সি.ও. ও জে.সি.ও. আমার নারয়ণগঞ্জের বাসায় এসে হাজির হন। তাদের সবার সঙ্গে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, কেবল তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আমার শোবার ঘরে কথা বলেছিলাম। তারা আমাকে জানালো যে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পেছনে ভারতীয়দের হাত রয়েছে। বাকশাল ও তাদের সহযোগীরা ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা আমাকে আরো জানালো যে বেঙ্গল রেজিমেণ্ট ও অন্যান্য কোরের মধ্যে প্রচন্ড উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে গোলাগুলি শুরু হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি তাদেরকে শান্ত থাকতে ও সৈন্যদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে পরিস্িথতি সম্পর্কে সবার মতামত জানার জন্য পরামর্শ দেই। এ ছাড়া আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্নকারী যে কোন ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে বলে দেই। আমি তাদেরকে পরিઋকার ভাষায় জানিয়ে দিলাম, সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য হলো সীমান্ত এবং প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষা করা। আমাদের মতো সমাজে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে নাক গলানো সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য নয়। অভ্যুত্থান ও পাটল্া অভ্যুত্থানের মূলে রয়েছে উচ্চভিলাষী অফিসারদের ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব। এসব অফিসার তাদের নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। আর তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তারা সাধারণ সৈন্যদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে তার চূড়ান্ত রায় দেবার মালিক হচ্ছে জনসাধারণ। আমি সৈন্যদের আরো বললাম কোন অবস্থাতেই যেন তারা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু না করে। আমি তাদের বরং ব্যারাকে ফিরে যেতে বললাম। বললাম যে জনমানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের প্রয়োজনে যে কোন মুহূর্তে একসঙ্গে আঘাত হানাবার জন্য প্রসুতত থাকতে হবে। ক্ষমতালোভী সামরিক ব্যক্তিদের উচ্চভিলাষ গুড়িয়ে দেবার এটাই ছিল একমাত্র পথ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তেসরা নভেম্বরের পর কি ভয়ার্ত নৈরাজ্যজনক পরিস্িথতির মধ্যে দিয়ে এ জাতির জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল তা সবারই জানা। কিভাবে আমাদের জাতীয় আত্মসমম্ানবোধ লঙ্ঘন করা হচ্ছিল তার নিচশ্য়ই বিস্তারিত বিবরণের দরকার পড়ে না। এটা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে খালেদ মোশাররফের পেছনে ভারতীয়দের হাত রয়েছে। একদিকে যখন দেশের এই সার্বভৌমত্ব-সংকট অন্যদিকে ঠিক তখনই রিয়ার-অ্যাডমিরাল এম এইচ খান আর এয়ার ভাইস-মার্শাল এম জি তাওয়াব খালেদ মোশাররফেকে মেজর জেনারেলের ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছিলেন। সে ছিল এক করুণ দৃশ্য। এসব নীচ লোকদের আমি করুণা করি। এই কাপুরুষগুলো যখন হাঁটু গেড়ে জীবন ভিক্ষা করছিল তখন  আমাকে জাতির উদ্যম ও মনোবল সমুন্নত রাখতে কাজে নামতে হয়েছিল। আর জিয়াউর রহমান? সে তখন খালেদের হাতে বন্দি, অসহায়ভাবে ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছিল। তাওয়াব ও খানেরা তখন কোথায় ছিল? তারা তখন তাদের নতুন দেবতার বুট লেহনে ব্যস্ত। এই সব কাপুরুষদের এদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত রাখা আমাদের শোভা পায় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চৌঠা নভেম্বর বিকেলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আমার কাছে খবর পাঠানা। জিয়ার অনুরোধ ছিল আমি যেন সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আমার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তাকে মুক্ত করি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি। আমি তাকে শান্ত থাকেেত ও মনে সাহস রাখতে বলেছিলাম। আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলামম সেনবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে ও সব ধরনের অপকর্মের অবসান ঘটানো হবে। এদিকে সেনবাহিনীর সজাগ অফিসার ও সৈন্যরা আমাকে বিশ্বাসঘাতক খালেদ মেরাশাররফ চক্রকে উৎখাত করার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নিতে অনুরোধ করে আসছিল। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তাগিদ এসেছিল সিপাহীদের বিশেষ করে এন. সি.ও. আর জে. সি. ও'দের কাছ থেকেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ, আলোচনা ও মত বিনিময়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়। ছয় নভেম্বর আমি সৈনিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে রাখলাম। ঢাকা সেনানিবাসের সব ইউনিট প্রতিনিথিদের মাধ্যমে সবাইকে সজাগ থাকতে ও পরবর্তী নির্দেশের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে দেয়া হলো। ছয়ই নভেম্বর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হয়। সাতই নভেম্বর ভোর রাত একটায় সিপাহি অভ্যুত্থান শুরু হবে। আমাদের সিদ্ধান্তগুলো ছিল-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১) খালেদ মোশাররফ চক্রকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২) বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩) একটা বিপ্লবী সামরিক কমান্ড কাউন্সিল গঠন করা,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪) দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দান,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৫) রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৬) বাকশালকে বাদ দিয়ে একটা সর্বদলীয় গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার গঠন করা,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৭) বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার বারো দফা দাবি মেনে নেয়া ও তার বাস্তবায়ন করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সব কিছুই পরিকল্পনা মাফিক হয়। বেতার, টি.ভি. টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, পোস্ট অফিস, বিমানবন্দর ও অন্যান্য সব গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো প্রথম আঘাতেই দখল করা হয়। ভোর রাত্রে জিয়াকে মুক্ত করে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার বড় ভাই ফ্লাইট সার্জেণ্ট আবু ইউসুফ খানের সঙ্গে আমি ভোর তিনটার দিকে সেনানিবাসে যাই। সঙ্গে ছিল ট্রাকভর্তি সেনাদল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিয়াকে আমি তার নৈশ পোশাকে পেলাম। সেখানে ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত সহ আরো ক'জন অফিসার ও  সৈনিক ছিল। জিয়া আমাকে আর আমার ভাইকে গভীরভাবে আলিঙ্গনাবদ্ধ করলেন। পানিভর্তি চোখে তিনি আমাদের তার জীবন বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন। তার জীবন রক্ষার জন্য জাসদ যা করেছে তার জন্য জিয়া আমার প্রতি ও জাসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন আমরা যা বলবো তিনি তাই করবেন। আমরা তখন পরবর্তী করণীয় কাজ নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করি। তখন ভোর চারটা। আমরা একসঙ্গে বেতার ভবনে পৌঁছাই। পথে আমরা তাৎক্ষণিক কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[এই পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাহেরকে বাধা দেন। বিচার কক্ষে বাক.বিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। কর্নেল তাহের বলেন- 'আমার যা বলা দরকার, তা আপনাদের শুনতেই হবে। নয় আমি আর কোন কথা বলবো না। ফাঁসি দিন... এখনি ফাঁসি দিন... আমি ভয় পাই না। কিন্তু আমাকে বিরক্ত করবেন না। ... কি যেন বলছিলাম শরীফ?' (শরীফ চাকলাদার বিবাদি পক্ষের একজন সহকারী কৌশলী) এই বলে তাহের আবার শুরু করররলেন।]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর মধ্যে বেতার থেকে সিপাহি অভ্যুত্থানের ঘোষণা করা হয়েছে। জিয়াকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বেতার ভবনে যাবার পথে জিয়া শহীদ মিনারে একটা জনসমাবেশে ভাষণ দিতে রাজ হয়েছিলেন। তাই কথামতো আমি সিপাহিদের নির্দেশ দিয়েছিলাম শহীদ মিনারে সমবেত হতে। সেখানে আমি ও জিয়া সমাবেশে ভাষণ দেবো। তাহলে তাদের অফিসারদের ছাড়াই যেই বিপ্লবী সৈনিকরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে সেই সৈনিকদের কাছে দেয়া অঙ্গীকার থেকে কেউই পিছু হটতে পারবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উৎফুল্ল মনে সৈনিকরা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। একসঙ্গে এদের জড়ো করতে কিছুটা সময় দরকার। শহীদ মিনারে সমাবেশের সময় তাই ঠিক করি সকাল দশটায়। হাজারো মানুষ খুশী মনে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তারা বিপ্লবী সৈনিকদরে সঙ্গে গলা মিলিয়ে শ্লোগান তুলছিল। চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল। মানুষের আনন্দ আর উল্লাসের মাঝে পুরো শহরটা যেন উৎসবের আনন্দে রঙীন হয়ে উঠেছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকাল সাড়ে আটটায় সৈনিকরা আমাকে জানালো যে খন্দকার মোশতাক আহমেদ বেতার ভবনে ঢুকে পড়েছেন ও একটা ভাষণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি তখন বেতার কেন্দ্রে গেলাম। মোশতাককে আমি খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলাম যে চক্রান্তের রাজনীতির দিন শেষ; তাকে এখনই বেতার কেন্দ্র ছেড়ে যেতে হবে। তিনি আমার কথা মতো বেতার কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেলেন। এরপর আমি সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য  জিয়াকে নিয়ে আনতে সেনানিবাসে গেলাম। সেখানে পৌঁছে দেখি পরিস্িথতি বদলে গেছে। জিয়া দাড়ি কামিয়ে সামরিক পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে নিয়েছেন। তাকে দেখে মনে হলো তিনি বন্দিদশার আঘাত কাটিয়ে উঠেছেন। শহীদ মিনারে যাবার কথা তুললে জিয়া সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালেন। বিনয়ের সঙ্গে জিয়া যুক্তি দেখালেন যে তিনি একজন সৈনিক, তার গণজমায়েতে বক্তৃতা দেয়া সাজে না। তিনি আমাকে শহীদ মিনারে যেয়ে সেনাদের উদ্দেশ্যে বত্তৃতা দিতে বললেন। আমি বরং সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরে আসার জন্য শহীদ মিনারে নির্দেশ পাঠালাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এগারোটার দিকে আমরা সেনা সদর দপ্তরে একটা আলোচনায় বসি। একটা অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে আমরা নীতিগতভাবে একমত হই। সেই আলোচনায় উপস্িথত ছিলাম আমি, জিয়া, তাওয়াব, এম.এইচ.খান, খলিলুর রহমান, ওসমানী ও মুখ্য সচিব মাহবুব আলম চাষী।  সরকারের ধারাবাহিকতার প্রশ্নে একটা আইনগত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। সবাই চাচ্ছিলেন বিচারপতি সায়েম দেশের রাষ্ট্রপতি হবেন। (সায়েমকে খালেদ মোশাররফ পাঁচ নভেম্বর নিয়োগ করেছিলেন।) আমি তা মেনে নিলাম কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম জিয়া হবেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। প্রধান সামরিক আইন পশাসক হতে জিয়ার আপত্তির কারণে কিছুক্ষণ আলোচনার পর ঠিক হলো জিয়া, তাওয়াব আর এম.এইচ. খান প্রত্যেকেই উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হবেন। এদের ওপর কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ঠিক হলো বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে তিন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকদের নিয়ে একটা উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করবেন। সেদিনের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা হচ্ছে সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালু করতে দেয়া হবে ও মোশতাক সরকার ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সায়েম শুধু এক অন্তবর্তীকালীন সরকার চালাবেন। আমি এই সভাতে সাতই নভেম্বরের বিপ্লবের অনুক্রমকে স্বীকৃতি দিতে বললাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিকালের দিকে আমি বেতার কেন্দ্রে যাই। বিপ্লবী সৈন্যরা জিয়াউর রহমানের কাছে বারো দফা দাবি পেশের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা চাচ্ছিল তাদের দাবি পেশ করার সময় আিিম সেখানে উপস্িথত থাকি। বেতার কেন্দ্র থেকে আমি জিয়াউর রহমানকে টেলিফোন করি ও সৈন্যদের প্রস্তাবের কথা তাকে জানাই। তখন সৈন্যরা প্রচন্ডভাবে উত্তেজিত। বেতার কেন্দ্রের ভেতরে তারা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। পৌনে আটটার দিকে জিয়ার সঙ্গে মোশতাক ও সায়েমকে বেতার কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।  বিপ্লবী সৈন্যদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পেশ করা বারো দফা দাবির দলিলে জিয়ার সম্মতিসূচক স্বাক্ষরের পরই এদের বেতার কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খন্দকার মোশতাক ও বিচারপতি সায়েম জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আমি আর জিয়া তখন বেতার ভবনের টেলিভিশন কক্ষে, এক সঙ্গে ভাষণ শুনছি। সায়েম তার ভাষণে আমাদের আলোচনায় নেয়া সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই পরদিন আট নভেম্বর মেজর জলিল ও আ.স.ম. আব্দুর রবকে জেল থেকে মুক্তি দেয়াহয়। সেদিন আমি জেনারেল জিয়াকে টেলিফোন করে এর জন্য ধন্যবাদ জানাই আর মতিন,অহিদুর সহ অন্যান্য বন্দিদেরও সেই সঙ্গে মুক্তি দিতে অনুরোধ করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আট তারিখে সন্ধ্যায় জিয়া আমাকে জানালেন যে, কয়েকটা ঘটনায় কিছু অফিসার মারা গেছেন। আমি পরিস্িথতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করার প্রস্তাব দেই। আমি তখনি সেনানিবাসে আসার প্রস্তাব করি। জিয়াকে আিিম আরো জানাই যে বিপ্লবী সৈন্যদের ওপর আমার কড়া নির্দেশ ছিল যাতে কোন অফিসারের ওপর এভাবে আক্রমণ করা না হয়। এগার তারিখ পর্যন্ত জিয়া আমার সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রক্ষা করেন। কিন্তু বার তারিখের পর তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তার সঙ্গে আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেই জিয়া আমাকে এড়িয়ে যেতেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তেইশে নভেম্বর পুলিশের একটা বড়ো দল আমার বড় ভাই ফ্লাইট সার্জেণ্ট আবূ ইউসুফ খানের বাড়ী ঘেরাও করে ও তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে যায়। এই ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি মেজর জেনারেল জিয়াকে টেলিফোন করি। অন্য প্রান্ত থেকে আমাকে জানানো  হয় মেজর জেনারেল জিয়াকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবর্তে সেনাবাহিনীর উপ.প্রধান মেজর জেনারেল এরশাদ আমার সঙ্গে কথা বলবেন। এরশাদ আমার কথা শুনে বলেন যে আমার ভাইয়ের গ্রেফতারের ব্যাপারে সেনাবাহিনী কিছুই জানে না। ওটা হচ্ছে একটা সাধারণ পুলিশী তৎপরতা। আমি তখনও জানতাম না আমার ভাইকে যখন পুলিশ গ্রেফতার করে তখন একই সময়ে মেজর জলিল ও আ.স.ম. আব্দুর রব সহ অন্যান্য অনেক জাসদ নেতা ও কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। এসব জানার পর আমার বুঝতে আর অসুবিধা হলো না যাদের আমরা সাত নভেম্বর ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম তারা আবার এক নতুন ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৪শে নভেম্বর এক বিরাট পুলিশ বাহিনী আমাকে ঘিরে ফেলে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার আমাকে জনালেন জিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের সঙ্গে যাওয়া দরকার। আমি অবাক হয়ে বললাম জিয়ার কাছে যাওয়ার জন্য এত পুলিশ প্রহরার কি দরকার? এরা আমাকে একটা জিপে তুলে সোজা এই জেলে নিয়ে আসে। এভাবেই যাদের প্রাণ বাঁচিয়ে আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম সেই সব বিশ্বাসঘাতকের দল আমাকে জেলে অন্তরীণ করলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিয়া শুধু আমার সঙ্গেই নয়, বিপ্লবী সেনাদের সঙ্গে, সাত নভেম্বরের পবিত্র অঙ্গীকারের সঙ্গে, এক কথায় গোটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাদের পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। খালেদ মোশাররফের সঙ্গে তুলনায় জিয়া মুদ্রার অন্য পিঠ বলেই প্রমাণিত হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের জাতির ইতিহাসে আর একটাই মাত্র এরকম বিশ্বাসঘাকতার নজীর রয়েছে, তা' হচ্ছে মীর জাফরের। বাঙালি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সে গোটা উপমহাদেশকে দু'শ বছরের গোলামীর পথে ঠেলে দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো যে এটা সতের শ' সাতান্ন সাল নয়। ঊনিশ শ' ছিয়াত্তর। আমাদের আছে বিপ্লবী সিপাহি জনতা, তারা জিয়উর রহমানের মতো বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তকে নির্মূল করবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(এই পর্যায়ে কর্নেল তাহেরকে আবার বাধা দেয়া হয়। কোর্টে বাক-বিতন্ডার তোড়ে কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। তাহের তখন বলেন- ' কোন অধিকারে আমাকে ফাঁসি দেবেন? আমাকে মুক্তি দেয়ার কিংবা সাজা দেয়ার কোন ক্ষমতাই আপনাদের নেই।')&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েকদিন রাখার পর আমাকে হেলিকপ্ারে করে রাজশাহী জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে একটা নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। আজ পর্যন্ত আমার পরিবারের কোন সদস্য আমার সঙ্গে দেখা করারা অনুমতি পায়নি। কিন্তু জেলে থাকলেও দেশের নাড়ী আমি ঠিকই উপলব্ধি করতে পারি। দেশের জন্য এখন এক চরম সংকটের সময়। আমাদের সামনে এখন দুটো জরুরি সমস্যা। একদিকে একটা রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্য ভারতে পালিয়ে যেয়ে সীমান্ত সশন্ত্র সংঘর্ষের অবতারণা করছে। অন্যদিকে ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত গঙ্গার পানির বন্ধ করে দিয়েছে। দুটো সমস্যাই এদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক বুনিয়াদের মূলে সরাসরি হুমকির নামান্তর। নির্জনে কারারুদ্ধ অবস্থায় উপর্যুপরি লাঞ্ছনার মুখেও এই হুমকির প্রতিবাদ জানাতে আমার দেরী হয়নি। ১৯৭৬ সালের দশ মে আমি রাষ্ট্রপতির কাছে একটা চিঠি পাঠাই সেই চিঠি আমি এখানে পড়ে শোনাতে চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(আদালত তাহেরকে এই চিঠি পড়তে দেয় নি। ট্রাইব্যুনাল আরো জানায় যে বক্তব্য সংক্ষেপ করার আশ্বাস না দিলে তাঁকে এমনকি বক্তব্য পেশ করতেও দেয়া হবে না। এরপর বিবাদি পক্ষের প্রধান আইনজীবীদের হস্তক্ষেপের পর তাহেরকে কথা বলার অনুমতি দেয়া হয়। তাহেরের আইনজীবী আদালতে বলেন- 'অনুগ্রহ করে তাঁকে (বক্তব্য দেয়ার) অনুমতি দিন। এ ট্রাইব্যুনালের অবশ্যই অধিকার আছে (তাঁকে) সেই সুযোগ না দেয়ার, কিন্তু তিনি প্রধান বিবাদি; যত বড়োই হোক না কেন বক্তব্য উপস্থাপন করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তাঁকে দিতেই হবে।')&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনাব চেয়ারম্যান ও মামলার সমম্ানিত সদস্যবৃন্দ। রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা চিঠিতে আমার ইচ্ছার প্রকাশ হয়েছে। এ ইচ্ছা নিজ দেশকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একজন সাধারণ নাগরিকের দৃঢ় সংকল্পের দলিল। আমি একজন মুক্ত মানুষ। নিজের যোগ্যতা দিয়ে আমি এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই জেলের উঁচু দেয়াল, এই নির্জন কারাবাস, এই হাতকড়া কিছুই সেই স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাইশে মে আমাকে রাজশাহী থেকে হেলিকটপ্ারে করে এই জেলে আনা হয় এবং সরাসরি একটা নির্জন সেলে আটকে রাখা হয়। গোটা জেলখানাই যেন ছিল এক রহস্যঘেরা নিরবতায় ভরা। এখানে আসার পর থেকেই আমাকে আর অন্যান্যদের বিচার করার কথা শুনতে পাচ্ছিলাম; জেলের ভেতরে এক বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে। ইতোমধ্যেই নাকি বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল আইনও জারি করা হয়েছে। পনের জুন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে জেলের ভেতরে দেখা করেন। আমি ট্রাইব্যুনালে উপস্িথত হতে অস্বীকৃতি জানাই। জেলের ভেতর সামরিক ট্রাইব্যুনাল বিচারের নামে সরকারী প্রহসন ছাড়া আর কি হতে পারে। একুশে জুন চারজন আইনজীবী আমার সঙ্গে জেলের ভেতরে দেখা করেন। তাঁরা আমাকে আশ্বাস দেন যে ন্যায় বিচার করা হবে; সরকারী কোন রকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই ট্রাইব্যুনাল তার কাজ করবে। শুধু মাত্র এই আশ্বাসের পরই আমি আদালতের সামনে হাজির হতে রাজি হই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই। যেই অধ্যাদেশের আওতায় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ অবৈধ। এই অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল ঊনিশ শ' ছিয়াত্তরের পনের জুন। অথচ পনের জুন ট্রাইব্যুনাল কারাগার পরিদর্শন করে। তাহলে ট্রাইব্যুনাল নিচশ্য়ই আরো আগে গঠিত হয়েছে। নাহলে পনের তারিখে কাজ করে কিভাবে? এছাড়া জেলের ভেতরে আদালত গঠনের জন্য তো সেই জুনের বারো তারিখ থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর এই তো আমি। আমাকে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এমনকি চার্জশীট দেখার কোন সুযোগও আমার হয় নি। আমার পরিবারের কাউকে আমার সঙ্গে দেখা করতে পর্যন্ত দেয় নি। আর যেভাবে এ বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সম্পর্কে যতো কম বলা যায় ততই ভাল। পুরো ব্যাপারটা কর্তৃপক্ষ সন্তন্ত্র ভঙ্গিতে তাড়াহুড়া করে করেছে যে তা জানলে যে কেউ অবাক হবেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার এবং কিছু বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে ১৯৭৪ সালের জুলাই থেকে আমরা আইনসিদ্ধ বৈধ সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিলাম। আমি সশস্ত্র বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ও বিরোধ সৃষ্টি করেছি বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ঊনিশ শ' পঁচাত্তর এর সাতই নভেম্বর একটা সরকারকে উৎখাত করেছি বলে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে আমি একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক নই। জনাব চেয়ারম্যান ও ট্রাইব্যুনালের সদস্যবৃন্দ, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু রয়েছে সে সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে চাই না। অভিযোগগুলো এতই মিথ্যা বানোয়াট যে, সে সম্পর্কে কিছু বলার কোন ইচ্ছই আমার নেই। যারা আওয়ামী লীগ সবকারের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন তাদের স্পষ্ট মনে আছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশের কি অবস্থা হয়েছিল। গণনিপীড়ন, আমলাতান্ত্রিক অর্থনীতি, অরাজকতা আর গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার লংঘন ছিল প্রতিদিনকার ঘটনা। আইন শৃঙ্খলার কোন বালাই ছিল না। এরকম প্রতিকুল রাজনৈতিক পরিবেশে জাসদ ও অন্যান্য গণসংগঠনগগুুলো একটা ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। দেশপ্রেমের নায়ক.রাজারা তখন কোথায় ছিলেন? কোথায় ছিল জিয়াউর রহমান? কোথায় ছিল মোশাররফ খান আর এম.জি. তাওয়াব? কি করছিল তারা?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমি বৈধভাবে ক্ষমতা লাভকারী সরকারকে উৎখাত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছি। কিন্তু মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করেছিল কারা? কারা সেই সরকারকে উৎখাত করেছিল? মুজিবের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে কে ক্ষমতায় এসেছিল? মুজিবের পতনের পর সেনাবাহিনী প্রধান কে হয়েছিল? এখানে অভিযুক্তদের কেউ কি এসব ঘটিয়েছিল? নাকি এখানে উপবিষ্ট আপনারা এবং তারা- যাদের আজ্ঞা আপনি পালন করে যাচ্ছেন, তারাই কি মুজিব হত্যার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হন নি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেনাবাহিনীতে বিরোধ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। কিন্তু পনেরই আগস্ট এবং তেসরা নভেম্বর সেনাবাহিনীতে কি ঘটেছিল? তারা কোন মেজররা যারা সিনিয়র অফিসারদের হুকুম দিয়ে বেড়াতো? তিন নভেম্বরের পর কারা সেনাবাহিনীর কমান্ডের সমস্ত নিয়ম কানুনকে ভেঙ্গে দিয়েছিল? বন্দি জিয়া কার কাছে প্রাণ রক্ষার জন্য খবর পাঠিয়েছিল? হ্যাঁ, অবশ্যই আমার নির্দেশে এক সিপাহি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াকে মুক্ত করা হয়। আমাদের প্রধান কর্তব্য ছিল জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সংহত করা। এর জন্য সৈনিকদের সংগঠিত করে তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হয়েছিল। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমি এই কাজে সফল হয়েছিলাম। এই জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা এক মহাদুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করেছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমি একটা বৈধ সরকারকে উৎখাত করেছি। হ্যাঁ, এটা সত্য। সাতই নভেম্বরের আগে কে ক্ষমতায় এসেছিল? খালেদ মোশাররফ কাদের প্রতিনিধিত্ব করছিল? কে জিয়াকে গ্রেফতার করেছিল? ভয়ার্ত জনতা কার উৎখাত কামনা করেছিল? জাতীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ও জাতিকে একটা নতুন পথের দিশা দিতে আমরা বিপ্লবী সিপাহি জনতার সঙ্গে মিলে বিশ্বাসঘাতক খালেদ মোশাররফ চক্রকে উৎখাত করেছিলাম। আমি একজন অনুগত নাগরিক নই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একজন মানুষ যে তার রক্ত ঝরিয়েছে, নিজের দেহের একটা অঙ্গ পর্যন্ত হারিয়েছে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তার কাছ থেকে আর কি আনুগত্য তোমরা চাও? আর কোনভাবে এদেশের প্রতি আমার আনুগত্য প্রকাশ করব? আমাদের সীমান্তকে মুক্ত রাখতে, সশস্ত্র বাহিনীর সণ্মান আর জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখবার ইচ্ছায় ঐতিহাসিক সিপাহি অভুত্থান পরিচালনা করতে যে পঙ্গু লোকটি নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছিল তার কাছ থেকে আর কি বিশেষ আনুগত্য তোমাদের পাওনা?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ জন্যই আমি ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করেছিলাম মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, রিয়ার.অ্যাডমিরাল এম.এইচ. খান, এয়ার ভাইস.মার্শাল এম. জি. তাওয়াব, জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানী ও বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েমকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার জন্য। তারা যদি এখানে আসতেন, ট্রাইব্যুনালের যদি ক্ষমতা থাকতো এখানে আনার তাহলে আমি নিচশ্ন্ত যে তারা এমন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের সামনে দাঁড়াতে সাহস পেত না। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনাল  তার দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশ ও জাতির সঙ্গলের লক্ষ্যে পরিচালিত নয় যে আইন সে আইন কোন আইন-ই নয়। ছিয়াত্তরে পনের জুন যে অধ্যাদেশের জারি হয়েছে তা একটা কালো আইন। শুধু মাত্র সরকারের খেয়াল-খুশীর প্রয়োজন মেটাতেই এই অধ্যাদেশ জারিকৃত হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী অধ্যাদেশ। এই ট্রাইব্যুনালের তাই আমাকে বিচার করার কোন আইন সমম্ত বা নীতিগত ভিত্তি নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একুশে জুনের পর থেকে এই বিচার শুরু হওয়ার দিন পর্যন্ত যে সব ঘটনা ঘটেছে আমি এখন সেগুলো বলতে চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(তাহেরকে তাঁর বক্তব্যের এই অংশ রাখতে দেয়া হয়নি। তাহের বলেন, তিনি কখনোই এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মতো এমন নীচ চরিত্রের লোক দেখে নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একনিষ্ঠ অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে মানব সভ্যতা ভালো যা কিছু অর্জন করেছে এই ট্রাইব্যুনালের কীর্তিকলাপ তার সব মলিন করে দিয়েছে।)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষ করার আগে বলতে চাই ছয় ও সাতই নভেম্বরের মাঝের রাত্রিতে ও  সাত তারিখ দিনে যা হয়েছে তার সবই আমি বিস্তারিতভাবে বলেছি। এখন হয়তো ট্রাইব্যুনাল বুঝতে পারবেন কেন আমি সায়েম, জিয়া, এম.এইচ. খান, তাওয়াব আর ওসমানীকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে বলেছিলাম। তারা এখানে এসে বলুন আমি যা বলেছি তার কোথাও একবর্ণ মিথ্যা আছে কিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার সঙ্গে এ মামলায় অভিযুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্বন্ধে আমার কিছু বলবার আছে। তাদের প্রতি আমার একটা দায়িত্ব রয়েছে। যদি তারা কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে  এদের বিচার করা উচিত ছিল সশস্ত্র বাহিনীর আইন অনুযায়ী এবং সার্ভিস রুলসের আওতায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শুরুর দিকে আমি তার একজন অন্যতম উচ্চপদস্থ অফিসার ছিলাম। বড়ো দুঃখ হয়। এই সামরিক জান্তা আর তাদের জঘন্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে যেয়ে এভাবে সেনাবাহিনী পঙ্গু হয়ে যাবে। এইসব যুবকেরা সত্যিকারের বীর। তাঁদের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাড়ে সাত কোটি মানুষের এই জাতি মরতে পারে না। বাংলাদেশ বীরের জাতি। সাতই নভেম্বরের অভ্যুত্থান থেকে তাঁরা যেই শিক্ষা ও দিক নির্দেশনা পেয়েছে তা ভবিষ্যতে তাঁদের সব কাজে পথ দেখাবে। জাতি আজ এক অদম্য প্রেরণায় উদ্ভাসিত। যা করে থাকি না কেন তার জন্য আমি গর্বিত। আমি ভীত নই। জনাব চেয়ারম্যান, শেষে শুধু বলবো, আমি আমার দেশ ও জাতিকে ভালবাসি। এ জাতির প্রাণে আমি মিশে রয়েছি। কার সাহস আছে আমাদের আলাদা করবে। নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর কোন বড় সম্পদ নেই। আমি তার অধিকারী। আমি আমার জাতিকে তা অর্জন করতে ডাক দিতে যাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিপ্লব দীর্ঘজীবী হউক! &lt;br /&gt;দীর্ঘজীবী হউক স্বদেশ!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-4781127315255084899?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/4781127315255084899/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=4781127315255084899' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4781127315255084899'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4781127315255084899'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2009/10/blog-post.html' title='সামরিক আদালতে প্রদত্ত তাহেরের জবানবন্দি'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-8303187447601638421</id><published>2009-03-24T01:48:00.004+06:00</published><updated>2009-07-17T18:55:40.589+07:00</updated><title type='text'>পল্টন ময়দানে ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ -এ প্রকাশ্যে রাজাকারদের উপর বেয়নেট চার্জ</title><content type='html'>পল্টন ময়দানে ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ -এ প্রকাশ্যে রাজাকারদের উপর বেয়নেট চার্জের ছবি:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBmj9Ddf7I/AAAAAAAAA08/0F9QSVOhyGA/s1600-h/6211.jpg"&gt;&lt;img style="cursor: pointer; width: 320px; height: 212px;" src="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBmj9Ddf7I/AAAAAAAAA08/0F9QSVOhyGA/s320/6211.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5359396324441423794" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২.&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://1.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmA2SZzR0TI/AAAAAAAAA0s/CUH5g5nseZE/s1600-h/44137_1.jpg"&gt;&lt;img style="cursor: pointer; width: 219px; height: 286px;" src="http://1.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmA2SZzR0TI/AAAAAAAAA0s/CUH5g5nseZE/s320/44137_1.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5359343246362399026" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩.&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://newsimg.bbc.co.uk/media/images/44772000/jpg/_44772339_bangladesh_war_apbody.jpg"&gt;&lt;img style="cursor: pointer; width: 226px; height: 282px;" src="http://newsimg.bbc.co.uk/media/images/44772000/jpg/_44772339_bangladesh_war_apbody.jpg" alt="" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-8303187447601638421?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/8303187447601638421/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=8303187447601638421' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/8303187447601638421'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/8303187447601638421'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2009/03/blog-post_24.html' title='পল্টন ময়দানে ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ -এ প্রকাশ্যে রাজাকারদের উপর বেয়নেট চার্জ'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBmj9Ddf7I/AAAAAAAAA08/0F9QSVOhyGA/s72-c/6211.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-5650333364919602075</id><published>2009-03-08T10:02:00.008+06:00</published><updated>2009-03-08T14:37:17.112+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পিলখানা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='আর্মি'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মিটিং'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='officer'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সেনাবাহিনী'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='হাসিনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='meeting'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='audio'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='army'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='hasina'/><title type='text'>প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বৈঠক।</title><content type='html'>২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় বেশ কিছু সামরিক কর্মকর্তা নিহত হবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখা করতে গিয়েছিলেন বিক্ষুদ্ধ সেনা কর্মকর্তাদের সাথে। সেখানে সামরিক কর্মকর্তাগণ বেশ কিছুটা রূক্ষ ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন। নিজেদের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিয়ামুবর্তি বলে দাবি করা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তর থেকে সে বৈঠকের অডিও রেকর্ডিং ফাঁস হয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেনাবাহিনী এবং সরকার পড়ে বেকায়দায়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার আগে কিছুই করতে না পেরে সরকার এক মুর্খ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যেখানে youtube.com , esnips.com , mediafire.com এবং upload-mp3.com নামের কমপক্ষে চারটি সাইট ৭ মার্চ ২০০৯ থেকে বিটিসিএল থেকে বন্ধ করে রাখা হয় এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ পড়েন ভোগান্তিতে। এহেন সেন্সরশীপের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেইসাথে নিজেরদের সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার দাবি করা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠক থেকে এই রকম গোপনীয় ও স্পর্শকাতর অডিও কি করে ফাঁস হল তা তদন্ত না করে জনগণের জানার অধিকারের উপর হস্তক্ষেপে নিন্দা জানাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেই বৈঠকের আলোচনা শুনতে ( সর্বমোট ১ ঘন্টা ৮ মিনিট) নিচে প্লেবাটন চাপুন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;object width="287" height="249" class="BLOG_video_class" id="BLOG_video-34ce0e938202586d" classid="clsid:D27CDB6E-AE6D-11cf-96B8-444553540000" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"&gt;&lt;param name="movie" value="http://www.youtube.com/get_player"&gt;&lt;param name="bgcolor" value="#FFFFFF"&gt;&lt;param name="allowfullscreen" value="true"&gt;&lt;param name="flashvars" value="flvurl=http://v4.nonxt4.googlevideo.com/videoplayback?id%3D34ce0e938202586d%26itag%3D5%26app%3Dblogger%26ip%3D0.0.0.0%26ipbits%3D0%26expire%3D1330169511%26sparams%3Did,itag,ip,ipbits,expire%26signature%3D120C52CDF70D95EB46BD7230D7EC52AF740F5C42.6DE911E1102747ECB8C449B741D454E362FEF1D1%26key%3Dck1&amp;amp;iurl=http://video.google.com/ThumbnailServer2?app%3Dblogger%26contentid%3D34ce0e938202586d%26offsetms%3D5000%26itag%3Dw160%26sigh%3Dbs_3zlbvypuyRRAm8iuP8CjSquY&amp;amp;autoplay=0&amp;amp;ps=blogger"&gt;&lt;embed src="http://www.youtube.com/get_player" type="application/x-shockwave-flash"width="287" height="249" bgcolor="#FFFFFF"flashvars="flvurl=http://v4.nonxt4.googlevideo.com/videoplayback?id%3D34ce0e938202586d%26itag%3D5%26app%3Dblogger%26ip%3D0.0.0.0%26ipbits%3D0%26expire%3D1330169511%26sparams%3Did,itag,ip,ipbits,expire%26signature%3D120C52CDF70D95EB46BD7230D7EC52AF740F5C42.6DE911E1102747ECB8C449B741D454E362FEF1D1%26key%3Dck1&amp;iurl=http://video.google.com/ThumbnailServer2?app%3Dblogger%26contentid%3D34ce0e938202586d%26offsetms%3D5000%26itag%3Dw160%26sigh%3Dbs_3zlbvypuyRRAm8iuP8CjSquY&amp;autoplay=0&amp;ps=blogger"allowFullScreen="true" /&gt;&lt;/object&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-5650333364919602075?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='enclosure' type='video/mp4' href='http://www.blogger.com/video-play.mp4?contentId=34ce0e938202586d&amp;type=video%2Fmp4' length='0'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/5650333364919602075/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=5650333364919602075' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/5650333364919602075'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/5650333364919602075'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2009/03/blog-post.html' title='প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বৈঠক।'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-4510047396239929404</id><published>2009-02-07T13:45:00.005+06:00</published><updated>2009-07-17T19:20:02.527+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গুয়ানতানামো'/><title type='text'>গুয়ানতানামোয় মোবারকের বন্দিজীবন</title><content type='html'>&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(204, 0, 0);"&gt;প্রকাশ:&lt;/span&gt; প্রথম আলো, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(0, 0, 0);font-size:130%;" &gt;গুয়ানতানামোয় মোবারকের বন্দিজীবন&lt;/span&gt;  &lt;span style="font-style: italic;"&gt;&lt;br /&gt;টিপু সুলতান ও বদর উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফিরে&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://1.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBsRrEI1-I/AAAAAAAAA1M/VL_8NtQW3RM/s1600-h/Guyan.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0px auto 10px; display: block; text-align: center; cursor: pointer; width: 400px; height: 169px;" src="http://1.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBsRrEI1-I/AAAAAAAAA1M/VL_8NtQW3RM/s400/Guyan.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5359402607444547554" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;�রাক্ষসের মতো কুকুরগুলোর শেকল একটু ঢিলা হলেই বুকটা ধক করে উঠত। এই বুঝি ছিঁড়ে-ছুড়ে খেয়ে ফেলবে। সেনারা টয়লেটের কমোডের ভেতর মুখ চেপে ধরে ফ্লাশ করে দিত। নাকে-মুখে ঢুকে যেত ময়লা। নগ্ন করে শুইয়ে রাখত বরফের মতো ঠান্ডা মেঝেতে। আবার কখনো কখনো পাথরের কঙ্করের ওপর উপুড় করে মুখ চেপে ধরত। জীবনের অনেক কিছুর বর্ণনা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরে নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়া কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ যেন সাক্ষাৎ দোজখ।�  এই বর্ণনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামের মোবারক হোসেন বিন আবুল হাশেমের। কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত গুয়ানতানামো বে-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কারাগারে পাঁচ বছর বন্দী ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার দুই মাসের মাথায় পাক-আফগান সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশি নাগরিক মোবারক। ২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি সেখান থেকে ছাড়া পান।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিশ্বব্যাপী বিতর্কিত গুয়ানতানামো কারাগারটি বন্ধ করে দেন। এই খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক খুশি। সম্প্রতি মৈন্দ গ্রামের নিজ বাড়িতে প্রথম আলোর কাছে পাঁচ বছরের বন্দিজীবনে রোমহর্ষক নির্যাতনের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি এ জন্য বারাক ওবামাকে অভিনন্দনও জানান।  মোবারক প্রথম আলোকে বলেন, গুয়ানতানামোয় তাঁর একেকটা দিন যেন ছিল একেকটা বছর। হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা থাকত। কারও কোনো নাম ছিল না। পরিচয় বলতে হাতে বাঁধা ব্যান্ডে লেখা কয়েদি নম্বর। এই নম্বর ধরে ডাকা হতো। তাঁর নম্বর ছিল ১৫১। মোবারক বলেন, �কারাগারে দায়িত্বরত মার্কিন সেনারা ডাকত �ওয়ান ফিফটি ওয়ান� বলে। আর ডাক পড়া মানেই আবার নগ্ন করে তল্লাশি, নতুন নতুন কায়দায় নির্যাতন। সেসব নির্যাতনের কথা মনে হলে এখনো অাঁতকে উঠি।� মার্কিন সেনাদের মূল জিজ্ঞাসা ছিল, কেন আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন মোবারক।  মোবারকের পাকিস্তান গমন: মোবারক ঢাকার মোহাম্মদপুর জামেয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় পড়তেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ও তাঁর চাচা গিয়াস উদ্দিন ঢাকার এক মাওলানার সহায়তায় পর্যটন ভিসায় পাকিস্তানে যান এবং নিউ করাচির জামিয়া আনোয়ারুল কোরআন মাদ্রাসায় ফিকহশাস্ত্রে (ইসলামি আইন) ভর্তি হন। সেখানে তাঁরা তিন বছর লেখাপড়া করেন।  ঢাকার যে মাওলানার মাধ্যমে মোবারক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, তাঁর নাম তিনি ভুলে গেছেন বলে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন। মোবারকের বাবা আবুল হাশেম ওরফে আবু হাশিম ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে তিনি প্রথমে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে গুয়ানতানামোয় বন্দী আছেন। মোবারকের বাবা ঢাকার সাতমসজিদ রোডে গ্রাফিক আর্ট কলেজ মসজিদের ইমাম।  আফগানিস্তানে কেন: মোবারক প্রথম আলোকে জানান, ২০০১ সালের ডিসেম্বরে রোজার মাসের শেষ দিকে তিনি করাচি থেকে কোয়েটা যান। সেখান থেকে বুলদাগ সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তাঁর বন্ধুর বাড়ি যান। তাঁর এই আফগান বন্ধুর নাম রফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি চার দিন থাকেন।   তখন তো তুমুল যুদ্ধ চলছিল। ওই অবস্থায় আফগানিস্তানে গেলেন কেন? জবাবে মোবারক বলেন, সাহাবিদের কবর জিয়ারত করা ছিল তাঁর বড় উদ্দেশ্য। তাঁর বন্ধু তালেবান সরকার পতনের পর যেতে বলেছিল। মোবারকের দাবি, মার্কিনবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিতে তিনি কাবুলে যাননি।  সেখানে কোন কোন সাহাবির কবর আছে জানতে চাইলে মোবারক বলেন, �বেশ কয়েকজন সাহাবির কবর আছে। কয়জনের কথা বলব।� তিনি জায়গার নামও বলতে পারেননি।  যেভাবে গ্রেপ্তার: মোবারক দাবি করেন, চার দিন পর কাবুল থেকে জালালাবাদ হয়ে পেশোয়ার সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে ঢোকেন। সেদিন ছিল ঈদ। সীমান্ত থেকে ৩০ মিনিটের হাঁটা পথ পেরিয়ে একটি মসজিদ পান। সেখানে ফজর নামাজ শেষে এক যুবকের কাছে করাচি যাওয়ার সহজ পথ জানতে চান। যুবক জানালেন, তিনিও করাচি যাচ্ছেন। মোবারক চাইলে ওদের গাড়িতে যেতে পারেন। পরে ওই যুবক গাড়ি নিয়ে একটি থানায় ঢোকেন এবং মোবারককে পুলিশে হস্তান্তর করেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কোহাট কারাগারে। দুই সপ্তাহ পর তিনিসহ আরও আট-নয়জনকে সামরিক ট্রাকে করে পেশোয়ার বিমানবন্দরে নিয়ে মার্কিন সেনাদের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তানের গোয়েন্দারা।  মোবারক বলেন, তারপর একটি হেলিকপ্টারে করে তাঁদের আফগানিস্তানের কান্দাহারে আমেরিকার সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।  কান্দাহার থেকে নির্যাতন শুরু: �হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে চোখ খুলে দেওয়া হয় বন্দীদের। জামা-কাপড় ছুরি দিয়ে কেটে খুলে নেওয়া হয়। সবাই তখন নগ্ন। চুল, দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে ফেলা হয়। এরপর আচমকা শুরু করে মারধর। তুলে আছাড় মারা। মনে হচ্ছিল মেরে ফেলবে। কলেমা পড়লাম। কখন যে হুঁশ হারালাম জানি না। হুঁশ আসার পর দেখি, একটি লোহার বড় কনটেইনারের ভেতর আছি। সঙ্গে বাকিরাও। তারা আরব ও আফগান। খাওয়া-পানি ছাড়া এভাবে এক দিন পার হলো। শরীর ফুলে ব্যথায় টনটন করছিল। একজন দোভাষী এসে বলে গেল, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবে না।�   মোবারক বলে যান, �এক দিন পর আমাদের একটি তাঁবুতে নেওয়া হয়। এক তাঁবুতে ২০ জন বন্দী। খাবার জনপ্রতি সকালে অর্ধেক রুটি, এক মগ চা। বিকেলেও একই খাবার। খাবার দিলেও ঘুমাতে দেয়নি তারা। চোখ বন্ধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার−ওয়েক আপ (ঘুম থেকে ওঠ্)। প্রথম প্রথম শব্দটার অর্থ বুঝতাম না। তখন সেনারা এসে লাথি মেরে তুলে দিত�−বললেন মোবারক।  তারপর গুয়ানতানামো: দুই সপ্তাহ পর মোবারকদের ২০ জনকে চোখ বেঁধে একটি বিমানে তোলা হয়। হাত-পাও শিকলে বাঁধা। মাঝখানে একবার বিমান বদল হয়। তারপর গুয়ানতানামো কারাগারে। পৌঁছানোর পর সবার নাম-ঠিকানা লেখা হয়। আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়। মোবারকের ভাষায়, �সবার হাতে ব্যান্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাতে কয়েদি নম্বর লেখা। আমার নম্বর ১৫১। এটাই ছিল আমার পরিচয়।�   �তারপর সবাইকে মাঠে নগ্ন দাঁড় করানো হয়। তারপর শিকলে বাঁধা বড় বড় কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়। শিকলের এক প্রান্ত সেনাদের হাতে। ঘেউঘেউ শব্দে শরীর হিম হয়ে আসে। গায়ের কাছে এসে কুকুর এমনভাবে লাফায়, বুঝি, নাগাল পেলে খেয়ে ফেলবে। পেছনে সরার উপায় নেই। হাত-পা বাঁধা।� মোবারক বলে যান, �কিছুক্ষণ পর অন্য একদল সেনা এসে শুরু করল মারধর। হুঁশ ফেরার পর দেখি নাকে-মুখে রক্ত। শরীর ফুলে ডোল। তারপর গোসল করিয়ে সবাইকে আলাদা সেলে রাখা হয়। দেওয়া হয় প্যাকেট করা শুকনা খাবার।�  মোবারক জানান, প্রথমে তিনি একাকী এক সেলে ছিলেন আড়াই মাসের মতো। মাঝে মাঝে সেনারা তল্লাশি করত। তিনি বলেন, �সেলে একটি কম্বল আর টয়লেটের কাজের জন্য দেওয়া একটি প্লাস্টিকের বালতি ও মগ ছাড়া কিছু ছিল না; তবুও তল্লাশি চলত। তল্লাশির সময় আরেক দল সেনা এসে আমাদের বাইরে নিয়ে নগ্ন করে মারধর করত। আড়াই মাস পর এই আজাব শেষ হয়। কিন্তু নিয়ে যায় আরেক দোজখে। তার নাম ক্যাম্প ডেল্টা। হিম ঠান্ডা ঘর। কাপড় নেই, কম্বল নেই; খালি গা। মনে হতো ওই ঠান্ডা ঘরের চেয়ে আগের দোজখ অনেক ভালো ছিল।�  ঠান্ডা ঘরে এক মাস রাখার পর মোবারকদের নেওয়া হয় আরেকটি নির্যাতন সেলে। এক মাস পর সেখান থেকে অন্য ব্লকে। লম্বা সেল। তিন দিক খোলা। কাঁটাতারে ঘেরা। প্রতিটি সেলে দুটি সারিতে ৪৮ জন বন্দী। সবাইকে পরানো হয় গাঢ় কমলা রঙের পোশাক। হাতে-পায়ে শিকল। সেখানে মোবারকেরা প্রথম রান্না করা খাবার পান।  মোবারক জানান, �এখানে আসার পর নির্যাতন নতুন মাত্রা পায়। এবার শুধু শারীরিক নয়, মানসিক পীড়নও চলত। কয়েক দিন পর পর একেকজনের ডাক পড়ত। জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলত নানা নির্যাতন। কঙ্করওয়ালা মাঠে আছড়ে ফেলে মুখ চেপে ধরা হতো। পাথরের আঘাতে রক্ত বের হয়ে আসত। হাত-পা এমনভাবে মোচড়াত যেন ভেঙে ফেলবে। কত রকম নির্যাতনের কথা বলব। এসব মনে পড়লে এখনো অাঁতকে উঠি।�   মোবারক এখন: মোবারকের শরীর এখনো পুরোপুরি ভালো হয়নি। হাত-পায়ের জোড়ায় জোড়ায় প্রায়ই ব্যথা করে বলে জানান তিনি।  ২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পান মোবারক। দুই দিন পর মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত এবং এ দেশের জঙ্গিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে বিমানবন্দর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা হয়। আদালতে থেকে জামিন নিয়ে তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে মুক্তি পান ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।  মোবারকের বয়স এখন ৩৭ বছর। দেশে এসে তিনি বিয়ে করেন। তাঁর পাঁচ মাসের একটি কন্যা সন্তান আছে। থাকেন গ্রামে। বাড়ির পাশে হাফেজ আবদুর রউফ মদীনাতুল উলুম নুরানী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।  আরও দুই বাঙালি: মোবারক জানান, গুয়ানতানামোয় তিনি আরও দুজন বাঙালির দেখা পেয়েছিলেন। তাঁরা খুব অল্পদিন একই সেলে ছিলেন। একজনের নাম রহুল আহমেদ। সিলেটে আদি বাড়ি হলেও তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। আরেকজনের বাড়ি ফেনী। তাঁর নাম মোবারকের মনে নেই। এই দুজনের ভাগ্যে কী হয়েছে, মোবারক জানেন না।  প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশি ওই বন্দীর নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন। জন্ন ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি ফেনীতে।  কিছু প্রশ্ন: মোবারক গ্রেপ্তার হওয়া ও আফগানিস্তানে যাওয়ার যে কারণ বলেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০০৬ সালে মার্কিন সরকার গুয়ানতানামো বন্দীদের আংশিক তালিকা প্রকাশ করে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর খবর অনুযায়ী, মোবারক আফগানিস্তান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া তুমুল যুদ্ধের মধ্যে অচেনা পথে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। মোবারকের ভাষ্য অনুযায়ী, যাওয়ার আগে বন্ধুর সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ হয়নি, কোনো দিন আফগানিস্তানে যাননি। একা একা শুধু ঠিকানা ধরে এক সীমান্ত দিয়ে যাওয়া, আবার আরেক সীমান্ত ধরে পাকিস্তান ফেরার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি মোবারক।  তবে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, মোবারক আফগানিস্তানে আরব মুজাহিদদের একটি ক্যাম্পে বাবুর্চির কাজ করতেন।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-4510047396239929404?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/4510047396239929404/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=4510047396239929404' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4510047396239929404'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4510047396239929404'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2009/02/blog-post.html' title='গুয়ানতানামোয় মোবারকের বন্দিজীবন'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SmBsRrEI1-I/AAAAAAAAA1M/VL_8NtQW3RM/s72-c/Guyan.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-3371689163934870315</id><published>2008-12-26T22:36:00.004+06:00</published><updated>2008-12-26T22:45:26.725+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বীরাঙ্গনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মুক্তিযুদ্ধ'/><title type='text'>বীরাঙ্গনাদের মানবেতর জীবন: অপেক্ষা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের</title><content type='html'>&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(204, 0, 0);font-size:130%;" &gt;&lt;span style="font-size:100%;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;প্রকাশ: &lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;a href="http://www.shaptahik.com/new_details.php?news_id=1149"&gt;&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);font-size:130%;" &gt;&lt;span style="font-size:100%;"&gt;&lt;span style="color: rgb(0, 0, 0);"&gt;সাপ্তাহিক, (সাপ্তাহিক পত্রিকা), ২৫ ডিসেম্বর ২০০৮, বর্ষ ১ সংখ্যা ৩২&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(204, 0, 0);font-size:130%;" &gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:180%;"&gt;বীরাঙ্গনাদের মানবেতর জীবন অপেক্ষা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.shaptahik.com/news_images/25-12-2008_1149_korimon-08.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer; width: 250px; height: 166px;" src="http://www.shaptahik.com/news_images/25-12-2008_1149_korimon-08.jpg" alt="" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে দেশকে শত্রু মুক্ত করে স্বাধীন করবেন বলে। জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গ্রামে শহরে পাকিস্তানি মিলিটারিরা মানুষ খুন করছে, ধর্ষণ করছে; জ্বালিয়ে দিচ্ছে ঘরবাড়ি। পাকিস্তানি এই জল্লাদদের সঙ্গে করে বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে বাঙালি রাজাকার আল বদর। এই রাজাকার আল বদররা শুধু মানুষ হত্যা কিংবা ঘরবাড়ি জ্বালানোর কাজেই পাকিস্তানি বর্বর জল্লাদদের সহায়তা দেয়নি। মেয়েদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গেছে পাকিস্তানি মিলিটারিদের উপঢৌকন হিসাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা যুদ্ধ একদিন শেষ হয়েছে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে স্বাধীন দেশ হিসাবে। ’৭১-এর পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে নির্যাতিত এসব নারীকে ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি দিয়েছেন। ‘নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নামে কেন্দ্রে বীরাঙ্গনাদেরকে পুনর্বাসন করে বঙ্গবন্ধু সরকার। এই কেন্দ্রের মূল সংগঠক ছিলেন ড. নীলিমা ইব্রাহীম। অন্যান্য জেলার মতো সিরাজগঞ্জেও  নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু হয়। কাজ শুরু করেন সখিনা হোসেন ও সাফিনা লোহানী। বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ৩০ জন বীরাঙ্গনাকে বের করেন এই দুই নারী। ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ভাষণে এই ৩০ জন বীরাঙ্গনাকে সঙ্গে নিয়ে এক মঞ্চে ভাষণ দিলেন। বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদেরকে মা বলে অভিহিত করলেন। সেদিনকার সেই স্মৃতি ছাড়া বীরাঙ্গনাদের ঝুলিতে আনন্দের-সুখের ও সম্মানের কোনো স্মৃতি নেই। এর পর ১৯৭৫ সাল। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেন। বন্ধ করে দেয়া হলো পুনর্বাসন কেন্দ্রটি। সমাজে বীরাঙ্গনারা চরম অবহেলা আর ঘৃণার পাত্র হিসাবে বিবেচিত হতে থাকলেন। এ রকম সময় এগিয়ে আসেন নারী সংগঠক সাফিনা লোহানী। তৈরি করেন উত্তরণ নামে একটি বেসরকারি সেবা সংস্থা। ফান্ডের অপ্রতুলতা আর বৈরী পরিবেশে কাজ করে যাচ্ছে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে উত্তরণ। ৩০ বীরাঙ্গনার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পরে সকলের যেমন জানাজা বা দাহ হয়। এ সব বীরাঙ্গনাদের ক্ষেত্রে তেমনটি হয়নি। তাদের জানাজায় কেউ আসেনি। ক্ষমতাবানেরা এদেরকে দেখে অচ্ছুত হিসেবে, খারাপ মানুষ হিসেবে। সিভিল সোসাইটি, শিক্ষিতরা তাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আখ্যা দেয়। অথচ এই শ্রেষ্ঠ সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি হননি সিরাজগঞ্জে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও তাই পান না এ বীরাঙ্গনারা। বৃদ্ধ ভাতা, ভিজিএফ কার্ড কোনোটাই তাদের কপালে জোটেনি। এদের ভাগ্যে তাই জুটেছে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়। গরু-ছাগলের পাশে কোনোমতে জড়োসড়ো হয়ে রাত কাটান এসব বীরাঙ্গনা। এদের মধ্যে হাসনা বানু মারা গেছেন গত বছরে। জানাজায় অংশ নেয়নি কেউ। মৃত্যুর আগে যার সঙ্গে দেখা হতো তাকেই বলতেন, আল্লায় আমাকে রাজাকারদের বিচার দেখাল না। এসব ক্ষত নিয়ে অর্ধমৃত হয়ে বেঁচে আছেন বীরাঙ্গনারা। যারা বলে দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি, তাদের সম্পর্কে বীরাঙ্গনা রাহেলা আমাদের বলেছেন, আমাদের নিয়ে যাইয়েন আমরা বলব, কারা রাজকার আছিল, আমরা বলব।’ রাষ্ট্র এদের কথা শুনবে কিনা জানি না, তবে সাধারণ বাঙালি হিসেবে আমরা চাই এই নির্মম নির্যাতনের বিচার হোক। সিরাজগঞ্জ ঘুরে এসে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে ­লিখেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;মাহেলা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সরকারি জায়গায় তোলা ঝুপড়িতে থাকেন এই বীরাঙ্গনা। বস্তিঘরটিও দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের। এই পৃথিবীতে নিজের বলে কিছু নিই। অভাব আর অভাব গ্রাস করেছে। অভাবের সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের হুমকি ধমকি। কোনোভাবেই যেন মিডিয়ার কাছে মুখ খুলবে না। এই বীরাঙ্গনা ‘সাপ্তাহিক’কে জানিয়েছেন, যারা আমাদের সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে মানা করে তারা অনেক শক্তিশালী। তাদের অনেক টাকা। তারা এখানকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;করিমন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;করিমনের সিরাজগঞ্জের কান্দাপাড়ায় বিড়ি শ্রমিক খোরশেদের সঙ্গে বিয়ে হয় আজ থকে প্রায় ৪০ বছর আগে। দু’বছরের মাথায় কোলজুড়ে আসে একটি ছেলে সন্তান। এর পরই আসে ভয়াল মার্চ। শুরু হয় স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ। আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা। স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে করিমন নামে এই বৃদ্ধার চোখ কেঁপে উঠল। ১৯৭১ থেকে ২০০৮, দীর্ঘ সময়। তার পরও কোনো এক ভয়, দ্বিধা সঙ্কোচ এই বৃদ্ধাকে থামিয়ে দিচ্ছে। এক সময় শান্ত হলেন, বলা শুরু করলেন। মাসের নাম মনে নেই। তবে ঘটনাটির বর্ণনা দিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;করিমন রুটি বানাচ্ছিলেন। চুলোর তাওয়ায় রুটি হচ্ছে। এ রকম সময় মানুষের দৌড়া দৌড়ি, চিৎকার। আর একটি শব্দ ঘুরে ফিরে আসছে, গ্রামে ‘মিলিটারি’ আইছে। করিমন তাওয়ায় রুটি রেখে দৌড়ে ঘরে যাবার আগেই পাকিস্তানি মিলিটারি তার উঠানে এসে হাজির হয়। করিমন ঘর বন্ধ করতে পারে না। তার আগেই পাকিস্তানি হায়েনাদের দল ঢুকে যায় তার ঘরে। একমাত্র সন্তান তখন পযর্ন্ত করিমন বুকে আগলে রেখেছেন। মিলিটারি সেই বুকের ধন সন্তানটিকে বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দূরে ছুড়ে দেয়। এরপর...। তার আর পর নেই। বাংলা সিনেমার দৃশ্য।  করিমন বলতে পারেন না। চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ে। করিমনের বাড়ি থেকে যমুনা অল্প একটু দূরে। তবুও করিমনের এই জল যেন যমুনাকে হার মানায়। ধাতস্থ হতে কিছু সময় নেন। আবার আলাপ শুরু হয়। ওরা চলে যাবার পর করিমনের জ্ঞান যখন ফিরল, তখন তিনি জানতে পারলেন তার সন্তানটি মারা  গেছে। সন্তানের শোক কাটানোর আগেই করিমনের স্বামী খোকশেদ শোনাল আরেক শোকবাণী। এই স্ত্রীর সঙ্গে সে আর ঘর করবে না। গ্রামের মানুষ অনেক বুঝায় করিমনের স্বামীকে যে এটা করিমনের অপরাধ নয়। অপরাধ যা সেটা তো পাকিস্তানি মিলিটারির।  খোকশেদ করিমনকে ঘরে তুলে নিলেও, ঐ রাতেই তিনি হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেন। সেই থেকে শ্যাওলার মতো ভাসছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যমুনার তীব্র স্রোত যে করিমন বুকে ধারণ করে আছেন, তা বোঝা গেল তার শেষ বক্তব্যে। না খেয়ে তবুও কেমন করে যেন বেঁচে আছি। বেঁচে আছি রাজাকারদের বিচার দেখার জন্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;জয়গুন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিরাজগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের মেয়ে জয়গুন। উঠতি বয়সী জয়গুনের গ্রামের প্রত্যেক বাড়িঘর চেনা। মাঠের পর মাঠ দৌড়ে বেড়ান। বাবা মা না থাকায় এতিম এই বালিকার একমাত্র সহায় ছিলেন বড় ভাই। মাঝে মাঝে ভাইকে খাবার দিতে মাঠেও যেতেন জয়গুন। এরকমই একটি দিন। জয়গুন ভাইকে মাঠে খাবার দেয়ার জন্য যাচ্ছেন। এ রকম সময় মিলিটারিরা গ্রামে আসে। জয়গুন ভাইয়ের কাছে পৌঁছে গেছেন। চারদিকে ভয়ার্ত মানুষের চিৎকার। এরপর পাশের বেতঝাড়ে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় পালাক্রমে পাকিস্তানি আর্মিরা। বোনের এই সম্ভ্রমহানি ভাই নিজ চোখে দেখেন। অসহায় ভাইয়ের কিছুই করার ছিল না সশস্ত্র সেনাবাহিনীর সামনে। এক সময় শেষ হয় পশুদের অত্যাচার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অভিমানী ভাই বোনের এই পরিণতি সহ্য করতে পারে না। ঘুমের মধ্যে প্রায় চিৎকার করে উঠতেন। অল্প কিছুদিন পর ভাইটিও মারা গেলেন। একদম একা হয়ে গেলেন জয়গুন। গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে বিয়ে দিলেন পাশের গ্রামে। এ ঘরে তার চারটি সন্তান হয়। ছেলে সন্তানগুলো একে একে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। শুধু রয়েছে একমাত্র মেয়েটি। মেয়েটি বিয়ের উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মেয়েটি শীতল পাটি তৈরি করে, আর জয়গুন পরের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে কোনোভাবে দিন যাওয়া না যাওয়ার মাঝে আছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পঞ্চাশোর্ধ এই বৃদ্ধাকে দেখতে আসেননি রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা। তবুও তিনি ক্ষোভটা রাষ্ট্রের প্রতিই ঝাড়লেন। বিচার চান এই পাশবিক নির্যাতনের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;’৭১-এর সেই গ্রাম এখনো ছেড়ে যেতে পারেননি জয়গুন। বীরাঙ্গনার উপাধি গ্রামের মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলে না। খারাপ চোখে দেখে, ঘৃণা করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;জোসনা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাঘবাটি গ্রামের বৌ জোসনা। স্বামী গরুর গাড়ি চালান। এ রকম সময় এলো ১৯৭১। ভয়াল মার্চের পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল গ্রামে মিলিটারি আসবে। ছেলে বুড়ো সবাই আতঙ্কে থাকে। জোসনার স্বামীর গরুর গাড়ি চড়েই একদিন গ্রামে এলো পাকিস্তানি মিলিটারি। দুটো গরুর একটি গরু মিলিটারিরা জবাই করে খেল। তারপরও শান্তি যে গ্রামে তারা এখনো আগুন দেয়নি, হত্যা করেনি। খাওয়া দাওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় বাড়ি বাড়ি আগুন দেয়া। পাশের বাড়িতে কয়েকদিন আগে এক সন্তান প্রসব করেছে যে মেয়েটি তার কোল থেকে দুধের শিশু বাচ্চাটিকে ফেলে দিল গাছের ওপর। বাচ্চাটি হয়ত কান্নারও সুযোগ পায়নি। তার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে জোসনা পাশের ধানক্ষেতে লুকায়। আর ধান ক্ষেত থেকে জোসনা প্রত্যক্ষ করেন সদ্য প্রসব করা মেয়েটিকে কীভাবে মিলিটারি পশুর দল কুকুরের মতো খাবলে খাচ্ছে। মেয়েটি ওখানেই মারা যায়। জোসনার বুকের ভেতর থেকে পাথর সরে যায়। বিপদ বুঝি কেটে গেল। ধানক্ষেত থেকে বের হবার সময় ধরা পড়ে যায় একদল বাঙালি রাজাকারের হাতে। তারাই জোসনাকে তুলে দেয় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে। তারপর... । পাঠক আমরা আর আগাতে পারিনি। এরপর শুধু জোসনার চোখ দিয়ে গড়িয়েছে অঝোর ধারায় জল। সেই অপমান, ঘৃণা বুকে পুশে নিয়ে জোসনা আজো বেঁচে আছেন। আমরা যখন তার খুপড়ি ঘর থেকে মাথা নিচু করে বের হয়ে আসছিলাম, তখন এই বীরাঙ্গনা একটা কথাই বললেন, ‘আমি এই পাপের বিচার চাই।’ আমরা তাকে এই সান্ত্বনা দিয়ে আসতে পারলাম না রাজনীতিবদিদের মতো, এই ভয়াল নির্যাতনের বিচার হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;রাহেলা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাহেলা বিবাহিতা। বগুড়া থেকে পাকিস্তানি আর্মির একটা গাড়ি সিরাজগঞ্জে এসে পৌঁছায়। পাকিস্তানি আর্মির চতুর্দিকে ধ্বংস আর আগুনের ভয় থেকে পালাতে গিয়ে পাকিস্তানি আর্মি কর্তৃক অবরুদ্ধ হয় বেলগাতি গ্রামে। এক হিন্দু বাড়িতে আশ্রয় নেয় রাহেলা ও তার স্বামী। লুকানো অবস্থায় রাহেলা দেখতে পায় দুই যুবককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানি বাহিনী।   সেই ভয়াল ঘটনার পরে এসে রাহেলা বলতে পারেন না, সেই দুই যুবক বেঁচে আছে না মরে  গেছে। বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে ঘরে ঘরে ঢুকে আগুন দিচ্ছে আর উল্লাস করছে। রাহেলা যে ঘরে লুকিয়েছিল, তার সঙ্গে অপরিচিত আরও তিনটা মেয়ে একই ঘরে লুকিয়েছিল পাকিস্তানি আর ঘাতক রাজাকার জল্লাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য। কিন্তু শেষ রেহাই হয়নি। ঘরে ঢুকে পড়ে জল্লাদের দল। সকলকে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর থেকেই স্বামী ছেড়ে যায় রাহেলাকে। পাঁচ বছর পরে আবার বিয়ে হয় তার। দ্বিতীয় স্বামী মারা গেছে বছর সাতেক আগে। দুই সন্তানের মধ্যে পুত্র সন্তানটি পড়ালেখা শেষ করেছেন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। তবে বীরাঙ্গনা হবার অপরাধে কোথাও চাকরি হয় না। স্থানীয় কেউ তাকে চাকরি দেয় না। মিডিয়ার কাছে মুখ খোলার কারণে সমাজের কর্তৃত্বশীল অধিপতিরা ধমক দেয় সমাজের সম্মান নষ্ট করার জন্য। তার চেয়ে মুখ বুঝে সব সহ্য করাই ভালো বলে শেখায় এই আধিপত্যকারী শ্রেণী। তবুও রাহেলা মুখ খুলেছেন। বলেছেন, এই নির্মম নির্যাতনের বিচার চান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;নূরজাহান&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নূরজাহানের স্বামী রুস্তম আলী। নূরজাহান তখন এক সন্তানের জননী। সিরাজগঞ্জ শহরে পাকিস্তানি মিলিটারি ঘাঁটি গেড়েছে। মিলিটারি প্রায়ই গ্রামগুলোতে যায়, তাদের মর্জি অনুযায়ী চলে রামরাজত্ব। ঘরে ঘরে আতঙ্ক, যুবতী মেয়েদের রক্ষা করাই যেন একটা কঠিন কাজ। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক সময় নূরজাহান বাবা-মায়ের সঙ্গে এক মাত্র সন্তান নিয়ে অন্য কোন জায়গায় পালানোর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বেলগাতি নামক জায়গা  এলে পাকিস্তানি বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে যান নূরজাহানরা। জ্ঞানশূন্য মানুষ বাঁচার জন্য চতুর্দিকে দৌড়াচ্ছে। নূরজাহান একটি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে যান। কিন্তু জল্লাদের হাত থেকে রক্ষা পাননি নূরজাহান। মুমূর্ষু অবস্থায় নূরজাহানকে উদ্ধার করে বাবা-মা স্কুল ঘরের পেছন থেকে। শুধু নূরজাহানই নন, অনেক হতভাগীর পরিণাম হয়েছিল নূরজাহানের মতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারপর আর কোনো কথা না বলে আঁচল চাপা দিয়ে শুধু কাঁদতে থাকেন নূরজাহান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতার ৩৮ বছর পার করে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি ২১ শতকে।  চলছে স্বাধীনতাকে ঘিরে নানা জঘন্য ইতিহাস বিকৃতি। কিন্তু এই বীরাঙ্গনা। যিনি সর্বস্ব খুইয়েছেন। তিনি কিন্তু  আজো সাহসের সঙ্গে বললেন, রাজাকারদের বিচার চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছবি : সীমান্ত রোদ্দুর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;‘ইনি-ই হলো ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী’&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিরুদ্দিন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;সাবেক শ্রমিক নেতা সিরাজগঞ্জ স্পিনিং মিল&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি সিরাজগঞ্জ স্পিনিং মিলের শ্রমিক নেতা ছিলাম। মার্চের ক্রাকডাউনের পর এপ্রিলের দিকে সিরাজগঞ্জ থেকেই আমি ধরা পড়ি। সিরাজগঞ্জে আমি তখন সবেমাত্র মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি। বেশ কিছু তরুণকে যুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে পেরেছি। এ রকম সময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকেই আমাকে ধরা হয়। সময়টি ছিল এপ্রিল মাস। এতদিন পরে এসে আমি তারিখটা ঠিকমতো বলতে পারছি না। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝিই হবে। পাকিস্তানি বাহিনী আমাকে ধরে নিয়ে যায় ওদের টর্চার সেলে। সেখানে আমাকে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। আমাকে বার বার ঘুরেফিরে একই প্রশ্নই করা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কোথায়, অস্ত্র কোথায়।’ আমি ওদের বললাম আমি কিছু জানি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিরাজগঞ্জ থেকে এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাবনা। ঠিক কবে নিয়ে যায় দিনক্ষণ আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। কারণ টর্চার সেলে সব দিনই আমাদের সমান মনে হতো।  শুধু তাই নয়, আমাদের মনে হতো সময় যেন যাচ্ছে না। রাজশাহী টর্চার সেলে ওরা আমাকে অনেকের সঙ্গে রাখে। ঐ সেলে অনেক মানুষ ছিল। আমি কাউকে চিনি নাই। তবে একজনকে শুধু চিনেছিলাম। বর্তমানে কমিউনিস্ট নেতা টিপু বিশ্বাসের ছোট ভাই। কারণ আমি শ্রমিক নেতা থাকার সুবাদে বামপন্থীদের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। প্রতিদিনই পকিস্তানিরা আসত, তাদের সঙ্গে থাকত বাঙালি রাজাকাররা। সবার গায়ে একটা নম্বর থাকত। আমার নম্বর ছিল ২৭। একদিন এক বাঙালিকে দেখে আমি টিপু বিশ্বাসের ছোট ভাইকে বললাম, ‘ইনি কে?’ টিপু বিশ্বাসের ভাই আমাকে বললেন, ‘ইনি-ই হলো ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী।’ তখন তো আমি মতিউর রহমানকে চিনতাম না। ঐ প্রথম তাকে চিনলাম। এরপর ওখান থেকে ছাড়া পেয়ে আবার সিরাজগঞ্জ চলে এলাম। সিরাজগঞ্জ থেকে একের পর এক গেরিলা অপারেশন করেছি। তার মধ্যে ট্রেজারি লুট ছিল অন্যতম। স্বাধীনতার পরে এত বছর চলে  গেল  রাজাকারদের কোনো বিচার হলো না। এখন আবার তারা বলছে দেশে কোনো স্বাধীনতা যুদ্ধই হয় নি। ওটা ছিল গৃহযুদ্ধ। এই সাহস আমরা মুক্তিযোদ্ধারাই তাদের দিয়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৃদ্ধ এই মুক্তিযোদ্ধার নাম নেই জেলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। নাম নেই তাতে কী। মহিরুদ্দিনকে এলাকার সবাই চেনে একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। মহিরুদ্দিনের কণ্ঠে সেই প্রতিধ্বনি, ‘ঐ সব কাগজে আমার নাম নেই বলে আমার কিন্তু কোনো কষ্ট হয় না। বরং ভালোই লাগে। কারণ ঐ সব কাগুজে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকই ভুয়া, এমন কী কিছু রাজাকারের নামও  আছে। আমি ঐ লিস্টে নিজের নাম উঠাতে চাই না। তবে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলে তাদের ভয়ঙ্কর সাজা হওয়া উচিত।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;‘আমরা ভারতে গিয়ে কিন্তু ট্রেনিং নেইনি। সম্পূর্ণ নিজেদের ক্ষমতায় যুদ্ধ পরিচালনা করছিলাম’&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;আমিন ইসলাম চৌধুরী&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির লড়াইটা আমাদের এখানে সিরাজগঞ্জে কিন্তু অনেক আগ থেইে শুরু হয়েছিল। সেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সিরাজগঞ্জে মুসলিম লীগের সঙ্গে সরাসরি আমাদের লাঠি বাঁশ দিয়ে মারা মারি করতে হয়েছে। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচন এলো। নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করায় সমগ্র বাংলাদেশের মতো আমরাও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিতে থাকলাম। ডামি রাইফেল দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রেনিং শুরু করলাম। ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের পর প্রথম আমরা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঘাটিনার ব্রিজে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। সেই প্রতিরোধ থেকেই সিরাজগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। তবে সিরাজগঞ্জ শহরকে কিন্তু আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। ওরা শহর দখল করে নিল। সিরাজগঞ্জ শহরটা জ্বালিয়ে দিল। আমরা সরাসরি পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কৌশল এড়িয়ে গেরিলা কৌশল নিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অক্টোবরের মধ্যে আমরা সিরাজগঞ্জের অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আমাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হলাম। আমরা ভারতে গিয়ে কিন্তু ট্রেনিং নেইনি। সম্পূর্ণ নিজেদের ক্ষমতায় যুদ্ধ পরিচালনা করছিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাটপিয়ারি গ্রামে পাক বাহিনীর একটা ক্যাম্প ছিল। এ ক্যাম্পটি ছিল এলাকায় জল্লাদখানা হিসাবে পরিচিত। ক্যাম্পটি ১১ সেপ্টেম্বর আক্রমণ করি। উক্ত আক্রমণে ৩৩ জন পাক মিলিটারি ও রাজাকারকে আমরা হত্যা করি। এটা ছিল সিরাজগঞ্জের উল্লেখযোগ্য সফল হামলা। ঐ যুদ্ধ করতে গিয়ে আমার গায়ে গুলি লাগে। ভাটপিয়ারি যুদ্ধে আমরা ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করি। এর পর ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জকে মুক্ত ঘোষণা করি শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই। এখানে কোনো মিত্র বাহিনী মুক্ত করেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;জীবিত বীরাঙ্গনাদের নাম ও ঠিকানা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আছিয়া&lt;br /&gt;স্বামী : মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান&lt;br /&gt;ঠিকানা : রানীগ্রাম, রেললাইনের ধারে, সিরাজগঞ্জ, বয়স : ৫০ বছর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কমলা বেগম&lt;br /&gt;ঠিকানা :  বিন্দুপাড়া (দত্তবাড়ি), সিরাজগঞ্জ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সামিনা বেগম&lt;br /&gt;স্বামী : মোঃ শুকুর আলী, গ্রাম : নদীর কুর -ক্লোজার সংলগ্ন&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুরাইয়া (ধুল্লি)&lt;br /&gt;স্বামী : শামসুল আলম, গ্রাম : পিটিআই স্কুলের সামনে, নদীর কিনারে, সিরাজগঞ্জ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাজু বালা&lt;br /&gt;স্বামী : মৃত হরিপদ, গ্রাম : ঝাঐল, চানপুর, সিরাজগঞ্জ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আয়মনা&lt;br /&gt;স্বামী : সমসের আলী, গ্রাম : মতিন সাহেবের ঘাট, ওয়াপদার ঢাল, সিরাজগঞ্জ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সূর্য বেগম&lt;br /&gt;স্বামী : মৃত হারান আলী সেখ&lt;br /&gt;ঠিকানা : রহমতগঞ্জ কবরস্থান সংলগ্ন, নতুন ভাঙ্গাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ&lt;br /&gt;বয়স : ৫২ বছর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাহাতন বেগম&lt;br /&gt;স্বামী : মৃত শুকুর আলী&lt;br /&gt;ঠিকানা : রহমতগঞ্জ কবরস্থানের পাশে, নতুন ভাঙ্গাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ, বয়স : ৭০ বছর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আয়শা বেগম&lt;br /&gt;স্বামী : কছিমুদ্দীন, ঠিকানা : নতুন ভাঙ্গাবাড়ি (রহমতগঞ্জ কবরস্থানের পাশে), বয়স : ৫০ বছর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রহিমা&lt;br /&gt;স্বামী : মৃত রিয়াজ আলী&lt;br /&gt;ঠিকানা : চক কোবদাসপাড়া, বয়স : ৭২ বছর&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-3371689163934870315?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/3371689163934870315/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=3371689163934870315' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/3371689163934870315'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/3371689163934870315'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post_26.html' title='বীরাঙ্গনাদের মানবেতর জীবন: অপেক্ষা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-7032345130462406685</id><published>2008-12-18T01:16:00.002+06:00</published><updated>2008-12-18T01:21:03.672+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কম্পিউটার'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কৌতুককর'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রযুক্তি'/><title type='text'>গুগলের আর একটি অভাবনীয় উদ্ভাবন বাথরুম ইন্টারনেট কানেকশন</title><content type='html'>&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);"&gt;প্রকাশ: &lt;a href="http://www.ittefaq.com/content/2007/04/03/news0204.htm"&gt;দৈনিক ইত্তেফাক, আইটি কর্নার, ৭ এপ্রিল ২০০৭&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একবার ভাবুন তো, আপনার বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থলটি হল আপনার বাথরুম। খুব অবাক করার মতো হলেও এই অভাবনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করবে বিশ্বের সেরা সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান গুগল। তাদের এই নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নাম হচ্ছে টিআইএসপি বা টয়লেট ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। গত ১ এপ্রিল গুগল এই সেবা প্রদান শুরু করেছে। বিনামূল্যের এই সেবার আওতায়&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যবহারকারীরা পুরো ঘরকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন। আর এই সংযোগ স্থাপন হবে ব্যবহারকারীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার সাথে। সংযোগ পেতে কেবলমাত্র গুগলে রেজিস্ট্রেশন করলেই হবে। বাদবাকি কাজ করতে গুগল একটি সেল্ফ ইন্সটলেশন প্যাকেজ পাঠিয়ে দিবে। ইন্টারনেট সংযুক্তির জন্য এখানে কেবল একটি ওয়াইফাই সক্ষম কম্পিউটার ও স্থানীয় মিউনিসিপল পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার সাথে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংযুক্ত একটি বাথরুম থাকলেই চলবে। গুগলের কো-ফাউন্ডার এবং প্রেসিডেন্ট ল্যারি পেজ বলেন ‘গুগল এই প্রজেক্টের পেছনে অনেকদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছিল। আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য সবগুলো উপায় বের করা যার মাধ্যমে মানুষকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা সম্ভব। মানুষের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌছে দেবার ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিকূলতা ছিল তার প্রায় সবগুলোই আমরা উত্তরণের সক্ষম হয়েছি। যারা এই সংযোগের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন তারা সবাই বাড়িতে একটি সেল্ফ ইন্সটলেশন কিট পাবেন। যেখানে একটি ওয়্যারলেস রাউটার, ফাইবার অপটিক ক্যাবল এবং ইন্সটলেশন সিডি থাকবে। কমোড থেকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সবচেয়ে কাছের টিআইএসপি একসেস মোডে প্লাগইন করতে হবে। এর জন্য কমোড থেকে ক্যাবল প্রবেশ করিয়ে দিলে তা পিএইচডি (প্ল্যাম্বিং হার্ডওয়্যার ডিসপ্যাচার্স) ১ ঘণ্টার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করবে। ইন্টারনেট সংযোজনের এই অভিনব পদ্ধতি এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আমেরিকাতে পাওয়া যাচ্ছে। গুগলের ইচ্ছে ভবিষ্যতে এই সুবিধা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেয়ার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এম এইচ মিশু&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-7032345130462406685?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/7032345130462406685/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=7032345130462406685' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/7032345130462406685'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/7032345130462406685'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post_18.html' title='গুগলের আর একটি অভাবনীয় উদ্ভাবন বাথরুম ইন্টারনেট কানেকশন'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-1519302378992680529</id><published>2008-12-17T03:52:00.001+06:00</published><updated>2008-12-17T03:58:00.274+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মুক্তিযুদ্ধ'/><title type='text'>‘বাংলাদেশ যুদ্ধের বন্দীরা’: যে যুদ্ধের শেষ নেই</title><content type='html'>&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);font-family:solaimanlipi,siyamrupali;" &gt;প্রকাশ: &lt;a href="http://prothom-alo.com/sp.news.details.php?nid=NTIy&amp;amp;sid=NzY="&gt;দৈনিক প্রথম আলো, বিজয় দিবস বিশেষ সংখ্যা, ১৬-‌১২‌-২০০৮&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0); font-weight: bold;"&gt;‘বাংলাদেশ যুদ্ধের বন্দীরা’: যে যুদ্ধের শেষ নেই&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;ফারুক ওয়াসিফ&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;যুদ্ধের মধ্যে একজন সৈনিকের সামনে চারটি সম্ভাবনা থাকে: অক্ষত অবস্থায় জয়, আহত হওয়া, রণাঙ্গনে মৃত্যুবরণ এবং যুদ্ধবন্দী হওয়া। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন অনিল আথালে’র ভাগ্যে শেষেরটিই বরাদ্দ ছিল। ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের পাঞ্জাব সীমান্তে নিয়তি পাকিস্তানি সৈনিকের চেহারায় এসে তাঁকেসহ তাঁর ছয় সহযোদ্ধাকে বন্দী করে। পরের কাহিনীতে তাই যুদ্ধের উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ নেই। রয়েছে জেল থেকে জেলে আটক থাকার দুঃসহ স্মৃতি।&lt;br /&gt;ভারতের এ রকম আরও দুই হাজার ৩০৭ জন যুদ্ধবন্দী সৈনিকের মধ্যে স্থান হয় তাঁর। এঁদের কেউ কেউ আটক হন বাংলাদেশের রণাঙ্গনে, তবে বেশির ভাগই বন্দী হন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে।&lt;br /&gt;এর ঠিক ১১ দিন পর পূর্ব রণাঙ্গনে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা ও বেসামরিক নাগরিককে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অস্ত্র সমর্পণ করে যুদ্ধবন্দীর ভাগ্য বরণ করে নিতে হয়। শুরু হয় দুই হাজার ৩০৭ বনাম ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের কূটনৈতিক খেলা। আর তাতে জড়িত হয়ে যায় বাংলাদেশে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নও। কেননা, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আলাদা একটি যুদ্ধ হলেও বাংলাদেশকে ঘিরে তা হওয়ায় এই যুদ্ধবন্দীদের পরিচয় দাঁড়ায় ‘বাংলাদেশ যুদ্ধের বন্দী’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্দীস্মৃতি&lt;br /&gt;ছয় গুর্খা সৈন্যের সঙ্গে অনিল সীমান্তে টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পাকিস্তানি সৈন্যরা সেই এলাকায় আক্রমণ চালায়। বোমা ও গুলির মধ্যে তাঁরা এক পাথুরে এলাকায় আটকে পড়েন এবং বন্দী হন। দুর্ভাগ্যের সেই শুরু। অনিলের কথায়, ‘চূড়ান্ত বিপদ আর চাপের স্মৃতি মানুষ কখনো ভোলে না। এখনো মনে হয় ওসব যেন গতকালের কাহিনী।’&lt;br /&gt;তাঁদের চালান করা হয় রাওয়ালপিন্ডির সেনাসদর দপ্তরে। সেই দলে তিনিই ছিলেন একমাত্র কর্মকর্তা। বাকিরা ‘জওয়ান’। জেরার সময় পাকিস্তানিরা দ্রুতই বুঝে ফেলে এঁর কাছ থেকে কিছু জানা যাবে না। ক্যাপ্টেন অনিলের মতো পদাতিক বাহিনীর লোকদের কাছে আসলে কোনো কৌশলগত নিরাপত্তা তথ্য থাকে না। ‘কেঁচো যেমন তার সামনের মাটিই দেখে, একজন পদাতিকের নজর তেমনি কেবল তার অবস্থানের চারপাশের কয়েক মাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ রকম তথ্য শত্রুর কোনো কাজেই লাগে না’।&lt;br /&gt;১৫ দিনের মধ্যেই তাঁকে পাঠানো হয় রাওয়ালপিন্ডি জেলের ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে। বন্দীদের আত্মহত্যা ঠেকাতে সেসব কক্ষের ছাদ রাখা হতো উঁচুতে, ঘরে থাকত না কোনো আসবাব। সেখানে বসে শুনতে পেতেন অন্য কোনো সেল থেকে স্লোগান আসছে, ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’। কারা ওরা? ভারতীয়, বাঙালি? কারা? পরে জানা যায়, ওরা বেলুচ। বাংলাদেশে পাকিস্তানি দখলদারির সময় পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জনগণও স্বাধিকারের দাবিতে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। বাংলাদেশে যখন গণহত্যা চলছে, তখন খোদ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচ নেতা-কর্মীদের ধরে ধরে জেলে পোরা হচ্ছে।&lt;br /&gt;প্রথম দিকে রাত হলে বিমানের আওয়াজ আসত। পাকিস্তানের আকাশে ভারতীয় বিমান? আশায় রোমাঞ্চিত হয়ে উঠতেন অনিল। তাঁর সেলের ছাদেই বিমানবিধ্বংসী বন্দুক বসানো। অনিলের আশা সেখানে বোমা পড়লেই তিনি পালাবেন। তাই বিমানের আওয়াজ পাওয়ামাত্রই বুট পরে বসে থাকতেন।&lt;br /&gt;একদিন আর বিমানের আওয়াজ এল না। কয়েক দিন সব চুপচাপ। তারপর আগমন ঘটল এক মেজরের। রাতের পর রাত না ঘুমানোর ছাপ তাঁর চোখে-মুখে। তিনি অনিলকে জিজ্ঞেস করেন, ‘রাওয়ালপিন্ডি শহর দেখেছ?’ দেখার তো উপায় ছিল না। জেলে আনার পথে অনিলদের তো চোখ ছিল বাঁধা। উত্তর না আসায় খেপে গিয়ে মেজর বলেন, ‘চিন্তা কোরো না, একদিন এখানে বিজয়ীর বেশে তোমরা আসবে। তখন মন ভরে দেখো।’&lt;br /&gt;বিদ্যুৎ চমকে গেলে অনিলের মনে। যুদ্ধ শেষ? পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে! মুক্তি কি আসন্ন?&lt;br /&gt;১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষাশেষি কোনো এক দিন। জেলের বাইরে দিয়ে বিরাট এক মিছিলের আওয়াজ আসে। তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘ভুট্টো জিন্দাবাদ’। ঘণ্টাখানেক পর সেই মিছিল ফিরে আসে নতুন স্লোগান নিয়ে, ‘হামারা নয়া সর্দার ভুট্টো জিন্দাবাদ’। সেই রাতেই জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে সরিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু অনিল জানতেন না, আরও কয়েক বছর পর তাঁর আশপাশের কোনো সেলেই ভুট্টো পার্শ্ববর্তী প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে বন্দী হয়ে আসবেন। এবং তারও কিছুদিন পর সেখানেই তাঁকে ফাঁসি দেবেন আরেক জেনারেল জিয়াউল হক।&lt;br /&gt;বাহাত্তর সালের ফেব্রুয়ারি মাস। অনিলদের সরিয়ে নেওয়া হয় লায়ালপুরে (তৎকালীন ফয়সালাবাদ জেল) যুদ্ধবন্দীদের জন্য নির্ধারিত শিবিরে।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষ হলেও উভয় দেশের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির মুহূর্ত আর আসে না। বাংলাদেশ কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্ণিত করে বিচার শুরু না করে বিষয়টির ফয়সালা করতে রাজি নয়। এভাবে শুরু হয় উভয় দেশের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির কূটনৈতিক যুদ্ধ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লায়ালপুরের জীবন&lt;br /&gt;লায়ালপুর যুদ্ধবন্দী শিবিরের দায়িত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফ মালিক। একদিন তিনি কয়েকজন বন্দী ভারতীয় কর্মকর্তাকে শিবিরটি ঘুরে দেখান। সেটা এক মারাত্মক জেলখানা। পরপর ১০ ফুট উঁচু তিনটি দেয়ালের চক্কর দিয়ে ঘেরা। জায়গায় জায়গায় ওয়াচপোস্টে মেশিনগানধারী প্রহরী, সার্চলাইট ও শিকারি কুকুর। ওই চিত্র যে দেখেছে, পালানোর সাধ তার উবে যাবে। কর্নেল লতিফ তাই ঠাট্টার সুরে বলতে পারেন, ‘তোমাদের পালানোর অধিকার রয়েছে, যেমন আমাদেরও অধিকার রয়েছে ধরা পড়লে গুলি করে মারার।’ সেখানেই বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের ঘৃণার মাত্রাটা বুঝতে পারা যায়। এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা তো বলেই ফেলে, ‘পাকিস্তানি সৈন্যরা যে বাংলাদেশের বদলে ভারতের হাতে বন্দী এতে আমরা খুশি।’ বাংলাদেশ নাকি তাদের জন্য বোঝা ছিল। বোঝা নেমে যাওয়ায় এখন তারা নাকি খুশি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিমলা চুক্তি&lt;br /&gt;দেখতে দেখতে চলে আসে বাহাত্তর সালের জুলাই মাস। খবর আসে ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে সিমলা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার মানে মুক্তি?&lt;br /&gt;কিন্তু আশার ফুলে তখনো কাঁটা ছিল। বাংলাদেশ যুুদ্ধবন্দীদের মধ্যে চিহ্ণিত ২০০ যুদ্ধবন্দীর মুক্তির বিষয়টি মানতে নারাজ। ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতাও স্বাক্ষরিত হয়। যাহোক, একসময় বিষয়টির আপাত সমাধানও হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো একতরফাভাবে পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। বিনিময়ে ভারতও ঘোষণা দেয় যে এ মুহূর্তে কেবল পশ্চিম পাকিস্তানের রণাঙ্গনে আটক হওয়া পাকিস্তানি সৈন্যদের মুক্তি দেওয়া হবে। অনিলদের ভাগ্যের সুখপাখি সেদিনই ডানা মেলল। তাঁরা মুক্ত হলেন। তারিখ ১ ডিসেম্বর ১৯৭২।&lt;br /&gt;কিন্তু বাংলাদেশে আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের মুক্তি পেতে লেগে যায় আরও তিনটি বছর। ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি ও প্রত্যাবর্তন বিষয়ে দিল্লিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল। সেই চুক্তির বলে ১৪ নভেম্বর তারা মুক্ত হয়। তাদের মধ্যে ছিল কয়েক শ বাঙালি রাজাকারও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে যুদ্ধের শেষ নেই&lt;br /&gt;একাত্তরের যুদ্ধবন্দীদের কথা সবাই যখন ভুলতে বসেছে, তখন হঠাৎ সামনে চলে আসে নাসিরের কথা। তাঁর আদি নিবাস ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিপুরে। একাত্তরের বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হন পাকিস্তানি নাগরিক নাসির উদ্দীন। স্বাধীনতার পর তাঁকে হস্তান্তর করা হয় ভারতীয়দের হাতে। তারপর বহুবছর কেউ তাঁর খোঁজ করেনি। যেন নাসির নামে কেউ কখনো ছিল না। কিন্তু ২০০৮ সালে কলকাতার আলিপুর জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক কয়েদি পুরোনো ইতিহাস ধরে টান দেন। মুক্তি পেয়েই তিনি গাজিপুরে নাসিরের আত্মীয়দের কাছে খবর পাঠান: নাসির বেঁচে আছে, ২০০০ সালে তাঁকে শেষ দেখা গেছে আলিপুর জেলে। খবর যায় করাচিতে বসবাসরত নাসিরের ছেলে হোসাইনের কাছে।&lt;br /&gt;হোসাইনরা মেনে নিয়েছিল যে তাদের বাবা মারা গেছেন। কিন্তু নতুন খবরে আবার শুরু হলো তাদের দহন। কীভাবে তারা ফিরে পাবে ৩৭ বছর আগের যুদ্ধবন্দী নাসিরকে? একই প্রশ্ন ভারতের সুমন পুরোহিতের, ‘আমার বিয়ের ১৮ মাস পরে, আমার ছেলে বিপুলের জন্নের তিন মাসের মাথায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে আমার স্বামী বিমান নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হন।’ তখন সুমনের বয়স ছিল ২৩ বছর, এখন ৫৯। ৩৭ বছর ধরে তিনি খুঁজে চলেছেন তাঁর স্বামীর সন্ধান। নানান সময়ে খবর আসে, কেউ নাকি তাঁকে দেখেছে পাকিস্তানের কারাগারে। বিভিন্ন বইপত্রেও এ রকম ইঙ্গিত মেলে। এ রকম আরও ৫৪ জন নিখোঁজ ভারতীয় সৈনিকের পরিবারের সদস্যরা এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াচ্ছে−যদি স্বজনের খোঁজ মেলে, যদি তার দেখা মেলে!&lt;br /&gt;এই খোঁজাখুঁজির দৌড়ে ছুটতে ছুটতে ওই ৫৪ জনের পরিবার মিলে একটি সংগঠনও বানিয়েছে। তাদের কাজ নিখোঁজ যুদ্ধবন্দীদের হদিস বের করা এবং তাদের মুক্ত করার জন্য তদবির করা। পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলেও তারা ঘুরে বেড়িয়েছে।&lt;br /&gt;তিনটি জেলে খোঁজা শেষ করে বৃদ্ধ সুমন এখন তরুণী বয়সে হারানো তাঁর তরুণ স্বামীকে খঁুজতে যাবেন লাহোর জেলে। সেখানে না পেলে রাওয়ালপিন্ডি অথবা লায়ালপুরে অথবা অন্য কোথাও। ‘আমি খুঁজবই। খঁুজে না পেয়ে জেল গেট দিয়ে হেঁটে বের হয়ে আসা অসহ্য লাগে। মনে হয় আর পারব না, কিন্তু আশা আমাকে পাথরের মতো শক্ত করেছে।’&lt;br /&gt;ওদিকে পাকিস্তানের করাচি থেকে নাসিরের ছেলে হোসাইনও কলকাতায় আসছে তার বাবাকে খঁুজে বের করতে। এ রকম কত হোসাইন আর কত সুমন বুকে পাথর বেঁধে ছুটে বেড়াচ্ছে কোনো বিস্মৃত যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করার জন্য। সেই ছোটাছুটির মধ্যে কোনো জেলে বা কোনো সীমান্তে একদিন হয়তো তাদের দেখাও হয়ে যাবে। সেই দেখাদেখির মধ্যে কোনো শত্রুতা থাকবে কি? যে যুদ্ধের বন্দী তাদের বাবা ও স্বামী, সেই যুদ্ধ তো অনেক আগেই শেষ। কিন্তু তাদের লড়াই বুঝিবা এখনো শেষ হয়নি। তাদের আত্মীয়রা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বন্দী হয়েছিল। কিন্তু আপনজনকে মুক্ত করার লড়াইয়ে আজ তারা এক। সেই লড়াইয়ে তারা আর ভারতীয় বা পাকিস্তানি নয়; তারা সহযোদ্ধা। তারা যুদ্ধবন্দীদের স্বজন। অন্যদিকে কোনো এক অজ্ঞাত কারাকক্ষে কোনো একজন পুরোহিত বা নাসির অপেক্ষা করেন−একদিন ডাক আসবে মুক্তির। দেয়ালের গায়ে দাগ কেটে কেটে তাঁরা হয়তো বছর পেরোনোর হিসাব রাখেন। কত বছর পেরোল? দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে তাঁরা গোনা শেষ করেন: ৩৭ বছর!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-1519302378992680529?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/1519302378992680529/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=1519302378992680529' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1519302378992680529'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1519302378992680529'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post_2806.html' title='‘বাংলাদেশ যুদ্ধের বন্দীরা’: যে যুদ্ধের শেষ নেই'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-1228514833926689851</id><published>2008-12-17T03:49:00.002+06:00</published><updated>2008-12-17T03:52:06.611+06:00</updated><title type='text'>রশীদ তালুকদারের ছবির কথা</title><content type='html'>&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0); font-family: solaimanlipi,siyamrupali;"&gt;প্রকাশ: &lt;a href="http://prothom-alo.com/sp.news.details.php?nid=NTIz&amp;sid=NzY="&gt;দৈনিক প্রথম আলো, বিজয় দিবস বিশেষ সংখ্যা, ১৬-‌১২‌-২০০৮&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://prothom-alo.com/issues/2008-12-16/RoshidTalukdar.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer; width: 1400px; height: 2200px;" src="http://prothom-alo.com/issues/2008-12-16/RoshidTalukdar.jpg" alt="" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-1228514833926689851?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/1228514833926689851/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=1228514833926689851' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1228514833926689851'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1228514833926689851'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post_1123.html' title='রশীদ তালুকদারের ছবির কথা'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-7448921983724622783</id><published>2008-12-17T03:43:00.002+06:00</published><updated>2008-12-17T03:47:32.989+06:00</updated><title type='text'>একাত্তরের রণাঙ্গনে একজন বিহারি মুক্তিযোদ্ধা: সুবেদার সৈয়দ খান বীর প্রতীক</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgh4H24wlI/AAAAAAAAAw4/GqEa7IweBE4/s1600-h/p11Bihari.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer; width: 320px; height: 224px;" src="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgh4H24wlI/AAAAAAAAAw4/GqEa7IweBE4/s320/p11Bihari.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5280507811157557842" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;                                 &lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);font-family:solaimanlipi,siyamrupali;" &gt;প্রকাশ: &lt;a href="http://prothom-alo.com/sp.news.details.php?nid=NTI0&amp;amp;sid=NzY="&gt;দৈনিক প্রথম আলো, বিজয় দিবস বিশেষ সংখ্যা, ১৬-‌১২‌-২০০৮&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একাত্তরে যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন আমি ইপিআর বাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। আমার কোম্পানি তখন কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ছিল। ২৬ মার্চ আমার কোম্পানির সদস্যরা ক্যাপ্টেন নওয়াজীর নেতৃত্বে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। সে সময় অবাঙালি হিসেবে সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছিল। অর্থাৎ আমি এখন কী করব। কেউ কেউ আমাকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আমার মধ্যে এ দেশের মায়া খুবই কাজ করতে থাকে। আমি আমার কোম্পানির অন্য সদস্যদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের কোম্পানি কাউনিয়া ব্রিজের অপর প্রান্তে অবস্থান নেয়। সে সময় কাউনিয়ায় জিআরপি থানা ছিল। সেখানে পাকিস্তানিরা ছিল। আমরা প্রথমে তাদেরই টার্গেট করি। ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে আমরা ব্রিজের অপর প্রান্তে অবস্থান নিয়েছিলাম, ওরা বুঝতে পারেনি। এ সময় এক পাকিস্তানি মেজর ও তিনজন সিপাহি এবং একজন বাঙালি ওসি ব্রিজ পার হয়ে আমাদের অবস্থানের দিকে আসছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাঙালি অফিসারটিই সামনে ছিলেন। সে সময় ব্রাশ ফায়ার করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু তা করলে বাঙালি অফিসারটির বাঁচার কোনো উপায় নেই। এদিকে তাঁকে রক্ষার জন্য যদি আক্রমণ না করি, তাহলে তারা আমাদের অবস্থানের খবর পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, দেশের স্বার্থে হতভাগ্য বাঙালি অফিসারটির জীবন অবসানই মঙ্গলজনক। ব্রাশ ফায়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকেই। পাক জোয়ানদের সঙ্গেই মারা পড়লেন বাঙালি অফিসারটিও। কাউনিয়া ব্রিজের অপারেশন দিয়েই শুরু হলো আমাদের যুদ্ধ।&lt;br /&gt;এর পরই পাকবাহিনীর লোকেরা টের পেয়ে যায় যে তাদের খুব কাছেই আমরা অবস্থান নিয়ে আছি। তারা গুলি চালাতে শুরু করল। আমরাও এবার থেকে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে গেলাম। পাকসেনারা খুব চেষ্টা করে ব্রিজ পার হওয়ার জন্য, কিন্তু কিছুতেই আমরা সে সুযোগ দিয়নি। সেদিন এই ব্রিজ পার হওয়া পাকবাহিনীর জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথম সম্মুখযুদ্ধে আমরা তাদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হই।&lt;br /&gt;এদিকে পাকবাহিনী কিছুতেই ব্রিজ পার না হতে পেরে বিকল্প বুদ্ধি অাঁটে। তারা প্লেনে করে আমাদের তিন-চার কিলোমিটার পেছনে মহেন্দ্রনগরে আসে। আমরা গোপন সূত্রে সে খবর পেয়ে যাই যে পাকসেনারা পেছন দিক থেকে আমাদের আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছে। সে সময় আমরা দ্রুত সেখান থেকে রাজাহাট হয়ে কুড়িগ্রাম চলে আসি। এ সময় আমাদের কোম্পানিতে ইপিআর ও কিছু মুক্তিসেনা মিলে প্রায় ৬০ জন সদস্য ছিল।&lt;br /&gt;কুড়িগ্রামে তিন জায়গায় আমরা ডিফেন্স নিই। তিন জায়গাতেই লড়াই হয়। পাকসেনারা তাদের অবস্থান ছেড়ে চলে যায়। পরের দিন আবার এসে আক্রমণ চালায়। সেখানে এভাবে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারছিলাম না। আমাদের কাছে ভারী কোনো অস্ত্র ছিল না। বাধ্য হয়ে আমরা নদী পার হয়ে পাটেশ্বরী চলে এলাম। এর পর ভূরুঙ্গামারী হাইস্কুল ক্যাম্পে এসে উঠি। সেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা। সেখান আমাদের সঙ্গে একপর্যায়ে এক কোম্পানি ভারতীয় সেনা এসে যোগ দেয়। আমরা খবর পাই হাতিবান্ধা থানায় পাঞ্জাবিরা ডিফেন্স নিয়ে আছে। আমি ৪০ জন সেনাসদস্য নিয়ে ফায়ার করতে করতে এগোতে থাকি। একই সঙ্গে ভারতীয় সেনারা ওপর থেকে সিলিং করতে থাকে। আমরা যখন শত্রুদের কাছাকাছি চলে যাই, ভারতীয় সেনারা সিলিং বন্ধ করে এবং আমরা ফায়ার শুরু করি। এ সময় পাঞ্জাবিরা সিলিং শুরু করে দিল। এতে আমাদের বরিশালের একজন নায়েক সুবেদার সেখানে শহীদ হন। একপর্যায়ে পাঞ্জাবিরা পাশের একটা নালা ধরে পেছনে সরে যায়। ওই অপারেশনে কোনো পাঞ্জাবি মারা গেছে কি না, আমরা জানতে পারিনি। কিন্তু পরে আমরা সেখানে গিয়ে অনেক রক্ত দেখতে পেয়েছি। আমাদের ধারণা, সেখানে অনেক হতাহত হয়েছে। তারা তাদের (আহত-নিহত) সরিয়ে নিয়ে যায়।&lt;br /&gt;আমরা রংপুরের হারাগাছা এলাকায় থাকতেই দেশ স্বাধীন হয়। দুটি অপারেশনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আমাকে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।&lt;br /&gt;বি. দ্র. সৈয়দ খানের বয়স এখন প্রায় ৮২। এখন তিনি অনেক কিছুই ঠিকমতো মনে করতে পারেন না। গুছিয়ে বলতেও পারেন না। তাছাড়া যুদ্ধের পর তাঁর ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানসন্ততিদের হত্যা করেছিল। তিনি যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে পরিবারের আর কাউকে পাননি। এ অবস্থায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হলেও আর্থিক অনটনের কারণে সেই স্ত্রীও তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর কাছ থেকে চলে গেছেন। এখন তিনি পরিণত বয়সে একেবারে অসহায় অবস্থায় অন্যের আশ্রয়ে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর স্মৃতি থেকে যতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা পত্রস্থ করা হলো।&lt;br /&gt;অনুলিখন: আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী অফিস&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-7448921983724622783?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/7448921983724622783/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=7448921983724622783' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/7448921983724622783'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/7448921983724622783'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post_17.html' title='একাত্তরের রণাঙ্গনে একজন বিহারি মুক্তিযোদ্ধা: সুবেদার সৈয়দ খান বীর প্রতীক'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgh4H24wlI/AAAAAAAAAw4/GqEa7IweBE4/s72-c/p11Bihari.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-2465030219954069894</id><published>2008-12-17T02:54:00.007+06:00</published><updated>2008-12-18T22:40:54.628+06:00</updated><title type='text'>জেনারেল জ্যাকবের বিশেষ সাক্ষাৎকার: ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাই বড় ছিল’</title><content type='html'>&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);"  &gt;&lt;br /&gt;প্রকাশ: &lt;a href="http://prothom-alo.com/sp.news.details.php?nid=NTIw&amp;amp;sid=NzY="&gt;দৈনিক প্রথম আলো, বিজয় দিবস বিশেষ সংখ্যা, ১৬-‌১২‌-২০০৮&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgY6qBGwKI/AAAAAAAAAww/lf8T1CKZnbM/s1600-h/P67Muktiyoddha.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer; width: 210px; height: 320px;" src="http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgY6qBGwKI/AAAAAAAAAww/lf8T1CKZnbM/s320/P67Muktiyoddha.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5280497959082311842" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লে. জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব। বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে ঘনিষ্ঠ একটি নাম। তাঁর স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কেটেছে পর্যায়ক্রমে দার্জিলিং ও কলকাতায়। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্মাতক ডিগ্রি নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৪১ সালে। তখন বয়স ১৮। জন্নসূত্রে ইহুদি। সরকারি নথিতে তাঁর জন্ন তারিখ ২ মে ১৯২১। চিরকুমার। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামকালে তিনি ভারতের সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব জেনারেল স্টাফ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য পিভিএসএম (পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল) খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৭৮ সালের জুলাইয়ে তিনি অবসর নেন। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা, বার্থ অব এ নেশন। ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে এই অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয় দিল্লিতে তাঁর আর কে পুরামের ফ্ল্যাটে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার নামের আগে জেএফআর শব্দটি দেখছি। নামকরণের গল্প বলুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: পুরো নাম জ্যাকব ফ্রেডারিক রালফ জ্যাকব। কর্মক্ষেত্রে আমার উপনাম ছিল ‘জেক’। আরবি জানা মা আমাকে একটি আরবি উপনামেও ডাকতেন। ‘ফারাজ’। এর অর্থ সুখ। তৃতীয় নাম রালফ বা রাফায়েল, এটি বাইবেলের একটি নাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার পূর্বপুরুষেরা কোথাকার?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ২০০ বছর আগে বর্তমান ইরাক বা সিরিয়ার কোনো অঞ্চল থেকে আমার পূর্বপুরুষেরা ভারতবর্ষে আসেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ঠিক কোন এলাকা থেকে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমরা বাগদাদ থেকে এসেছি। পূর্বপুরুষেরা বিশুদ্ধ ইহুদি ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া ১০টি গোত্রের (বাইবেলে বর্ণিত টেন মিসিং-ট্রাইবস) একটি উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে বলে একটি দাবি করা হয়। আপনি কি তা বিশ্বাস করেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এ নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক আলাপ-আলোচনা আছে। আমি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। এর উত্তর আমার জানা নেই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে গিয়ে আপনি চিতাবাঘের দাঁত নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। বাঘ-বৃত্তান্ত বলুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: বহু বছর আগে আমি দিল্লিতে কুতুবমিনারের কাছাকাছি একটি রেঞ্জে ট্রেনিংয়ে ছিলাম। একদিন শুনলাম একটি চিতাবাঘ গ্রামবাসীকে বড় ভোগাচ্ছে। প্রায়ই ছাগল ধরে নিচ্ছে। আমি খুব কাছ থেকে চিতাবাঘটিকে শিকার করেছিলাম। বিমানে বহনকালে ওই চিতাটির একটি দাঁত খসে পড়ে। আমি দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। চিকিৎসক প্রথমে অপমানিত বোধ করেছিলেন। পরে উপযুক্ত সম্মানীর বিনিময়ে তিনি তা মেরামত করেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ইহুদি ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির মধ্যে কি কোনো মিল খঁুজে পান? আপনার তো পড়াশোনা রয়েছে।&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি বিশেষজ্ঞ নই। বড় যে ধার্মিক, তাও নই। চোখ জুড়ানো নৈসর্গিক সৌন্দর্যখচিত লাদাখে আমি বহু মঠ ঘুরেছি। সব ধর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো। আপনার বিবরণমতে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে জেনারেল স্যাম মানেকশ ইন্দিরাকে রাজি করালেন যে এপ্রিলের মধ্যেই বাংলাদেশে ভারতীয় অভিযান পরিচালিত হওয়া উচিত। আপনি বেঁকে বসলেন। বললেন, ১৫ নভেম্বরের আগে কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। এতে তিনি ‘হতাশ ও অধৈর্য’ হলেন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: প্রত্যেক ব্যক্তির কিন্তু নিজস্ব ধ্যান-ধারণা থাকবেই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কিন্তু আপনার বইয়ে যুদ্ধ পরিকল্পনায় মানেকশর সামগ্রিক ভূমিকা কিন্তু ধূসর। ফোর্ট উইলিয়ামে একাত্তরের আগস্ট বৈঠকে মানেকশ বললেন, খুলনা ও চট্টগ্রাম দখল করতে পারলেই যুদ্ধ শেষ হবে। এমনকি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষরদাতা লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরাও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই মত পোষণ করেন। আপনি ছাড়া ঢাকার পতন চিন্তা কারও মাথায় ছিল না। তাহলে কি বলা যায়, একজন জ্যাকব না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি এভাবে দেখি না। মানেকশর ছিল একটি দৃষ্টিভঙ্গি, আমার ভিন্ন। হয়তো তিনিও সঠিক বলে প্রমাণিত হতে পারতেন, আমি তা জানি না। তিনি আমার বস ছিলেন। তাঁর নির্দেশ মেনে চলাই ছিল আমার কাজ। আমি একজন ভালো সৈনিক ছিলাম। তা ছাড়া দুজন একই ভাবনা ভাবতে পারেন না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ভারত সরকারের তরফে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য ও সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে আপনি লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজির পিআরও সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ থেকে তথ্য ধার করেছেন। সালিক লিখেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি পর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়। এটা কি সঠিক?&lt;br /&gt;জ্যাকব: মোটামুটি এটাই সত্য। সালিক জানতেন কী ঘটেছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: নিজের ঘরের তথ্য দিতে নির্ভর করলেন অন্যের ওপর। কেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমাকে এটা স্পষ্ট করতে দিন যে ভারত সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি এখনো ক্লাসিফায়েড (গোপনীয়) হিসেবে বিবেচিত। সে কারণেই আমি অন্যের ওপর নির্ভর করেছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সালিকের মতে বাংলাদেশের এক লাখ গেরিলাকে প্রশিক্ষণ দিতে ভারত প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করেছিল। কনভেনশনাল বা প্রথাগত যুদ্ধের জন্য ৩০ হাজার এবং গেরিলা কৌশল অবলম্বনের জন্য ৭০ হাজারকে প্রস্তুত করা হয়। এই তথ্য সঠিক?&lt;br /&gt;জ্যাকব: শতভাগ না হলেও সাধারণভাবে সঠিক বলতে পারেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি লিখেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি বাদে সব ম্যাপ জোগাড় করতে পেরেছিল। তাতে কি সমস্যা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমাদের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো ম্যাপই ছিল না। যে ম্যাপ ছিল তা ৫০ বছরের পুরোনো। ম্যাপ ছাড়া কীভাবে কী করব, তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তখন এম এ জলিলসহ অন্যান্য সেক্টর কমান্ডারের কাছে ম্যাপের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করলাম। তাঁরা দ্রুত সংগ্রহ করলেন। শুধু বগুড়া বা অন্য কোনো একটি এলাকার ম্যাপ পাওয়া গেল না, কিন্তু তাতে অসুবিধা হয়নি। আমরা পুরো যুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের তৈরি করা ম্যাপই ব্যবহার করি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের সঙ্গে আপনার বৈঠকের বিষয়ে কিছু বলবেন কি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে আমার বৈঠক হতো। সরকার হয়তো একদিন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পাকিস্তানি বাহিনীর সাঙ্কেতিক বা ওয়্যারলেস বার্তা ধরার ব্যাপারে আপনাদের সাফল্য কেমন ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এ কাজে খুবই সফল ছিলাম। আমরা তাদের গুপ্ত বার্তার অনেকটাই ধরে ফেলতাম। এ বিভাগটি সরাসরি আমার অধীনে ছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে আমরা আগাম ধারণা পেতাম। অনেক আক্রমণ ডিকোডিংয়ের ভিত্তিতে হয়েছে। সাগরে সাবমেরিন ‘গাজি’র উপস্থিতি আমরা আগেই টের পাই। একে সহজেই উড়িয়ে দেওয়া হয়।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মার্কিন সপ্তম নৌবহর কি সত্যি মার্কিন নাগরিকদের নিতে এসেছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এটা খুবই বিতর্কিত। আমি তো আত্মসমর্পণ নিয়ে ১৩-১৪ ডিসেম্বরে নিয়াজির সঙ্গে কথা বলা শুরু করি। আমরা বিদেশি নাগরিক বহনে জাতিসংঘের একটিসহ চারটি বিমান অবতরণের অনুমতি দিই। ১১ ডিসেম্বর তারা চলে যায়। সুতরাং এরপর মার্কিন নাগরিকদের বহনের কথা বলে সপ্তম নৌবহর পাঠানোর তো যুক্তি নেই। ওটা ছিল ‘শো অব ফোর্স’।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার বইয়ে একাত্তরের ওয়ার থিয়েটারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। এটা কি মুক্তিযুদ্ধের ওপর সামগ্রিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: অবশ্যই ফেলেছিল। অনেকের সঙ্গেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের খুব টানাপোড়েন যাচ্ছিল। একজনের সঙ্গে আরেকজনের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল। সৌভাগ্যবশত তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ছিল ভালো।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ঢাকা অভিযানের পরিকল্পনা দয়া করে খুলে বলবেন কি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ভারতের সেনা সদর দপ্তর ঢাকার জন্য কোনো সেনা বরাদ্দ করেনি। কারণ, ঢাকা দখলের কোনো চিন্তাই তাঁদের ছিল না। আমি আমার লক্ষ্য অর্জনে বেছে নিই টাঙ্গাইলকে। কারণ ছিল মূলত তিনটি। প্রথমত, টাইগার সিদ্দিকীর সাহায্য পাব। তাঁর অধীনে ২০ হাজার সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তিনি তাঁর বাহিনী দিয়ে আমাদের ছত্রিসেনাদের সুরক্ষা দেবে। দ্বিতীয়ত, জায়গাটা সীমান্ত থেকে খুব দূরেও নয়। তৃতীয়ত, ঢাকার সঙ্গেও যুদ্ধের দূরত্ব বেশি নয়। আমরা উত্তর দিক থেকে ঢাকা আক্রমণের পরিকল্পনা করি। আমরা আশা করি, সিদ্দিকী আমাদের সঙ্গে ঢাকামুখী মার্চে অংশ নেবেন। ছত্রিসেনা পাঠানোর আগে আমি ক্যাপ্টেন পি কে ঘোষকে পাঠাই সিদ্দিকীকে ব্রিফ করতে। তাঁকে ঢাকা অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলি, যাতে তিনি ঢাকায় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে পূর্ণ বিদ্রোহ নিশ্চিত করতে পারেন। নভেম্বরে সিদ্দিকীকে এই বার্তা দেওয়া হয়। সিদ্দিকী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। যুদ্ধ বেধে গেলে তিনি কথা অনুযায়ী ছত্রিসেনা অবতরণে সহায়তা দেন। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করলে তিনি আক্রমণ থেকে বিরত ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সিদ্দিকী বাহিনীর এত অস্ত্রশস্ত্রের জোগান আপনারাই দিয়েছিলেন? কী ধরনের অস্ত্র ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: পুরো অস্ত্র আমরাই দিই। রাইফেল, এলএমজি, গ্রেনেড, বিস্কোরক ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সিদ্দিকীর ওই সিদ্ধান্ত কি সুচিন্তিত ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানি না। তাঁকেই জিজ্ঞেস করে জানুন, পাকিস্তানিরা যখন সরে যাচ্ছিল, তখন তিনি কী করেছিলেন? আর কেন তিনি ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে ঢাকায় মুভ করেননি? যুদ্ধবিরতির পরেই কেবল তিনি তাঁর কিছু সেনা ঢাকায় পাঠান। আমি তাঁকে ১৬ ডিসেম্বরে ঢাকায় দেখি। না, আমি কোনো বিতর্কে যেতে চাই না। তিনি আপনাদের জাতীয় বীর। আমি ইতিহাসের বিবরণ দিচ্ছি মাত্র। টাঙ্গাইলে যখন ছত্রিসেনা নামল, তখন তিনি ভালো ভূমিকা রাখলেন। তাঁদের নিরাপত্তা তাঁরই দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তিনি সেনাদের সঙ্গে ঢাকায় মুভ করেননি। আমি সিদ্দিকীকে বুঝতে পারিনি। তিনি নিশ্চয় মহান সৈনিক।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মস্কোপন্থি ডিপি ধর একাত্তরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান। আত্মসমর্পণের কয়েক দিন পরই আপনি তাঁকে বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ছিটমহলগুলোর যথাযথ বিন্যাস এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ রেল ও নৌ ট্রানজিট বিষয়ে চুক্তি করতে। তাঁকে সতর্কও করেছিলেন যে এটা এখনই না করলে ভবিষ্যতে করা খুবই দুরূহ হবে। কীভাবে এমন দূরদর্শী হতে পারলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি বাস্তবতার নিরিখেই কথাটা বলেছিলাম। সীমান্তের মানুষের জন্য ছিটমহলের ফাঁড়া বহুদিনের। আর ট্রানজিট তো একপক্ষীয় নয়, এটা বহুমুখী হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে নেপাল যেতে পারে। ডিপি ধর কিন্তু আমার সঙ্গে একমত হননি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: নক্সালবাড়ি আন্দোলন কি কোনোভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রভাব রেখেছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: চারু মজুমদারের সেই আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৯−১৯৭২ পর্যন্ত আমি ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ ছিলাম। এ সময় তাদের দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের দায়িত্ব আমিই পালন করছিলাম। সরকার এ জন্য আমাকে পশ্চিমবঙ্গে দুই আর্মি ডিভিশন এবং ৫০ প্যারাস্যুট ব্রিগেড মোতায়েনের অনুমতি দেয়। পরে তাদের যুদ্ধের কাজে লাগে। সৌভাগ্যবশত একাত্তরের পরিস্থিতির কাছাকাছি সময়ে ওই অভিযান শেষ করতে পেরেছিলাম। এর উল্লেখ আমার বইয়ে নেই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুদ্ধকালে ভারত কি সোভিয়েত ইউনিয়ন বা অন্য কোনো মিত্র দেশ থেকে অস্ত্র সহায়তা পেয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। আমরা পাইনি। স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদিত হয়েছে, তা-ই ব্যবহার করা হয়।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: গওহর আইয়ুব দাবি করেছেন যে মানেকশ পঁয়ষট্টির যুদ্ধের ভারতীয় সামরিক পরিকল্পনা পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: গওহর যখন এই দাবি করেন, তখন মানেকশ খুবই অসুস্থ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মানেকশ একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আমি মনে করি না যে এটা আদৌ সত্য। এর কোনো ভিত্তি নেই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে একমাত্র নারী ছিলেন অরোরার স্ত্রী ভান্তি অরোরা। সত্যি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: সত্যি। আমার কাছে তাঁর ফটো রয়েছে। তিনি মারা গেছেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি আপনাকে তাড়া করে ফেরে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তাজউদ্দীন আহমদ একজন ব্রিটিশ এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। সীমান্তের কাছাকাছি একটি স্থানে বৈঠক বসল। কিন্তু দ্রুত বিপদ টের পেলাম। গোলাগুলি চলল। বললাম, প্রধানমন্ত্রী জলদি করুন। কারণ, পাকিস্তানি সেনারা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এখন। আমরা তাঁদের নিরাপত্তায় আমাদের সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছিলাম। সেদিন চেকপয়েন্টের মাস্টে আমার তদারকিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়ল। সে পতাকা আর নামেনি। এ স্মৃতি আমাকে মাঝেমধ্যে আবেগাপ্লুত করে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতা কেমন হলো।&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি আনন্দিত যে বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী দারুণভাবে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অর্জন করেছে। আমি সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঢাকায় খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। আপনাদের সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাবোধ দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার এই ধারণা কি নতুন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আগে এমন প্রত্যক্ষভাবে তো আমি জানতাম না। কিন্তু সফরকালে আমি ভীষণ সন্তুষ্ট হলাম। হাইলি প্রফেশনাল আর্মি। খুবই ভালো প্রশিক্ষিত। খুবই ভালো শৃঙ্খলাপরায়ণ। আমার অন্তরের সবটুকু উষ্ণতা দিয়ে তাদের জানাই অভিনন্দন। সেনাবাহিনীর আতিথেয়তা আমাকে আনন্দে উদ্বেলিত করেছে। সেনাপ্রধান খুবই চমৎকার মানুষ। আমি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অব্যাহত ভালো সম্পর্ক দেখতে চাই। দুই দেশের অবশ্যই উচিত হবে একত্রে কাজ করা। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। উভয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। উভয় দেশেই রয়েছে যথেষ্ট দারিদ্র্য। আমাদের অভিন্ন সমস্যা রয়েছে।&lt;br /&gt;ভুলবেন না যেন আমি বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু। বাংলাদেশের ভীষণ অনুরাগী। দয়া করে আমার বরাতে এমন কিছুই লিখবেন না, যাতে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমার সম্পর্কে কোনো চিড় ধরে। বাংলাদেশের জনগণ আমার একান্ত আপনজন। আমি তাদের ভালোবাসি। ঢাকা সফরকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরম মমতায় আমাকে আলিঙ্গন করেছেন। আমি জনগণের ভালোবাসায় একেবারে সিক্ত হয়ে ফিরেছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পেশাদারির বিবেচনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো তুলনা করবেন কি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। আমি তো দীর্ঘদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছুই জানি না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধের মুখ্য ব্যক্তিত্বের মধ্যে হাতে গোনা যে কজন বেঁচে আছেন, আপনি তাঁদের একজন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানি না, আমি মুখ্য ব্যক্তিদের একজন কি না। আমি আমার কাজ করেছি। কাজটা পছন্দের ছিল। সৈনিকের কর্তব্য পালন করেছি মাত্র।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আর এটাই আপনার সামরিক জীবনের শ্রেষ্ঠতম সাফল্য।&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ। আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এটাই আমার জীবনে অনন্য সুযোগ, যা ইতিহাসের ওপর প্রভাব রাখতে পারে। সৈনিক হিসেবে আমি আমার সর্বোত্তম সামথর্য ও বিবেক দিয়ে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি রাজনীতিক নই, রাজনীতির সব সমস্যা বুঝতেও পারি না। আমাকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। আমি সবচেয়ে ভালো উপায়ে তা করতে চেষ্টা করেছি। ব্যস, এটুকুই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা মূল্যায়ন করুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: ইন্দিরা গান্ধী সাহস ও অঙ্গীকার প্রদর্শন করে গেছেন পুরো সময়। তিনি নিক্সন-কিসিঞ্জারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেপথ্যে ছিলেন তিনি এবং সেই যোগ্যতা তাঁর নিরঙ্কুশভাবেই ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাই ইন্দিরার জীবনের সর্বোত্তম মুহূর্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর ‘ফুল ক্রেডিট’ প্রাপ্য। সেটা ছিল তাঁর রাজনৈতিক ইচ্ছা। এ প্রসঙ্গে ইন্দো-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির কথাও বলতে হয়, যা ছিল পাকিস্তান ছাড়াও চীনের তরফে সম্ভাব্য কোনো অনিষ্টের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কেন ইন্দিরা এমন সাহসিকতার সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যুদয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। আপনার মূল্যায়ন কী?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ইন্দিরা ছিলেন গণতান্ত্রিক নেতা। তিনি দেখলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মুজিবকে স্তব্ধ করা হয়, তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়। নৃশংসতা, উদ্বাস্তু স্রোত তাঁকে বিচলিত করে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতির আলোকে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি ভারতের অবস্থানকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়। কারণ, তাদের মাধ্যমে তারা চীনের সঙ্গে দোস্তি করার উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ছিল আমাদের মৈত্রী চুক্তি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির বিপক্ষে ছিল। তাই তারা মৈত্রী চুক্তি করল। চীন যাতে সংঘাতে না জড়ায়। তারা জড়ালে আমাদের জন্য যুদ্ধজয় কঠিন হতো।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: বাংলাদেশের বিজয়কে যদি আমরা কেবলই সামরিক নিরিখে দেখি, তাহলে বিশ্বের ইতিহাসে এর কি কোনো নজির আছে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: বাংলাদেশে কিন্তু মূলত ছিল জনগণের সংগ্রাম। আমরা কেবল তাতে সহায়তা দিয়েছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: অন্য কোনো নজির?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ভিয়েতনামেরটাও স্বাধীনতার লড়াই। মার্কিন হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে যার সূচনা। তবে সেটা ভিন্ন প্রকৃতির। বাংলাদেশে জনগণের সংগ্রাম। মুক্তিযোদ্ধারা দারুণ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। আমেরিকায়ও স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল। তারা ব্রিটিশদের উৎখাত করে। ব্রিটিশরা সাতচল্লিশে ভারত ছেড়ে যায়। আর ভারত ভাগ তো বিপর্যয় ডেকে আনে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: অনেকে বলেন, ভারতে নিযুক্ত শেষ ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন বাংলাদেশের জন্ন দেখেছিলেন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানি না। তাঁর সঙ্গে মাত্র দুবার আমার সাক্ষাৎ ঘটে। প্রথম দেখা, আমি তখন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। ১৯৪২ সালের আগস্টে জাহাজে চেপে বোম্বে থেকে বসরায় যাই। উত্তর ইরাকে কর্মরত ছিলাম কিছুদিন। এরপর সমুদ্রপথে করাচি হয়ে শিয়ালকোট। অতঃপর বার্মায়। আরাকান উপকূলীয় যুদ্ধে আমরা রামরি দ্বীপ দখল করি। এ সময় জাপানি বিমান হামলায় আমি আহত হই। আমাদের বলা হয়েছিল, আমরা মাদ্রাজে বিশ্রাম নেব। কিন্তু পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই আবার নতুন অভিযানের প্রস্তুতির নির্দেশ আসে। আমরা ভয়ানক হতাশ হই। এ সময় আমাদের নৈতিক মনোবল দেখতে এসেছিলেন লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন। দ্বিতীয়বার দেখা, ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট ব্রাগে। তখন অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়। তিনি ভারতের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা বলেন। কিন্তু দেশভাগের প্রশ্ন আসেনি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: একাত্তরের আগে পাক সেনাবাহিনীতে আপনার অনেক বন্ধু-সহকর্মী ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ, নিশ্চয়, নবম ডিভিশনের জিওসি শওকত রেজা। পরে তিনি ডিজিএমও হন। তিনি ছিলেন আমার ব্যাটারি ক্যাপ্টেন। বার্মা ক্যাম্পেইনে সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: অন্য কেউ?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আজমত ছিলেন। সেকান্দার হায়াত।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুদ্ধের সময় কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি যাঁদের জানতাম তাঁদের কারও সঙ্গে কথা হয়নি। নবম ডিভিশন দুর্নাম অর্জন করেছিল। ম্যাসকারনহাস অনেক লিখেছেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ১৬ ডিসেম্বরের পরে কি তাঁদের কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। আমার তেমন কোনো আগ্রহও ছিল না। পরে কখনো পাকিস্তানেও যাইনি। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে শিয়ালকোটে ছিলাম। পাকিস্তানের স্মৃতি এতটুকুই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: এমন কিছু বলুন, যা আপনি আপনার বইয়ে লেখেননি।&lt;br /&gt;জ্যাকব: পাকিস্তানি একজন ব্রিগেডিয়ারকে নিয়ে পাকিস্তানি স্টাফ কারে চেপে আপনাদের পুরোনো এয়ারপোর্ট থেকে নিয়াজির হেডকোয়ার্টারে যাচ্ছিলাম। এ সময় আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে মুক্তিযোদ্ধারা গুলি ছোড়েন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তার মানে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার?’&lt;br /&gt;জ্যাকব: অনেকটা তা-ই। (হাসি)&lt;br /&gt;প্রথম আলো: এই ঘটনাটা কি বইয়ে নেই? কখনো কি প্রকাশ করেছেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। আপনাকেই বলছি। আমি এ ঘটনা লিখিনি। কারণ, মুক্তিযোদ্ধারা তো আর আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েননি। আমিই ছিলাম পাকিস্তান আর্মির গাড়িতে। তাঁরা তা জানতেন না। গুলি আসতেই আমি গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি এ ঘটনা আপনার বইয়ে একেবারেই উল্লেখ করেননি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ঈষৎ ইঙ্গিত রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরের সকাল সোয়া নয়টায় জেনারেল স্যাম মানেকশ আমাকে টেলিফোন করেন। বলেন, দ্রুত ঢাকায় গিয়ে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের গোছগাছ করতে। যশোরে হেলিকপ্টার বদলে ঢাকার আকাশে পৌঁছাতে দেখি একটি হেলিকপ্টার চক্কর কাটছে। টারমাকে ১৮টি পাক যুদ্ধবিমান (পরে জেনেছি ওগুলো ছিল ভূপাতিত)। আমরা দেখলাম বিমানবিধ্বংসী কামানের নল আমাদের হেলিকপ্টারের দিকেই তাক করা। আমাদের এয়ার কমোডর ফিরে যেতেই চাইলেন। কিন্তু আমি পাইলটকে অবতরণের নির্দেশ দিই। পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার বকর সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ মিলল। জাতিসংঘ প্রতিনিধি ও ফরেন প্রেস কোরও ছিল। তো আমরা নিয়াজির সদর দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দিলাম। পথিমধ্যে মুক্তিবাহিনী আমাদের আটকায়। তারা মেজাজে যুধ্যমান, ভাঙচুর শুরুর জন্যও প্রস্তুত ছিল। আমি তাদের বোঝালাম, বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি রক্তপাতহীন ক্ষমতা হস্তান্তরই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি বইয়ে লিখেছিলেন, ওই সময় ফরেন প্রেস ছিল। তারা কি গুলিবর্ষণের কথা জেনে গিয়েছিল।&lt;br /&gt;জ্যাকব: না, তারা পরে এসেছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ১৬ ডিসেম্বর কয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দুপুর ১২টার দিকে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি বইয়ে লিখেছেন, ‘অন দ্য ওয়ে টু নিয়াজি’স হেডকোয়ার্টার্স, উই ওয়্যার স্টপড বাই দ্য মুক্তিবাহিনী’।&lt;br /&gt;জ্যাকব: এখানে পড়তে হবে উই ওয়্যার স্টপড বাই ফায়ার (হাসি)। আমি গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে বলি, থামুন থামুন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কেন পাকিস্তানি আর্মির গাড়িতেই চড়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমরা তো কেবল হেলিকপ্টারে এসেছি। তাদের গাড়িতে না চড়ে উপায় কী? নিয়াজির হেডকেয়ার্টারে তো আমি হেঁটে যেতে পারব না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি লিখেছেন, একাত্তরের যুদ্ধের কোনো কর্তৃপক্ষীয় বা নৈবর্যক্তিক বিবরণ এখনো বের হয়নি। একটি সরকারি ইতিহাস প্রস্তুত করা হলেও তা প্রকাশিত হয়নি। তবে এর লেখকদেরও সংবেদনশীল দলিলাদি দেখতে দেওয়া হয়নি।&lt;br /&gt;জ্যাকব: বাষট্টি সালের যুদ্ধের ইতিহাস, হ্যাণ্ডারসন রিপোর্ট আজও অপ্রকাশিত। একাত্তরের ইতিহাস নিয়ে নানা দৃষ্টিভঙ্গি আছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন এটা প্রকাশিত হওয়া উচিত?&lt;br /&gt;জ্যাকব: উচিত। কোনোভাবেই বিকৃত ইতিহাস কাম্য নয়। ট্রুথ মাস্ট কাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ভারত সরকার ভাবতে পারে এ বিষয়ে এখনো স্পর্শকাতরতা রয়েছে। আপনি কি মনে করেন এটা এখন ছাপার সময়।&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি তা-ই মনে করি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে অনেক কিছুই ডিক্লাসিফাই বা উন্নুক্ত করেছে।&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ। সবচেয়ে চমকপ্রদ লেগেছে যে আত্মসমর্পণের পরেও কিসিঞ্জার নিক্সনকে বলছেন, ওয়েলডান, উই গট পাকিস্তান টু সিজফায়ার। এটা কোনো কথা হলো? আমেরিকানরা কিন্তু সারেন্ডার আশা করেনি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: রাশানদের আশা কী ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি তা জানি না। তবে তারা আমাদের চাপ দিচ্ছিল যাতে তাড়াতাড়ি যুদ্ধ শেষ করি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আজ এত বছর পরে আপনার কী মনে হয়? নিক্সন-কিসিঞ্জার কেন এভাবে মরিয়া হয়ে পাকিস্তান ও ইয়াহিয়ার পক্ষ নিল।&lt;br /&gt;জ্যাকব: কৃতজ্ঞতা থেকে। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দোস্তির সেতুটা তৈরি করেছিল পাকিস্তান।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: এটাই কি একমাত্র কারণ ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমার তাই মনে হয়। অন্য কারণ থাকতে পারে। তবে এটাই মূল কারণ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: একাত্তরের যুদ্ধের বিষয়ে আপনার কাছে কি কোনো মূল্যবান দলিল রয়েছে? ব্যক্তিগত কোনো সংগ্রহশালা?&lt;br /&gt;জ্যাকব: কোনো দলিলপত্র নেই। বইটা লিখেছি আমার ব্যক্তিগত নোট থেকে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কি ডায়েরি লিখতেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না, তবে নোট রেখেছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সেই নোট কি আছে? দেখতে পারি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: বই লেখার পর আমি তা নষ্ট করে ফেলেছি। আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহ কিছুই নেই। হাতের লেখা খুব খারাপ। তাই নোটগুলোও রাখিনি। তাতে আমার মত ইত্যাদি লেখা ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাই বলে কোনো স্মৃতিই নেই?&lt;br /&gt;জ্যাকব: কিছুই নেই। কেবল একটি চিঠি। জেনারেল গিলের। কিন্তু তা যুদ্ধের পরে লেখা। অবশ্য জেনারেল মানেকশ ৮ মার্চ ১৯৭৮ আমাকে যে একটা প্রশ্নপত্র দিয়েছিলেন সেটাও ছিল। তার মূল কপি এখন নেই। নোটের সঙ্গে কিছু কাগজপত্রও আমি নষ্ট করেছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাহলে যুদ্ধের কোনো প্রত্যক্ষ স্মৃতিই নেই?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তিন সপ্তাহ আগে আমি একটি ভিডিও ক্লিপ পেয়েছি। ৮ ডিসেম্বরের দিকে পাকিস্তানিরা পশ্চিমাংশে মহড়া দিচ্ছিল। তারা গুজব প্রচার করছে অমৃতসর, শ্রীনগর, জম্মু দখল করে নিয়েছে। তারা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানে তোমরা লড়াই চালিয়ে যাও। এসব খন্ডন করে তখন যে ব্রিফ করছিলাম তারই একটি ভিডিও ক্লিপি।&lt;br /&gt;আমাদের সিস্টেমে কোনো রেকর্ড ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার নিয়ম নেই। তাই রাখিনি। তবে আমার নোটে রাখা এমন কোনো একটি বাক্যও রাখিনি, যা বইতে লিখিনি। যুদ্ধের পরে আমি কয়েকটি ব্যক্তিগত চিঠি পেয়েছিলাম, তা দেখাব না। সে চিঠিগুলো যুদ্ধবিষয়ক নয়, বন্ধুবান্ধবদের লেখা। কোনো সরকারি কিছুই আমার কাছে নেই, এটা নিশ্চিত। আমি বইতে যা দিইনি, তার চেয়ে ঢের বেশি আপনাকে বলে ফেলেছি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে আপনার হাতে একটি ঘড়ি দেখা গেছে। সেটি থাকলে ছবি নিতে চাই।&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ সেটি কিন্তু রক্ষিত আছে। তবে আপাতত দেখাতে পারছি না। কারণ তালাবদ্ধ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কেন নিয়াজিকে তার তরবারি সমর্পন করতে বলেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ইতিহাস প্রাচীন প্রথা হলো পরাজিত জেনারেল তাঁর তরবারি বিজয়ী জেনারেলের কাছে সমর্পন করেন। নিয়াজি বললেন, আমার তরবারি নেই। বললাম, তাহলে পিস্তল দিন, তাতেই চলবে। আমি যখন তার পিস্তলটি পরীক্ষা করলাম, দেখলাম অকেজো, কতকাল পরিস্কারই করা হয়নি। এটা নিশ্চয় কোনো জেনারেলের পিস্তল হতে পারে না। যাক, সমর্পনতো প্রতিকী ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পিস্তলটি এখন কোথায়?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দেরাদুনের মিলিটারি একাডেমিতে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধের সবর্াধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ওসমানী মহান জাতীয় নেতা ছিলেন। কোনো সমস্যা ছিল না তাঁর সঙ্গে আমার। আমি তাঁকে খুবই পছন্দ করি। কিন্তু আমরা ভাবতাম ভিন্নভাবে। কেবল ওসমানীই নন। মানেকশসহ অনেকের সঙ্গেই আমার ভাবনার বৈপরীত্য ছিল। ওসমানী আমাকে বলেছিলেন, ইস্ট বেঙ্গলকে তিনি নিয়মিত পদাতিক ব্যাটালিয়ন হিসেবে দেখতে চান। আর সেটি পাকিস্তান আর্মির মডেলেই রাখতে আগ্রহী।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: এতে কি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সৃষ্টি করা হয়েছিল পাঞ্জাবের মতো ভূখন্ডে নির্দিষ্ট ধরনের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য। পাকিস্তান আর্মির ডিজাইনটা ছিল প্রধানত পশ্চিম পাকিস্তানের জন্যই। এমনকি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকেও গড়া হয়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য। তাদের যেসব অস্ত্রে প্রশিক্ষিত করা হয় তার পেছনেও ছিল ওই চিন্তা। সুতরাং একাত্তরের যে সময়টাতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের যুদ্ধ করতে হয় সে জন্য তাদের একটি ভিন্ন রণকৌশল নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যাতে তারা নদীমাতৃক, ঝোপঝাড়, ধানক্ষেতবেষ্টিত বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত পারে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কেন ওসমানী সেটা করেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: অন্য কোন কারণে নয়। তিনি যেহেতু পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষিত ছিলেন, তাই তিনি সেই সাংগঠনিক কাঠামোর আলোকেই হয়তো ভেবেছেন। অন্য কোনো কারণ নয়। ওসমানি এতেই অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সেভাবেই দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। তবে পাকিস্তান আর্মিকে ধানক্ষেত, বনবাদাড় ও নদীবেষ্টিত ভুখণ্ডে যুদ্ধের জন্য তৈরি করা হয়নি। তাঁরা চেনে পাঞ্জাবের ভূখন্ড। সেক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির আলোকে তৈরি করা প্রয়োজন ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাহলে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ওসমানী সাহেবের ওই চিন্তা ভুল ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না, আমি তাঁর সামরিক পরিকল্পনার বিচার করতে পারি না। তিনি বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে পরিকল্পনা নিয়েছেন। আমি আমার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ভিন্ন মত ছিল, কেবল এটুকু বলতে পারি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতিকে কীভাবে দেখেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম যে, এমএজি ওসমানি এবং মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি একে খোন্দকার থাকবেন। তাছাড়া তিনি তো যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে জনতেন। কিন্তু তিনি সিলেট গিয়েছিলেন। তাকে আনতে হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু পথে বৈরী গুলিবর্ষণে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যথাসময়ে সেটি আর মেরামত করা যায়নি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তিনি কি তবে সুচিন্তিতভাবেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান এড়িয়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি তা জানি না। আমি তাঁর উপস্থিতি একান্তভাবেই চেয়েছিলাম। সুতরাং সেটা আমাদের ভুল নয়। তাকে ইচ্ছে করে দূরে সরিয়ে রাখার কথা নেহাৎ অপপ্রচার। খন্দকার তো ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: জেনারেল ওসমানী ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও সামরিক উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাঁকে বাছাই করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার কি কোনো ধারণা ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানতাম না। তিনি জ্যেষ্ঠ ছিলেন। আগেই বলেছি, আমার সঙ্গে অনেক বিষয়ে তাঁর মতের গরমিল হয়, সমস্যা হয়।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি যুদ্ধজয়ের জন্য মুক্তিবাহিনীকে এবং ওসমানী নিয়মিত বাহিনীকে প্রধান শক্তি বিবেচনা করেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ঠিক তাই। আমি আমার সবটুকু মনোযোগ মুক্তিবাহিনীর প্রতি ঢেলে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নিয়মিত ব্যাটালিয়ন গড়তেই মনোযোগী হন। আমি তাতে কিছু মনে করিনি। কিন্তু সমস্যা হয়, আমি মুক্তিবাহিনীর জন্য যাদের সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্য মনে করেছি, তিনি তাঁর বাহিনীর জন্য তাদেরকেই আশা করলেন। নিয়মিত বাহিনী গড়তে সময়ের প্রয়োজন ছিল বেশি। আমি মুক্তিবাহিনীর প্রতি খুবই আস্থাবান ছিলাম। বাংলাদেশ কিন্তু মুক্তিবাহিনী ও নিয়মিত উভয় বাহিনীর জন্য গর্ব করতে পারে। কারণ তাঁরা অসামান্য ভুমিকা রাখে। তবে তুলনামূলকভাবে মুক্তিবাহিনীই নিয়মিত বাহিনীর চেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তাদের ভূমিকাটাই বড় ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাঁর সঙ্গে আর কি মতানৈক্য ঘটেছিল যদি একটু খুলে বলেন-&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল অঞ্চলে সেনা সমাবেশ ঘটানোর পরিকল্পনায় সংকল্পবদ্ধ থাকি; কিন্তু ওসমানী তা চাননি। তিনি যুক্তি দিলেন, তাঁর জন্নস্থান সিলেট। পরিচিত এলাকা। তাই তিনি তাঁর বাহিনীকে সিলেট অঞ্চলেই মোতায়েন করতে চাইলেন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলো। আমরা একমত হতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ‘হি মুভড হিজ ফোর্সেস টু সিলেট।’&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি লিখেছেন, ওসমানীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এ কে খন্দকার উত্তম অফিসার ছিলেন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: জেনারেল ওসমানী যেভাবে ’রিজিড’ ও ‘ভেরি সেট’ আইডিয়ার লোক ছিলেন, খন্দকার ছিলেন এর উল্টো। তিনি যথেষ্ট সদাশয় ছিলেন। দেখুন এনিয়ে যেন আবার অহেতুক বিতর্ক না হয়। আবার বলছি, ওসমানী ছিলেন মহান সৈনিক। আমি যাকে তাঁর কঠোরতা বলছি, সেটাই হয়তো তাঁর বিবেচনায় সঠিক পথ ছিল। তাঁর নিজস্ব ধ্যান-ধারণা তো থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি তাঁর ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুদ্ধকালে আপনি বিদেশি সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না, সাক্ষাৎকার দিইনি। তবে তাদের অফ দ্য রেকর্ড ব্রিফ করেছিলাম। লন্ডনের সানডে টাইমস-এর নিকোলাস টমলিনের প্রথম ও শেষ রিপোর্ট আমার সঙ্গে কথার ভিত্তিতেই হয়েছিল। টমলিন পরে গোলান উপত্যকা কভার করতে গিয়ে নিহত হন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এক দিনই। দিনটা হয়তো ২৩ মার্চ হবে। ভারতের সেনা প্রত্যাহারের ঠিক আগে। চার-পাঁচ ঘণ্টা তাঁর কাছে ছিলাম। তাঁকে খুবই বিশ্বস্ত ও ডেডিকেটেড মনে হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে মেঝেতে বসেছিলাম। জায়গাটা তাঁর সরকারি দপ্তর হবে। কিন্তু সেখানে কোনো চেয়ার ছিল না। ফোনের পর ফোন আসছিল। তিনি বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তার কোনো রেকর্ড রাখা হচ্ছিল না। তাঁকে পছন্দ হয়েছে। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। তাজউদ্দীনও আমার খুব পছন্দের ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কি তাঁর সঙ্গে মেঝেতেই বসেছিলেন? বাড়িটা তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ। তবে জায়গাটা আমি স্মরণ করতে পারি না। তিনি সেদিন দেশের উন্নয়ন, তাঁর জনগণের কিসে কল্যাণ হবে সে বিষয় নিয়েই কথা বলেছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সেক্টর কমান্ডারদের সঙ্গে কথোপকথন মনে আছে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: খালেদ মোশাররফের সঙ্গে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। আপনি আমাকে ৩৭ বছর আগের কথা স্মরণ করতে বলছেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: জিয়াউর রহমানের সঙ্গে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: বিশেষ কিছু মনে পড়ছে না। তবে কয়েকবারই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেছে। তিনি খুবই উন্নত সৈনিক ছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কোথায় দেখা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি যখন পূর্বাঞ্চলে সফর করছিলাম। হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কোন মাসে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি অনেক ঘুরেছি। কোন মাস মনে পড়ছে না। মে থেকে জুলাইয়ের কোনো সময়। জলিলকে জানতাম। জলিল কোথায় এখন?&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তিনি মারা গেছেন। আপনি লিখেছেন, জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: জিয়া ২৭ মার্চে ঘোষণা দেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি বইয়ে তারিখ এটাই লিখেছেন। আপনি নিজেও শুনেছিলেন কি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি নিজে শুনেছি। আমরা অনেকেই শুনেছি। তবে খুব স্পষ্টভাবে শুনতে পাইনি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি লিখেছেন, আপনি মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ ধারণাটা আপনার মাথায় কীভাবে এল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জেনারেল দ্য গল স্বাধীন ফ্রেঞ্চ সরকার গঠন করেছিলেন। আমি সেই ভাবনা থেকে একটি ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করে তাজউদ্দীনকে দিই। তাঁরা অনেক আইনবিদকে নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কি ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করে দিয়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। ঘোষণাপত্রের আকারে একটি শর্ট ড্রাফট দিয়েছিলাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার কি দু-একটি বাক্য মনে পড়ে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না (হাসি)। অনেক আগের কথা।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে আপনার আলোচনা−&lt;br /&gt;জ্যাকব: তিনি পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে খুবই সোচ্চারকণ্ঠ ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চেয়েছিলেন। এটুকু আমি স্মরণ করতে পারি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধকালে আপনি কি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোনো বার্তা পেয়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: প্রবাসী সরকার কতটা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করেছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তারা খুবই যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। তাজউদ্দীন মেধাবী ছিলেন। তিনি খুবই মানবিক, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও মন ছিল বিশাল। চিন্তা-ভাবনাতেও ছিলেন উদারনৈতিক। ওই সরকারের সবাই ডেডিকেটেড ছিলেন। কলকাতায় পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনার ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের প্রস্তাব আমিই কিন্তু তাজউদ্দীনকে পৌঁছে দিই। বললাম, তাঁরা পেনশন ও চাকরিজীবনের নিশ্চয়তা চান। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন তা নিশ্চিত করেন। এরপর তাঁরা এলেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে আপনার কখনো যোগাযোগ বা আলাপের সুযোগ ঘটেছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাত্ত্বিকভাবে ভারতীয় সেনাদের সহায়তা ছাড়া মুক্তিবাহিনীর পক্ষে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: খুবই হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন। আমি যেটা বলতে পারি, তা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল একটি যৌথ প্রচেষ্টা। ভারতীয় সেনা ও মুক্তিবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। উভয়ে উভয়ের প্রতি নির্ভরশীল ছিল। উভয়ের মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকার আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য উভয়ে কৃতিত্বের দাবিদার।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি জেনারেল মানেকশর পরিকল্পনা পরিহার করে ঢাকার পতন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন এবং তাতে সফলও হন। এ কথা যখন আপনি বইয়ে প্রকাশ করেন, তখন মানেকশর কী প্রতিক্রিয়া ছিল? এ নিয়ে কি কোনো কথা হয়েছে আপনাদের মধ্যে?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমার বইটি ১৯৯৭ সালে প্রথম বের হয়। তখন মানেকশ বেঁচেছিলেন। তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। কারণ, আমি যা বলেছি তা তো রেকর্ডের ভিত্তিতে। সবকিছুই সেনা সদর দপ্তরে রক্ষিত আছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কেন ও কীভাবে আপনি এমন অভাবনীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: অপারেশনের মূল আদেশে টার্গেট ছিল খুলনা ও চট্টগ্রাম এবং তার ভূখণ্ড। পরোক্ষ ইঙ্গিত ছিল সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা। আমি বুঝলাম, কোনো আধাখেঁচড়া বিজয় দিয়ে প্রবাসী সরকার করা যাবে না। দরকার পূর্ণ বিজয়। আর সে ধরনের বিজয় ঢাকাকে মুক্ত না করে পারা যাবে না। ঢাকা কেবল বাংলাদেশের জিওপলিটিক্যাল নয়, জিওস্ট্র্যাটেজিক্যাল ও জিওকালচারাল কেন্দ্রবিন্দুও বটে। সুতরাং ঢাকাকে বাদ দিয়ে কোনো যুদ্ধজয় সফল হতে পারে না। এই ভাবনা থেকেই আমি সেনা সদর দপ্তরের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করি। তা ছাড়া পুরো যুদ্ধে আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ। নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন। কারণ, যুদ্ধবিরতি ঘটিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অজর্নের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করাই ছিল শত্রুশিবিরের কৌশল। নিরাপত্তা পরিষদে কখন কী ঘটে সে চিন্তায় আমি বহু নিঘর্ুম রাত কাটিয়েছি। বিশেষ করে ভেটো পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা আমাকে অস্থির রাখত। আমাদের আসন্ন যুদ্ধজয় সম্পকের্ তখন পযর্ন্ত আমরা বিশ্বকে তেমন কিছুই দেখাতে পারছিলাম না। বড় কোনো শহরই আমরা দখল করতে পারিনি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ঢাকাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্য কোনো সমর ইতিহাস থেকে কোনো পাঠ নিয়েছিলেন কি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বার্মা, বার্মা থেকে সুমাত্রা। সুমাত্রার আরাকানসহ আরও কয়েকটি স্থানে আমরা অবতরণ করেছিলাম। কিন্তু সবাই ছিল সাবসিডিয়ার। মূল লক্ষ্য ছিল রেঙ্গুন। বার্মাকে স্বাধীন করা। রেঙ্গুনকে দখল করা ছাড়া বার্মাকে মুক্ত করার রণকৌশল সফল হওয়া সম্ভব ছিল না। জাপানি বাহিনী রেঙ্গুন থেকেই পুরো বার্মা নিয়ন্ত্রণ করছিল। তো আমি ওই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলাম। ওই অবস্থা শতভাগ অভিন্ন নয়, তবে মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল অভিন্ন। আমি বুঝলাম খুলনার মতো কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুরো দখল করে নিতে পারলেও তা খুব কাজে দিত না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তবে জেনারেল মানেকশ তথা ভারতের সেনা সদর দপ্তরের পরিকল্পনায়ও নিশ্চয় একটা কৌশলগত যুক্তি ছিল।&lt;br /&gt;জ্যাকব: ঠিক আছে, আমাকে বলতে দিন। আমি পাকিস্তানি বাহিনীর রণকৌশল খতিয়ে দেখলাম। তারা ভূখণ্ড রক্ষায় ব্যতিব্যস্ত ছিল, এক ইঞ্চি ছাড়বে না, যা ছিল মূর্খতা। শহরগুলোকে রক্ষায় তারা ছিল ভীষণ ব্যাকুল। নিয়াজি যদি নদী পারাপারের স্থানগুলোতে পাহারা বসাতেন, তাহলে আমাদের খুব দুর্ভোগ পোহাতে হতো।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সিএনবিসি প্রচারিত সাক্ষাৎকারে আপনি ফিল্ড মার্শাল মানেকশর মূল্যায়নে ভারত সরকারের রক্ষণশীলতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। আপনার প্রতি সরকার কতটা সদয় হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি একজন সৈনিক। সৈনিক হিসেবে আমি বিধিবিধানের বাইরে একচুলও নড়তে চাই না। সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে আচরণবিধি মানতে হবে। তাই আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। ভারতীয় সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনি কি বিশেষ কোনো ভাতা বা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: ৩৭ বছর সেনাবাহিনীতে কাটানোর পর মাসে এক হাজার ১০০ রুপি করে পেনশন ভাতা পেতে শুরু করি। মানেকশ সেনাপ্রধান ছিলেন। তাই পেতেন এক হাজার ৩০০ রুপি। এটা নিশ্চয় ‘জেনারাস’ নয় (হাসি)। সৈনিক ও সেনা কর্মকর্তারা ক্ষুদ্র বেতনে চাকরি করেন। পেনশনও পান সেভাবে। তবে নতুন পে কমিশন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবমুক্ত হওয়া পেন্টাগন দলিল থেকে দেখা যাচ্ছে, একাত্তরের যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রুশ-মার্কিন আলোচনা চলছিল কী করে পূর্ব পাকিস্তানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে রক্ষা করা যায়।&lt;br /&gt;জ্যাকব: যুদ্ধের রাজনৈতিক দিক সম্পর্কে আমি বলতে পারব না; যদিও মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ কিটিংয়ের সঙ্গে আমার একাধিক বৈঠক হয়েছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুদ্ধকালে কতবার কিটিং আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দুবার। তিনি কলকাতাতেই আসেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কী ছিল আপনাদের আলোচনার বিষয় এবং এর ফলাফল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: কিটিংকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, নিক্সন-কিসিঞ্জার কেন অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন দিচ্ছেন, যারা বাংলাদেশের জনগণের ওপর নৃশংসতা চালাচ্ছে? ফোর্ট উইলিয়ামে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের দিন আর্মি কমান্ডার অনুপস্থিত ছিলেন। আমিই তাঁর সঙ্গে কথা বলি। আমার মনে আছে, আমার প্রশ্নের জবাবে কিটিংয়ের সংবেদনশীল মুখ ঈষৎ উজ্ব্বল হলো। তবে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ কিংবা তাঁর সরকারের সমর্থনে কোনো বক্তব্য দেননি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কিটিং কোনো বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। কোনো বার্তাও বয়ে আনেননি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: একাত্তরে সিনিয়র বুশ জাতিসংঘে ভারতকে আগ্রাসী শক্তি বলেছিল। এখন আপনি জীবদ্দশায় দেখলেন জুনিয়র বুশ পরমাণু চুক্তি করে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেমন লাগছে আপনার?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি আপনার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলছি। পরমাণু বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমি এক সাধারণ সৈনিক। আমি যা জানি না, সে বিষয়ে কথা বলতে চাই না।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পশ্চিম পাকিস্তান জয়ের কি কোনো লক্ষ্য ছিল? অবমুক্ত করা কোনো দলিল থেকে এমন আলামত মিলছে।&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পশ্চিম ফ্রন্টে সেনা মোতায়েন দরকার ছিল। আমি এখান থেকে পাঠাতে প্রস্তুত ছিলাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনে−&lt;br /&gt;জ্যাকব: পশ্চিম পাকিস্তানকে ধ্বংসের কোনো উদ্দেশ্যই আমাদের ছিল না। ‘ইট ওয়াজ এ লোকাল ওয়ার।’&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের করায়ত্ত করে নেওয়া প্রসঙ্গও তাতে দেখছি−&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। কোনো আলোচনাই হয়নি। আর্মি কখনো এমন আলোচনায় যোগ দেয়নি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: এমন ইঙ্গিতের সপক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ডিক্লাসিফাইড (উন্নুক্ত) দলিল রয়েছে−&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানি, এ রকম কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। আমি বরং আপনাকে তাজউদ্দীনের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনার কথা বলতে পারি। দ্য গল কী করে ইংল্যান্ডে গিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন, তা আমি তাঁকে বললাম। তিনিই আমাকে একটি খসড়া দিতে বললেন। আমি তো আইনের লোক ছিলাম না। কয়েকটি পয়েন্ট মুসাবিদা করে দিলাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: রাজাকার, আলবদরদের সম্পর্কে কিছু বলবেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তারা তো আপনাদেরই লোক। আপনারাই ভালো জানবেন তাদের সম্পর্কে। আপনারাই তাদের সম্পর্কে ভালো বিচার করার অবস্থানে রয়েছেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: না। আপনাকে বিতর্কে টানছি না। জানতে চাচ্ছিলাম রাজাকাররা কীভাবে রণাঙ্গনে আপনাদের জন্য প্রতিকূলতা তৈরি করেছিল।&lt;br /&gt;জ্যাকব: হ্যাঁ। তারা যশোরসহ বহুস্থানে আমাদের অগ্রযাত্রায় বাধার সৃষ্টি করে। তারা অনেককে হত্যা করেছে। আমরা যশোর এলাকা থেকে মাগুরা অভিমুখে একদল সেনা পাঠিয়েছিলাম। ৭ বা ৮ ডিসেম্বর। রাজাকাররা পথিমধ্যে বাধা দেয়। সেই সংঘর্ষে আমরা একজন সিও ও বেশ কিছুসংখ্যক সেনা হারাই। একজন লে. কর্নেলসহ ১৩-১৪ জন প্রাণ হারায়।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তারা নিহত হয় কি কেবল রাজাকারদের হাতেই, নাকি পাকসেনারা সহায়তা দিয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। এ ঘটনায় কেবল রাজাকাররাই ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: দেশের অন্যত্র?&lt;br /&gt;জ্যাকব: চট্টগ্রামসহ আরও অনেক স্থানে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে রাজাকারদের যুদ্ধ হয়েছে। একইভাবে তারা আপনাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও লড়েছে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: কতজন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারায়?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এক হাজার ৪২১ নিহত এবং চার হাজার ৫৮ জন আহত হয়। তিনজন জেসিও এবং ৫৩ জন ওআর আজও নিখোঁজ রয়েছেন।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ঢাকার পতন নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আপনার সম্পর্কে মানেকশর মন্তব্য কী ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কখনো আলোচনা হয়নি। তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তিনি কি আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি জানি না, তিনি আমাদের প্রশংসা করেছিলেন কি করেননি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তিনি কি আপনার বই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। কখনোই নয়।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার যুদ্ধ-পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও অন্যান্য মহলের মূল্যায়ন কেমন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তা আমার জানা নেই। আমার কাজ আমি করেছি। একাত্তরে রণাঙ্গনে আমি আমার সর্বোত্তম সামথর্য অনুযায়ী তা করেছি। যত দূর সম্ভব বিবেক দ্বারা পরিচালিত হতে চেয়েছি। আমি আমার কাজের বিচার করতে পারি না, এটা অন্যের কাজ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ১৬ ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের শেষ মুহূর্তগুলো একটু স্মরণ করুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: যখন আমি নিয়াজির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছিলাম তিনি বললেন, কে বলেছে যে আমি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি। আমি এসেছি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে। তাঁর অধীনে ২৬ হাজার ৪০০ সেনা তখন ঢাকায়। ঢাকার দক্ষিণে আমাদের সেনাসংখ্যা মাত্র তিন হাজার। হামিদুর রহমান কমিশন নিয়াজিকে এ প্রশ্ন করেছিল যে ২৬ হাজার সেনা যখন ঢাকায়, তখন তারা আরও কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারত। তখন জাতিসংঘের অধিবেশনও চলছে। ভারতীয় সেনাদের ফিরে যেতে বাধ্য করার একটা সম্ভাবনা ছিল। তাহলে তারা কেন জনসম্মুখে মানমর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে লজ্বাজনকভাবে আত্মসমর্পণ করল? এমনকি তাদের গার্ড অব অনার পর্যন্ত দিতে হলো? নিয়াজি উত্তর দিয়েছেন, ‘জেনারেল জ্যাকব আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন।’ তিনি তাঁর বইয়েও তা লিখেছেন। আরও বলেছেন, তাদেরকে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছি। এসবই অসত্য, রাবিশ। আমি নিয়াজিকে ব্ল্যাকমেইল করিনি। এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণের দলিলের খসড়া কীভাবে তৈরি হলো?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমার নিজের হাতেই টাইপ করা। আমি ১৩ ডিসেম্বরে যখন নিয়াজির সঙ্গে কথা বলা শুরু করি, তখনো আমার সরকারের তরফে কোনো কনফারমেশন ছিল না। আমি নিজেই উদ্যোগী ছিলাম।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আইনগত দিক কীভাবে খতিয়ে দেখেছিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি বিশেষজ্ঞ ছিলাম না। কিন্তু ইতিহাসের আশ্রয় নিয়েছি। যেটা চূড়ান্ত হয়ে এল, সেটা আসলে আমারই, কেবল হেডিংটায় ভুল ছিল। খসড়াটি আমি দিল্লি পাঠাই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: রেসকোর্স কেন বেছে নিলেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি তাঁকে বললাম, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে রেসকোর্স ময়দানে, জনতার সামনে। নিয়াজি বললেন, না। আমার অফিসে হবে। আমি বললাম, না, ওখানেই হবে। ঢাকার মানুষ উপস্থিত থাকবে। কারণ, তারাই বড় বেশি নির্যাতন ও নৃশংসতার শিকার হয়েছে। রেসকোর্সের সেই আত্মসমর্পণই ইতিহাসের একমাত্র পাবলিক সারেন্ডার।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণের দলিল চূড়ান্তভাবে কলকাতায় সই হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আত্মসমর্পণের যে দলিলটি কলকাতা থেকে টাইপ করে অরোরা বয়ে আনেন, তাতে কিছু ভুলত্রুটি ছিল। দুই সপ্তাহ পরে কলকাতায় সেটি দ্বিতীয়বারের মতো সই হয়েছিল। চুক্তির হেডিংয়ে ভুল ছিল। লেখা ছিল আত্মসমর্পণের দলিল সই হবে ১৫৩১ (বিকেল ৩.৩১) মিনিটে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আত্মসমর্পণের দলিলে লেখা এমন কোনো শব্দ বা বাক্যের কথা আপনার মনে পড়ে, যা পাকিস্তানিদের অনুরোধে সংযোজন করা হয়েছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: না। জেনারেল রাও ফরমান আলি বরং চূড়ান্ত দলিল দেখে বললেন, কে বলেছে, আমরা যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ কমান্ডের কাছে আমাদের আত্মসমর্পণের কোনো প্রশ্নই আসে না। বললাম, আমি আপনাদের কাছে যে খসড়া দিয়েছিলাম, তাতে জয়েন্ট কমান্ডই লেখা ছিল। আমি নিয়াজিকে বললাম, এর চেয়ে ভালো শর্ত দিতে আমরা অপারগ। আপনাকে ৩০ মিনিট সময় দিলাম। হয় আপনারা এটি মেনে নিন, অন্যথায় আবার শুরু হতে পারে সংঘাত। তখন ঢাকায় তাদের ২৬ হাজার সেনা। আর ৩০ মাইল দূরে আমাদের তিন হাজার সেনা অপেক্ষমাণ।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আপনার জীবনের সর্বোত্তম মুহূর্ত কোনটি?&lt;br /&gt;জ্যাকব: বেলা পৌনে দুটো। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। স্থান নিয়াজির অফিস। যখন আমি নিয়াজির টেবিল থেকে আত্মসমর্পণের দলিলটি হাতে তুলে নেই। এবং কবরের নৈঃশব্দ ভেঙে বলি, ’আই টেক ইট এ্যাজ একসেপ্টেড।’ অথর্াৎ আমি ধরে নিচ্ছি, পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: আরেকটু বিস্তারিত বলুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: নিয়াজির সামনে যখন দলিলটি দিলাম তখন মনে হলো তিনি তা নাকচ করছেন। আমাকে বলছেন, হোয়াট ডু আই ডু? ২৬,৪০০ পাকিস্তানি সৈন্য তখন ঢাকায়। আর ঢাকার অদূরে আমাদের মাত্র ৩০০০ সৈন্য। আর নিয়াজি কিনা বলছেন, হোয়াট ডু আই ডু? এর উত্তর তো আমার জানা ছিল না। তাঁকে ৩০ মিনিট সময় দিলাম। আমি ঘড়ি দেখছি। পায়চারি করছি। চাপা উত্তেজনায় টগবগিয়ে ফুটছি। তাঁকে বললাম, জেনারেল, এই টেবিলেই সই হবে। আপনি কি মেনে নিলেন? এই দলিল কি গ্রহণ করলেন? নিয়াজি কোনো জবাব দিলেন না। একাদিক্রমে তিনবার আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি নিরুত্তর থাকলেন। হ্যাঁ বা না কোনো ধ্বনিই উচ্চারিত হলো না। তারপরই ঘনিয়ে এল সেই মুহূর্ত। কাগজটি তুলে নিয়ে আচমকা উচ্চারণ করি: আই টেক ইট অ্যাজ অ্যাকসেপ্টেড। আমি ধরে নিচ্ছি, আপনি এটা গ্রহণ করেছেন। আমি অস্কুটে বলে উঠি, থ্যাংক ইউ গড। মনে মনে প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে। গড বা আল্লাহ যাই বলি, গড ইজ গড। তিনি আছেন। তিনি নিশ্চয় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি করুণাবর্ষণ করছেন। এরপর আমি পাবলিক সারেন্ডার, গার্ড অব অনার ইত্যাদির জন্য চাপ দেওয়া শুরু করি।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: নিয়াজি যে কলমটি দিয়ে সই করেন সেটি কার ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমার ধারণা কলমটি অরোরার ছিল।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: ১৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান পরিকল্পনার নায়ক ছিলেন আপনিই?&lt;br /&gt;জ্যাকব: তা জানি না। তবে ঢাকার পতনের পরিকল্পনা আমার। আত্মসমর্পণের দলিলের খসড়া আমার তৈরি। স্থান নির্বাচন করেছি আমি। গার্ড অব অনারও হয়েছে আমার নিজস্ব পরিকল্পনায়। বহু পরে ভেবে দেখেছি, আশ্চর্য, আমার পরিকল্পনায় কোনো ভুল ছিল না। জাতিসংঘের আওতায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে আমি রূপান্তর করেছিলাম পাবলিক সারেন্ডারে।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: পাক যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবাসন ও প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে বলুন।&lt;br /&gt;জ্যাকব: ১৪ দিন পর আমি ফোর্ট উইলিয়ামে ফিরি। আমি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পাক জেনারেলদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁদের সঙ্গে কথোপকথনের বিবরণ আমি দিল্লিতে পাঠাই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: তাঁদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?&lt;br /&gt;জ্যাকব: প্রত্যেকের একটি অভিন্ন প্রতিক্রিয়া ছিল−আমরা যুদ্ধে হেরে গেছি, কিন্তু এর প্রতিশোধ নেব।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাঁদের বিচার না হওয়ার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?&lt;br /&gt;জ্যাকব: দেখুন, আমি আইনজীবী নই। বিচারের প্রশ্নটি ছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার। এ ব্যাপারে যত দলিলপত্র তা সবই ছিল বাংলাদেশের হাতে। আমাদের কাছে পাকিস্তানিদের নৃশংসতার বিষয়ে রিপোর্ট ছিল, রেকর্ড ছিল না। আপনাদের ভালো আইনজীবীও ছিল। তবে একাত্তরে ডিসেম্বরের বিজয়ের পরপরই আমাকে কাশ্মীরে বদলি করা হয়। এর পরের ঘটনা আমার জানা নেই।&lt;br /&gt;প্রথম আলো: বাংলাদেশের বিজয়ের ৩৮তম বার্ষিকীতে আপনার মন্তব্য কী?&lt;br /&gt;জ্যাকব: আমি একটি আবেদন জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সমস্যা রয়েছে। আমাদের অবশ্যই একযোগে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে। আমরা বাংলাদেশের প্রতি একদিকে নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল। দারিদ্র্যের পরে এখন আমাদের অভিন্ন শত্রু হচ্ছে সন্ত্রাস। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় উভয় দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-2465030219954069894?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/2465030219954069894/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=2465030219954069894' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/2465030219954069894'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/2465030219954069894'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/12/blog-post.html' title='জেনারেল জ্যাকবের বিশেষ সাক্ষাৎকার: ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাই বড় ছিল’'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_1pxPpwJ4HY4/SUgY6qBGwKI/AAAAAAAAAww/lf8T1CKZnbM/s72-c/P67Muktiyoddha.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-6722194942493766095</id><published>2008-09-07T21:43:00.003+06:00</published><updated>2008-12-18T01:29:35.364+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ভ্রমণ কাহিণী'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিদেশি'/><title type='text'>দার্জিলিং এবং ভ্রমণকাহিনী এবং...</title><content type='html'>&lt;strong&gt;&lt;span&gt;প্রকাশ: &lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;span&gt;&lt;a href="http://www.prothom-alo.com/archive/news_details_fcat.php?dt=2008-05-26&amp;amp;issue_id=934&amp;amp;fid=Mjg=&amp;amp;nid=MjQ3NTM="&gt;প্রথম আলো সাময়িকি 'রস আলো', ২৬ মে, ২০০৮&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&lt;strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);"&gt;দার্জিলিং এবং ভ্রমণকাহিনী এবং...&lt;br /&gt;উৎপল শুভ্র&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;span style="color: rgb(204, 0, 0);"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;আলসে লোকের যা হয়, বেশির ভাগ কাজকেই মনে হয় বিরক্তিকর। তবে তার মধ্যেও কমবেশি থাকে। কেন যেন ব্যক্তিগত ড্রয়ারের অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র বেছে ফেলে দেওয়ার সাধারণ কাজটা আমার কাছে ‘বিরক্তিকর কাজের’ তালিকায় শীর্ষ তিনেই থাকে। কদিন আগে তা করতে গিয়েই টুকরো কাগজটা পেলাম। একটা হোটেলের বিল। এত দিন কীভাবে তা ড্রয়ারে থাকল, ভেবে একটু বিস্িনতই। কম তো নয়, এগারোটি বছর! ওই টুকরো কাগজটাই ফিরিয়ে নিয়ে গেল দার্জিলিংয়ে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ হয়ে যাওয়া টয় ট্রেন, জানালা দিয়ে হোটেলের রুমে ঢুকে যাওয়া মেঘ, পাহাড়ি রাস্তায় মেরুদন্ডে শিরশিরে অনুভুতি ছড়িয়ে দেওয়া সব বাঁক, টাইগার হিলে সুর্যোদয়... সব ছাপিয়ে যে ভ্রমণকাহিনীর শিরোনাম হওয়া উচিত−জরিমানা সফর!&lt;br /&gt;১৯৯৭ সালের মে। প্রখর তপনতাপে পুড়ছে ঢাকা আর আমাকে ডাকছে দার্জিলিং। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান ইনডিপেন্ডেনস কাপ ফাইনাল কভার করতে যাব ঠিক হয়ে আছে। সেটি শেষ করেই তাহলে দার্জিলিং! কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে বেরোতেই যেন আগুনের হল্কা লাগল গায়ে। ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে বোধ হয় একেই বলে। কলকাতার তুলনায় ঢাকা তো দেখি নাতিশীতোষ্ণ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরদিনই এখান থেকে পালাতে হবে।&lt;br /&gt;কলকাতায় অভিজ্ঞ বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে যে টিপস পাওয়া গেল, তাতে সবচেয়ে ভালো কলকাতা থেকে রাতের ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি, সেখানে সকালে পৌঁছে টয় ট্রেনে দার্জিলিং। কিন্তু কলকাতার গরম তো দেখছি রাত-দিন বৈষম্য করতে একদমই রাজি নয়। এই গরমে সারা রাতের জার্নি! সেই ব্যবস্থাও আছে, কিন্তু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় স্িলপার পেতে ভাড়া গুনতে হবে তিন গুণেরও বেশি। তাতেও আপত্তি নেই, সমস্যাটা হলো টিকিট পাওয়া নিয়ে। কলকাতার বড় একটা অংশ গরমে কয়েক দিনের জন্য দার্জিলিংয়ে ‘পালায়’, এসি কামরায় ১৫-২০ দিন পরের টিকিট পাওয়াও নাকি কঠিন। কলকাতার প্রভাবশালী সাংবাদিক বন্ধু মণখানেক কাঠ ও তার চেয়েও বেশি খড় পুড়িয়ে অবশেষে উদ্ধার করল। যাক্, এবার শান্তি!&lt;br /&gt;কিন্তু আমি একাই শান্তি পাব ভেবে প্রবল ঈর্ষান্বিত প্রকৃতি যাত্রার দিন কলকাতার সবার জন্যই শান্তির ব্যবস্থা করে ফেলল। সকাল থেকেই অঝোর বর্ষণ, সন্ধ্যা-সন্ধ্যায় হাওড়া স্টেশনে পৌঁছার সময়ও তা চলছে। গরম তো পালিয়েছেই, একটু যেন শীত-শীতও লাগছে। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আর শীত-শীত নয়, রীতিমতো কাঁপাকাঁপি অবস্থা। চারদিক থেকে এসি কমিয়ে দেওয়ার জন্য হাঁকডাক শুরু হয়ে গেল। কামরার অ্যাটেনডেন্ট বিনীতভাবে জানালেন, পুরো ট্রেনের শীততাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত, এর চেয়ে কম ‘শীত’-এর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। শীতের চেয়ে আমাকে অবশ্য টিকিটের দামটাই বেশি বিরক্ত করতে লাগল। এসিতে যাওয়ার কী দরকার ছিল, একটু গরম লাগলেই কি মরে যেতি নাকি! অন্য অনেকে যাচ্ছে না!&lt;br /&gt;যাক্, যা হওয়ার তা তো হয়েছেই। সকালে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছার পর কী করতে হবে−মনে মনে সেটির রিহার্সাল দিতে লাগলাম। সাংবাদিক বন্ধু বারবার বলে দিয়েছে, ‘ট্রেন স্টেশনে থামতেই নেমে উল্টো দিকের প্লাটফর্মের দিকে ঝেড়ে দৌড় দিবি। টয় ট্রেনে আসন নির্দিষ্ট করা নেই, একটু দেরি হলেই আর বসার জায়গা পাবি না। প্রায় আট-নয় ঘণ্টার জার্নি, জানালার কাছে বসতে না পারলে সব মাটি।’ কিন্তু টিকিট? টিকিট কাটতে হবে না! বন্ধু হেসে আশ্বস্ত করেছে, ওটা ব্যাপার নয়। টিটিকে কলকাতা টু জলপাইগুড়ির টিকিট দেখিয়ে ট্রেনেই তা কেটে নিবি। সবাই তা-ই করে।&lt;br /&gt;টয় ট্রেনের জানালার পাশে একটা সিটে আরাম করে বসার পর মনে মনে ওই বন্ধুকে ধন্যবাদ দিলাম। ওর সুপরামর্শ না পেলে দাঁড়িয়েই যেতে হতো! ট্রেন স্টেশনে ঢোকার আগেই দরজার কাছে, থামতে না থামতেই নেমে উল্টো দিকের প্লাটফর্মে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড় দেওয়ার পরও টয় ট্রেনে উঠতে সিনেমার টিকিট লাইনের মতো অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেখতে না দেখতেই কামরা পূর্ণ। অনেককেই দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তাদের কেউ কেউ আমার দিকে এমনভাবে তাকাতে লাগল, যেন আমি অন্যায়ভাবে তাদের আসন দখল করে আছি! ঘটনা হলো, আমি যে টিকিটবিহীন যাত্রী, এটা তাঁরা জেনে গেছে।&lt;br /&gt;টিটি এসে টিকিট চাইবার পর নিতান্ত অনিচ্ছায় বাইরে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এনে একটু বিরক্তি নিয়েই কলকাতা টু নিউ জলপাইগুড়ির টিকিটটা দেখিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলেছি, দার্জিলিং পর্যন্ত টিকিট দিন।&lt;br /&gt;টিটি পকেট থেকে রিসিট বই বের করতে করতে ততোধিক গম্ভীর মুখে জানিয়েছে, ভাড়া ২৫ রুপি আর পেনাল্টি ৪৫ রুপি (অনেক দিন আগের কথা, একটু এদিক-ওদিক হতে পারে, তবে জরিমানার পরিমাণটা যে টিকিটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল তা মনে আছে)। আমি তীব্র প্রতিবাদ করলাম। এই ট্রেনে উঠেই টিকিট কাটা নিয়ম−বন্ধুকে উদ্ধৃত করে এ কথা বলতেই টিটির মুখে ব্যঙ্গের হাসি, ‘ট্রেনে ওঠার আগেই টিকিট কাটতে হয়, তাও জানেন না? কথা শুনলে মনে হয় এই দেশে থাকেন না!’&lt;br /&gt;আমি বললাম, ‘আসলেই থাকি না। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’&lt;br /&gt;‘যেখান থেকেই আসুন, কিচ্ছু আসে-যায় না। পেনাল্টি দিতেই হবে।’&lt;br /&gt;কী আর করা! দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য এই তিক্ত স্নৃতির রেশটাও মুছে দিল টয় ট্রেন। ওই যাত্রাপথের বর্ণনা আর না-ই দিলাম। এ নিয়েই আলাদা একটি লেখা হতে পারে। শুধু বলি, এখনো খুব মন খারাপ হলে আমি ওই টয় ট্রেনের শরণ নিই। সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে চলছে ট্রেন, বেশির ভাগ সময় এমনই গতি যে মনে হচ্ছে নেমে হাঁটলেও এটিকে হারিয়ে দেওয়া যাবে। ওপরে ছোপ ছোপ সাদা মেঘ বুকে নিয়ে ঝকঝকে নীল আকাশ, নিচে পাহাড়ে জমে থাকা সাদা মেঘ... জানালার পাশে বসে এসব দৃশ্য দেখা। আহা। জীবন কত সুন্দর!&lt;br /&gt;কার্শিয়াং আসতে আসতে তা আর সুন্দর থাকল না। স্টেশনে ট্রেন থেমেছে আর নড়ার নাম নেই। কী ব্যাপার? ব্যাপার গুরুতর। কয়লা পুড়িয়ে চলা মান্ধাতা আমলের ইঞ্জিনে কী একটা গন্ডগোল হয়েছে, কখন ঠিক হবে বা আদৌ হবে কি না, কেউ বলতে পারছে না। অনেকেই ট্রেন থেকে বামাল নামতে শুরু করেছে। ট্রেনের ভরসায় বসে থেকে লাভ নেই। দার্জিলিং খুব দুর নয়, বাসে চলে যাওয়াই ভালো। আমিও তাদের অনুগামী হলাম। শুরুর রোমাঞ্চ মুছে দিয়ে টয় ট্রেন অনেকক্ষণই ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছিল। বাসই ভালো। তাড়াতাড়ি যাওয়া যাবে। ট্রেনে জানালার পাশের সিটের বদলে লਆড়-ঝਆড় বাসে গাদাগাদি ভিড়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সময় অবশ্য আর সেটিকে ভালো মনে হলো না। পাশে দাঁড়ানো এক লোকের গা থেকে ঘামের তীব্র দুর্গন্ধ আসছে। একটু পরপর শরীরের ভার এক পা থেকে আরেক পায়ে চাপানোর সময় নিয়ম করে আমার পায়ে পাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। আমার আহ্-উহ্ শুনে উল্টো বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছেন−আহ্, মোলো! তোর পাটা সরাবি না?&lt;br /&gt;সবকিছুই একসময় শেষ হয়। এই নরকযাত্রাও হলো। প্রথমবারের মতো দার্জিলিং−বাস থেকে নেমে কৌতুহল ভরে চারদিকে তাকাচ্ছি। হঠাৎই হাতের ব্যাগে টান পড়ল। তাকিয়ে দেখি তিন-চারজন তরুণ এটির মালিকানার দাবিদার হয়ে আবির্ভুত। ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। অনেকক্ষণ ধরেই খিদেয় পেট জ্বলছিল, ভ্যাবাচেকা খাওয়ায় তা নেভার কথা নয়। আসল ঘটনা বুঝতে অবশ্য বেশিক্ষণ লাগল না। ব্যাগের প্রতি ওদের লোভ নেই। ওরা সবাই খুব পরোপকারী। আমাকে ন্যায্য দামে ভালো হোটেলে পৌঁছে দিতে ব্যাকুল!&lt;br /&gt;হোটেল-টোটেল ঠিক করা নেই জেনে ওদের উৎসাহ আরও বাড়ল। আমার উপকার করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় তুমুল ঝগড়াঝাঁটিও শুরু হয়ে গেল। মাথায় খাড়া খাড়া চুল, খ্যাংড়াকাটি চেহারার তরুণটি অবলীলায় দাবি করে বসল, স্যার (মানে আমি) এ বাসেই আসছেন জেনে এক ঘণ্টা ধরে ও আমার পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার ওপর ওর অধিকারই তাই সবচেয়ে বেশি। এমন জোর দিয়ে বলা যে, আমারও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করল। ওর কল্পনাশক্তিতে মুগ্ধ হয়ে ওকেই বেছে নিলাম। পরিচয়-টরিচয়ও হলো। নাম অসিত। পেশা তো আগেই বুঝতে পেরেছি−হোটেলের দালাল। ৪০০ রুপির এক হোটেলে তুলে দেওয়ার পর ২০ রুপি বখশিশ পেয়ে দারুণ খুশি। ওর কারণে ৬০০ টাকার হোটেল ৪০০ টাকায় পেলাম−বিদায় নেওয়ার আগে বারবার এটি মনে করিয়ে দেওয়াটাকে অবশ্য কর্তব্য বলে মনে করল ও। সস্তায় হোটেল পেয়ে আমিও খুব খুশি।&lt;br /&gt;নিজের রুমে ঢুকছি, উল্টো দিকের রুমে তালা দিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকা দুই বাঙালি তরুণ ‘হাই’ বলে জিজ্ঞেস করল, কত টাকায় উঠলেন?&lt;br /&gt;আমি বিজয়ীর হাসি দিয়ে বললাম−‘৪০০ টাকা! একটা ছেলে ব্যবস্থা করে দিল।’&lt;br /&gt;‘বলেন কী? আমরা তো ৩০০ টাকায় ডাবল রুমে উঠলাম। এসব হোটেলে মুলোমুলি করতে হয়।’&lt;br /&gt;হোটেলে চেক-ইন করার সময়ই আমাকে একা দেখে ‘সন্দেহজনক’বোধক ভঙ্গিতে তাকিয়েছে রিসেপশনে বসা তরুণ। পরের দুইদিন এই দৃষ্টিটা একরকম অভ্যাসই হয়ে গেল। সবাই হয় ফ্যামিলি, নয় বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছে। মনে হচ্ছে, দার্জিলিং আমার মতো এমন নিঃসঙ্গ পর্যটক খুব একটা দেখেনি। পরের তিন দিন কী কী হলো, তার সবিস্তার বর্ণনা আর নাই-বা দিলাম। অর্থদন্ডের আর দুটি ঘটনা শুধু বলি। পরদিন সকালে হোটেলের রিসেপশনে নামতেই দার্জিলিংয়ের অবশ্য-দ্রষ্টব্য আকর্ষণগুলোর একটা তালিকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো। সাংবাদিকতা আর ব্যাচেলর জীবনের যৌথ প্রভাবে সেই সময় প্রায় ভোরে ঘুমিয়ে প্রায় দুপুরে ওঠার অভ্যাস। সকালের সব কর্মসুচি তাই বিষবৎ পরিত্যাজ্য বলে বিবেচিত। বেলা তিনটায় ‘সেভেন পয়েন্ট’ না কি যেন, এটায় যাওয়া যায়।&lt;br /&gt;দুপুর ১২টার দিকে দার্জিলিংয়ের প্রাণকেন্দ্র ম্যালে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম। ম্যাল থেকে চারদিকে পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা। তারই একটা ধরে হাঁটতে এমন ভালো লাগছিল যে, হাঁটতে হাঁটতে অনেক দুর চলে গেলাম। রাস্তার পাশে ঢালের ওপর বেঞ্চ। তারই একটাতে বসে দুরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে তখন চলমান হূদয়ঘটিত জটিলতা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে ভাবতে ভাবতে সেভেন পয়েন্ট পরিদর্শনে যাওয়ার উৎসাহটা আর থাকল না। ওখানে বসেই বিকেল করে ফেলার পর হোটেলে ফিরতেই রিসেপশনের তরুণের কন্ঠে অনুযোগ, ‘আপনার না সেভেন পয়েন্টে যাওয়ার কথা ছিল!’ আমি তো মুগ্ধ। এরা বোর্ডারের প্রতি কত মনোযোগী, কিছুই ভোলে না। আমি যেতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করলাম। সত্যিকার ‘দুঃখটা’ অবশ্য পেলাম একটু পর, যখন ওই তরুণ জানাল, আমার হোটেল বিলের সঙ্গে সেভেন পয়েন্ট পরিদর্শনের ৫০ রুপি যোগ হবে! না গিয়েও টাকা দিতে হবে−এ কেমন কথা? আপনি না যাওয়ায় জিপের একটা সিট খালি গেছে, সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে−এই যুক্তিতে উড়ে গেল আমার প্রতিবাদ।&lt;br /&gt;একের পর এক এমন ‘আর্থিক বিপর্যয়ে’ পরের দিনটা একটু থম মেরে রইলাম। ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই দুপুর, ম্যালে ঘোরাঘুরি করেই কাটিয়ে দিলাম বিকেল-সন্ধ্যা। কিন্তু দার্জিলিংয়ে এসে টাইগার হিলে সুর্যোদয় না দেখে গেলে কেমন হয়! ম্যালেতে অনেককে বলাবলি করতে শুনছিলাম, দু-তিন দিন আবহাওয়া খুব ভালো যাচ্ছে, ভোরে কুয়াশা-টুয়াশা থাকছে না বলে সুর্যোদয়টা নাকি দারুণ দেখা যাচ্ছে। আমিও দেখব বলে মন স্িথর করে ফেললাম। ভোরে ওখানে পৌঁছাতে হলে শেষ রাতে উঠতে হবে−না ঘুমালেই হবে। হোটেলের লোকজন যখন ডাকাডাকি শুরু করল, আমি তখন জেগেই। টাইগার হিলে যাওয়ার জিপে উঠে দেখি, বাকি সবারও আমার মতোই বেশ। সোয়েটার-চাদর-মাফলারে চোখ দুটি ছাড়া প্রায় আর সবই ঢাকা। অন্ধকারের মধ্যে শুধু হেডলাইটের আলোয় ভয়ঙ্কর সব বাঁকের রাস্তা পেরিয়ে টাইগার হিলে পৌঁছানোর পর ড্রাইভারের সহকারী বারবার মনে করিয়ে দিল, জিপের নম্বরটা ভুলবেন না। ভুললে সার বেঁধে দাঁড়ানো অসংখ্য জিপ-গাড়ি-মাইক্রোবাসের মধ্যে আর নিজেদের জিপ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আরে, এতবার বলার কী আছে? এটা মনে না থাকার কী হলো? হেলাফেলায় একবার জিপের নম্বর প্লেটটা দেখে যে সুর্যোদয়ের এত গল্প শুনেছি তা দেখার রোমাঞ্চে জোরে পা চালালাম। কিন্তু কোথায় সুর্যোদয়? ঘন কুয়াশায় দুই হাত দুরের মানুষও অস্পষ্ট, সুয্যি মামাকে কীভাবে দেখব? তার পরও বাকি সবার মতো আমিও আমার বিপরীতে আশা করে দুর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছি। মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছি, সুর্যোদয় না-ই দেখতে পেলাম, প্রাণ ভরে এমন কুয়াশা দেখার সুযোগটাই ছাড়ি কেন! সমস্যা একটাই, সোয়েটার-মাফলার ভেদ করে ঠান্ডাটা হাড়ে ঢুকে যাচ্ছে। একটু চা-কফি হলে হতো।&lt;br /&gt;টেলিপ্যাথি-হোমিওপ্যাথি-অ্যালোপ্যাথি কী বলবেন তা আপনার ব্যাপার, তবে সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় কানের পাশ থেকে ‘কফি-কফি’ চিৎকার। ছোট্ট একটা প্লাস্টিকের কাপে কফি, সেটির দাম ১০ রুপি! ঠিক আছে, খাই এক কাপ! পাহাড়ের এত ওপরে, দাম তো একটু বাড়বেই। কফি খেয়ে দাম দিয়েছি, কিশোর বিক্রেতার প্রশ্ন: আউর দো?&lt;br /&gt;‘আউর দো’ মানে! আমি তো একটা কফিই খেলাম। ‘নেহি, নেহি, আপ কা সাথ আউর দো আদমি থা।’&lt;br /&gt;এমনিতেই সেভাবে হিন্দি বলতে পারি না, বিস্িনত হয়ে আরও গুলিয়ে ফেললাম, ‘না না, হাম তো একলাই থা।’&lt;br /&gt;ওই ছেলে নাছোড়, আমার সঙ্গে আরও দুজন ছিল। আমি দাম দেব ভেবেই ও তিন কাপ কফি দিয়েছে। গলা একটু চড়িয়েই এবার বলল, ‘সাফ সাফ রুপিয়া ডালো।’&lt;br /&gt;আশপাশের লোকজন খুবই সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আর কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি তাই তিন কাপের দামে এক কাপ কফি খাওয়ার ব্যাপারটি চুড়ান্ত করলাম।&lt;br /&gt;সুর্যোদয় দেখতে পেলে দুঃখটা হয়তো ভুলে যাওয়া যেত। সেটি যে দেখা যাবে না, তা বুঝতে পেরে আস্তে আস্তে সবাই জিপে ফিরে যেতে শুরু করেছে। আমিও ‘ভগ্ন মনোরথ’ কথাটার পুরো মর্মার্থ উপলব্ধি করতে করতে নিজের জিপের দিকে ফিরছি। নিজের জিপ? নম্বরটা যেন কত? এই যা, কিছুতেই মনে করতে পারছি না। একের পর এক জিপ চলে যাচ্ছে আর আমি চড়াই-উতরাই রাস্তা দিয়ে উঠছি আর নামছি। রীতিমতো ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত খুঁজে না পেলে কী হবে? কমতে কমতে আর একটা জিপই আছে, আমিও ‘যা আছে কপালে। হয়তো এটাই হবে’ ভেবে তাতে উঠে বসে রইলাম। একটু পরই দেখলাম এক বৃদ্ধের নেতৃত্বে কলকল-খলখল করতে থাকা তরুণ-তরুণী-কিশোরদের একটা দল এই জিপের দিকেই এগিয়ে আসছে। ভোরে প্রায়ান্ধকারে সোয়েটার-মাফলারে মোড়া সফরসঙ্গীদের কারও চেহারাই দেখতে পারিনি, তবে তাদের মধ্যে দু-তিনজন তরুণী থাকলেও চিনতে পারব না, চোখ এতটা খারাপ হয়নি। তার মানে এই দলটা আমার জিপে ছিল না, আমি ভুল জিপে বসে আছি। আমার দিকে কেমন যেন তাকিয়ে ওই দলটা জিপে উঠে বসার পর ড্রাইভারের সহকারী ‘এক, দো, তিন...’ গুনতে শুরু করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল−আপ? আপ কৌন?&lt;br /&gt;‘হাম? হাম হাম হ্যায়!’&lt;br /&gt;এমন অদ্ভুত উত্তর শুনে সবাই হতভম্ব হয়ে যাওয়ায় আমি একটুও অবাক হলাম না। নার্ভাস হয়ে এটা কী বলে ফেললাম ভেবে আমিই তো হতভম্ব!&lt;br /&gt;যারা জিপে উঠেছে, তারা যে বাঙালি নয়, কথাবার্তাতেই তা বুঝেছি। বিপদ বুঝে জিপের বৈধ আরোহী দলটির ওই তরুণকে ইংরেজিতে ঘটনা খুলে বলার পর ‘ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার নয়’ শুনে আমি স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললাম (আচ্ছা, স্বস্তির নিঃশ্বাসটা কীভাবে ফেলে? সেটি কি আলাদা কিছু হয়? তাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি থাকে? সুকুমার রায় ‘মাথায় কত প্রশ্ন আসে’ ছড়াটা কি আর এমনি লিখেছিলেন!)। এই জিপটাতে যেতে না পারলে ওই পাহাড়চুড়ায় পড়ে থাকতে হতো। সুর্যোদয়-সুর্যাস্ত ছাড়া ওখানে জনমনিষ্যির পা পড়ে বলে তো মনে হয় না। বাবা-ভাই-বোন মিলে ছুটি কাটাতে আসা এই পরিবারটি কথায় কথায় হাসিতে ভেঙে পড়ছে। ওরা যখন হাসছে, আমিও ভদ্রতা করে হাসছি। কিছুক্ষণ পর মাথায় লাল স্কার্ফ বাঁধা তরুণী একটু যেন অবাক হয়েই আমাকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি আমাদের কথা বুঝতে পারছেন?’&lt;br /&gt;আমি বললাম, ‘বুঝব না কেন? আমি হিন্দি ভালো বলতে না পারলেও বুঝতে পারি।’&lt;br /&gt;‘আরে, আমরা তো হিন্দি বলছি না। আমরা বলছি মারাঠি।’&lt;br /&gt;মেয়েটির হাসির সঙ্গে বাকিরাও যোগ দিল। আমিও এতক্ষণে বুঝলাম, কেন ওদের কথাগুলো ঠিক হিন্দি নয়, হিন্দি-হিন্দি লাগছিল। আমি হিন্দিই ধরে নিয়ে একই ভাষা অঞ্চলভেদে কতভাবেই না উচ্চারিত হয়−এ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনাও করেছি। না হাসলেই চলত, কিন্তু এমন উপকারের পর ওদের আনন্দে নিজের আনন্দিত না হওয়াটাকে অভদ্রতা ভেবেই অমন হাসছিলাম। বাকি রাস্তায় ওদের তুমুল হাস্যরোলের সময়ও আমি মুখ মাত্রাতিরিক্ত গম্ভীর করে রাখলাম।&lt;br /&gt;টাইগার হিল থেকে ফেরার পথে কয়েকবার যাত্রাবিরতি আছে। অনেক পুরোনো একটা বৌদ্ধমন্দিরে থামে জিপ, আরেকটা কী যেন জায়গায় দুরবিন দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ব্যবস্থা। বৌদ্ধমন্দিরে নামার পরই বুঝলাম, জিপ-ড্রাইভারের সহকারী সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আমাকে একা পেয়েই দাবি করল, ওকে ‘ওয়ান ওয়ে’ টিকিটের টাকা দিতে হবে। তখন হ্যাঁ-না কিছু না বলে এড়িয়ে গেলেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উত্তেজনায় বাকি সবাই আমাকে ফেলে এগিয়ে যেতেই ওই সহকারী রীতিমতো চেপে ধরল−টাকা দিতেই হবে! দার্জিলিং যাত্রার শুরু থেকে জরিমানা দিতে দিতে বিপর্যস্ত আমার মন এবার বিদ্রোহী হয়ে উঠল। এমন করিয়া জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? না, আমি আর জরিমানা দেব না। ছেলেমানুষের মতো জিপের বৈধ আরোহী দলের ওই তরুণকে ডেকে বললাম, ‘দেখো, ও আমার কাছে টাকা চাইছে।’ আচ্ছা একটা ধমক দিয়ে ওই তরুণ বলল, ‘আমরা তো তোমার পুরো জিপই ভাড়া করেছি। উনার কাছ থেকে টাকা চাইছ কেন?’&lt;br /&gt;আমি বিজয়ীর হাসি হাসলাম। আমার কাছ থেকে বাড়তি টাকা খসানো এত সহজ নয়!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-6722194942493766095?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/6722194942493766095/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=6722194942493766095' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6722194942493766095'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/6722194942493766095'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/09/blog-post_07.html' title='দার্জিলিং এবং ভ্রমণকাহিনী এবং...'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-1012006433619920395</id><published>2008-09-05T14:55:00.001+06:00</published><updated>2008-09-05T15:11:11.323+06:00</updated><title type='text'>বিদায় হজ্বের ভাষণ</title><content type='html'>মুল লিংক: http://www.dailynayadiganta.com/2008/03/21/fullnews.asp?News_ID=73311&amp;amp;sec=70&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুক্রবার, ৯ জিলহজ, ১০ হিজরী সনে আরাফার দিন দুপুরের পর রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষাধিক সাহাবির সমাবেশে হজের সময় এই বিখ্যাত ভাষণ দেন। হাম্‌দ ও সানার পর স্বীয় ভাষণে ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। আর তিনি একাই বাতিল শক্তিগুলো পরাভূত করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হেল লোক সকল! তোমরা আমার কথা শোন। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারব কি না জানি না।&lt;br /&gt;হে লোক সকল! আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে মানবজাতি! তোমাদের আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে পয়দা করেছি এবং তোমাদের সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর দরবারে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে। ইসলামে জাতি, শ্রেণীভেদ ও বর্ণবৈষম্য নেই। আরবের ওপর কোনো আজমের, আজমের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদার ভিত্তি হলো কেবলমাত্র তাকওয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আল্লাহর ঘরের হিফাযত, সংরক্ষণ ও হাজিদের পানি পান করানোর ব্যবস্থা আগের মতো এখনো বহাল থাকবে।&lt;br /&gt;হে কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকরা! তোমরা দুনিয়ার বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন আল্লাহর সামনে হাযির না হও। আমি আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমাদের কোনোই উপকার করতে পারব না।&lt;br /&gt;যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, নিজের মাওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয় তার ওপর আল্লাহর লা’নত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কারো সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। সুতরাং তোমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না। এমনিভাবে কোনো স্ত্রীর জন্য তার স্বামী সম্পত্তির কোনো কিছু তার সম্মতি ব্যক্তিরেকে কাউকে দেয়া হালাল নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যদি কোনো নাক, কান কাটা হাবশি দাসকেও তোমাদের আমির বানিয়ে দেয়া হয় তবে সে যত দিন আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, তত দিন অবশ্যই তার কথা মানবে, তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শোনো, তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদায় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে, স্বেচ্ছায় ও খুশি মনে তোমাদের সম্পদের জাকাত দেবে, তোমাদের রবের ঘর বায়তুল্লাহর হজ করবে আর আমিরের ইতা’আত করবে, তা হলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হে লোক সকল! আমার পর আর কোনো নবী নেই, আর তোমাদের পর কোনো উম্মতও নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি তোমাদের কাছে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা এ দু’টোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তোমরা গুমরাহ হবে না। সে দু’টো হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত।&lt;br /&gt;তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ভূমিতে আবার শয়তানের পূজা হবে এ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে তোমরা তার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে। এতে সে সন্তুষ্ট হবে। সুতরাং তোমাদের দীনের বিষয়ে তোমরা শয়তান থেকে সাবধান থেকো। শোনো, তোমরা যারা উপস্থিত আছো, যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই পয়গাম পৌঁছে দিয়ো। অনেক সময় দেখা যায়, যার কাছ পৌঁছানো হয় সে পৌঁছানেওয়ালার তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তোমাদের আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তোমরা কী বলবে? সমবেত সবাই সমস্বরে উত্তর দিলেনঃ আমরা সাক্ষ্য দিব, আপনি নিশ্চয় আপনার ওপর অর্পিত আমানত আদায় করেছেন, রিসালতের দায়িত্ব যথাযথ আনজাম দিয়েছেন এবং সবাইকে নসিহত করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে পবিত্র শাহাদাত অঙ্গুলি তুলে আবার নিচে মানুষের দিকে নামালেন।&lt;br /&gt;হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো। হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাকো।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-1012006433619920395?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/1012006433619920395/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=1012006433619920395' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1012006433619920395'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/1012006433619920395'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/09/blog-post.html' title='বিদায় হজ্বের ভাষণ'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-9090941612558258506</id><published>2008-09-05T14:53:00.001+06:00</published><updated>2008-09-05T14:55:07.885+06:00</updated><title type='text'>The speech during the last hajj by Mohammad (Sm)</title><content type='html'>Collection link: &lt;a href="http://www.shvoong.com/f/books/speech/1638942-speech-mankind/"&gt;http://www.shvoong.com/f/books/speech/1638942-speech-mankind/&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Oh! My  &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Ummats', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/ummats/"&gt;&lt;span&gt;ummats&lt;/span&gt;&lt;/a&gt;, my dear followers,   &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Certainly', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/certainly/"&gt;&lt;span&gt;certainly&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; your   &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Creator', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/creator/"&gt;&lt;span&gt;creator&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; is one. Your father (Hazrat Adam) is one. Be aware! There is no   &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Superiority', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/superiority/"&gt;&lt;span&gt;superiority&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; of Arabs on non Arabs or non Arabs on Arabs; there is no supeririority of white on black or black on white. But he or she is the superior of all who has fear of his or her creator. Therefore, race, color, or nation are not the sign or proof of superiority, but only fear ness of one creator is the only measurement of superiority. One whose soul is as much afraid of Allah and virtuous, he or she deserves that much excellence and superiority of soul. &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;One Muslim is brother of another Muslim. So, all Muslims are brothers to each other. Your servants belong to you only. So, which you eat or wear, give the same things to them. &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;All killing of dark era is   &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Avoided', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/avoided/"&gt;&lt;span&gt;avoided&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; from now. All types of interests are avoided from now. About the women, be afraid of your creator. Certainly you have rights upon your women; they have also rights upon you accordingly.&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;Oh! my dear ummats, how much this holy day of Haj of this pure land of Mecca is the most expected and purest to you, that much respectable will be the others'' lives and &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Wealth', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/wealth/"&gt;&lt;span&gt;wealth&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; to each other up to the last day of this world. So, to destroy any more lives and wealth are haram (avoided) for you from now up to the last day.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Oh! People, no more messenger of God will come after me, and no more ummats (followers) will come after you also. So, I am the last &lt;a class="tags" onclick="javascript:counttag('Prophet', 1, 1638942)" href="http://www.shvoong.com/tags/prophet/"&gt;&lt;span&gt;prophet&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; and you are the last followers. Always pray for your creator. Pray 5 times (namaj). Keep fasting for one month during a whole year. Give the zakat (charity) from your wealth with satisfied and happy mind. Accomplish your Haj at the purest house of Allah '' Kaba Sharif '' . Listen to your capable leaders. Then you will be able to enter in to heaven.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Oh! My ummats hold strongly which I have kept for you, then you will never fall in distress. That wealth is nothing but the Holy Quran and His prophet''s ideals.You know certainly no messenger will born after me. I am the last prophet and messenger of your creator. Who are present now, reach my speeches to all others who are absent here. At last, he said with emotional voice,&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;“Oh! My Allah, my Lord, have I been able to reach your sayings to human beings?"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Lac lac voices acknowledged then, certainly! certainly! Then prophet Muhammad said to Allah for 3 times, “Oh! Allah, you are the witness, you are the witness, you are the witness." Then the last words of Holy Quran from Allah were sent by the angel (Hazrat Zibrael): "Now I have fulfilled your religion for you and accomplished my own grace towards you, and approved Islam as your complete religion."&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-9090941612558258506?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/9090941612558258506/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=9090941612558258506' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/9090941612558258506'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/9090941612558258506'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/09/speech-during-last-hajj-by-mohammad-sm.html' title='The speech during the last hajj by Mohammad (Sm)'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-4341591128351848403</id><published>2008-08-15T01:34:00.003+06:00</published><updated>2008-08-15T01:45:04.996+06:00</updated><title type='text'>Country faces severe dearth of chartered accountants</title><content type='html'>Published On:&lt;a href="http://www.thedailystar.net/story.php?nid=50345"&gt; The Daily Star; 2008-08-14&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;Business&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(51, 51, 255);"&gt;Country faces severe dearth of chartered accountants&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;Sohel Parvez&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;The country is facing a severe dearth of chartered accountants (CAs) as less than 1,000 qualified CAs are working at different levels against the requirement of about 12,000, according to an estimate of the Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB).&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Partly qualified CAs and non-chartered accountants now fill the gap, which, experts said, could hurt stakeholders' expectation of getting accurate and reliable financial reporting.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;According to the ICAB, the gap has been created due to the expansion of economic activities, spurred by rapid growth in investment in private sector, now the main-engine of Bangladesh economy.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;While a consistent growth of investment in the capital market has also fuelled the demand for qualified accountants to prepare reliable financial reports, as many investors make their decisions based on the accounting numbers.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;However, CAs have not come out in line with the requirement due to the poor rate of passing. The ICAB said it was due mainly to the enrolment of weak students in the past.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“In the last 15 years, our national economy registered a strong growth supported by increase in economic activities in the private sector, which is in strong need of qualified CAs,” said Md Humayun Kabir, president of ICAB.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;As per ICAB data, there are only 1015 CAs in Bangladesh. Of them, about 200 are working abroad.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;The ICAB chief said the institute has estimated the requirement based on the demand from corporate bodies. “We receive requests for CAs on a regular basis now,” Humayun said, claming that he had received at least 100 requests for CAs in the last seven months.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;He said in most of the cases partly qualified CAs fill the gap and prepare financial reports, which might affect the optimum use of economic resources by firms.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;He, however, hoped that more CAs will come out in future, as good students with business education, inspired by attractive remuneration and benefits, are joining the foray.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;At present, the salary range in CA profession is between Tk 100,000-Tk 500,000.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;To cope with demands, the ICAB has simplified the procedures so that more students admit and pass out every year. “We have taken a 10-year strategic plan aiming at increasing the number and quality of CAs,” he said.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;NI Chowdhury, secretary of ICAB, said nowadays he receives every day at least two requests for CAs.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Dearth of CAs may create the scope of flawed financial reports that, in turn, may affect both investors and government's revenue earning, he said.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Dr Mahmud Hossain, assistant professor of Accounting, University of Memphis, USA, said qualified accountants are required to prepare accurate and reliable financial reports for investors, especially in the stock market.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“Investors make decision based on accounting numbers. Therefore, it is important that financial statements disseminate accurate and reliable information,” he said during his visit in Dhaka early this month.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Mahmood Osman Imam, a professor of finance at Dhaka University who tracks corporate governance practices in Bangladesh, admitted that there are shortages of CAs but said audit or CA firms should improve the quality of auditing.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“Except a few of the audit firms, most of the external audit firms fail to ensure quality in their audits, ” he said.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“If they (audit firms) perform their jobs properly, transparency could have been ensured much, he added.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“Rather than arguing about the shortage, they should improve the quality of auditing,” he said.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;sohel@thedailystar.net&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/7353341270684452021-4341591128351848403?l=shabarchive.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shabarchive.blogspot.com/feeds/4341591128351848403/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=7353341270684452021&amp;postID=4341591128351848403' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4341591128351848403'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/7353341270684452021/posts/default/4341591128351848403'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shabarchive.blogspot.com/2008/08/country-faces-severe-dearth-of.html' title='Country faces severe dearth of chartered accountants'/><author><name>শাবাব মুস্তাফা</name><uri>http://www.blogger.com/profile/05838263900237503782</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/-2Wq-IwFTKgc/TZfJIMqAMeI/AAAAAAAAA8k/dHUdxH0tRmo/s220/P1010180_reasonably_small.JPG'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7353341270684452021.post-7060061543025634862</id><published>2008-07-28T00:39:00.003+06:00</published><updated>2008-07-28T00:53:40.903+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='করণীয়'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ভূমিকম্প'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='টিপস'/><title type='text'>ভূমিকম্প হলে কী করণীয়/জীবন রক্ষার টিপস</title><content type='html'>&lt;h2 style="font-weight: bold; color: rgb(204, 0, 0);" class="title"&gt;&lt;span style="color: rgb(0, 0, 0);"&gt;&lt;span style="font-size:85%;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;প্রকাশঃ &lt;/span&gt;&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/tanveer/17132#comment-100794"&gt;&lt;span style="font-weight: normal;"&gt;সচলায়তন &lt;/span&gt;&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/h2&gt;&lt;h2 style="font-weight: bold; color: rgb(204, 0, 0);" class="title"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ভূমিকম্প হলে কী করণীয়/জীবন রক্ষার টিপস &lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;&lt;dl style="font-style: italic;"&gt;&lt;dt&gt;তানভীর ইসলাম&lt;/dt&gt;&lt;/dl&gt;&lt;dd style="font-style: italic;"&gt;যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী, পেশায় নগর পরিকল্পনাবিদ/গবেষক/শিক্ষক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন&lt;/dd&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে বিশেষত ঢাকা শহরে বড় কোন ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি কী হবে, সেটা চিন্তা করতেও ভয় লাগে। আমি সাধারণত ‘আবহাওয়াজনিত’ দুর্যোগ নিয়ে কাজ করি। তাই, ভূমিকম্প আমার বিষয় নয়। কিন্তু যেহেতু সবরকম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যেই মিল রয়েছে, কাজেই এর কিছু খোঁজ আমাকেও মাঝে মাঝে রাখতে হয়। নীচে ভূমিকম্পের সময় জান বাঁচানোর জন্য কী করণীয় সে সম্পর্কে কিছু টিপস দিলাম। টিপসগুলো বিভিন্ন ভূমিকম্পের সময় উদ্ধার কর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। &lt;p&gt;১। ভূমিকম্পের সময় অনেকে টেবিল, চেয়ার, বিছানা ইত্যাদির নীচে আশ্রয় নেন- যা অবশ্যই পরিহার করা উচিত। কিন্ত কিছুদিন আগেও এটা ভূমিকম্পের সময় বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি ছিল, যা ‘ডাক এন্ড কাভার’ (Duck and Cover) পদ্ধতি নামে পরিচিত। পৃথিবীর বড় বড় ভূমিকম্পে উদ্ধারকর্মী হিসেবে যারা কাজ করেছেন তারা বলছেন- ভূমিকম্পের সময় ‘ডাক এন্ড কাভার’ পদ্ধতি যারা অনুসরণ করেছে, তাদের বেশিরভাগকেই তারা নিহত অবস্থায় পেয়েছে। ডাগ কপ নামক একজন অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মী ১৯৮৫ সালে মেক্সিকো সিটির ভূমিকম্পে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রথম যে বিল্ডিংটিতে তিনি ঢোকেন, সেটি ছিল একটি স্কুল। ভূমিকম্পের সময় স্কুলের বাচ্চাদের বলা হয়েছিল ডেস্কের নীচে আশ্রয় নেবার জন্য। তারা প্রতিটি শিশুকেই ডেস্কের নীচে গুঁড়িয়ে যাওয়া অবস্থায় পান। এক্ষেত্রে ভূমিকম্পের সময় যেটা হয়- বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার সময় সিলিং-এর সম্পূর্ণ ভার এসব অবজেক্টের ওপর পড়ে, তাতে এর নীচে আশ্রয়গ্রহণকারীর বেঁচে থাকার কোন উপায় থাকে না। তাই, ভূমিকম্পের সময় ডেস্ক, টেবিল ইত্যাদি কোন কিছুর নীচে ঢুকে আশ্রয় নেয়া ঠিক না।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;২। উদ্ধার কর্মীরা আরো লক্ষ্য করেছেন- বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার সময় সিলিং যখন কোন অবজেক্টের ওপর পড়ে একে গুঁড়িয়ে দেয়, ঠিক তার পাশেই ছোট্ট একটি খালি জায়গা বা void-এর সৃষ্টি হয়। একে তারা বলছেন ‘সেফটি জোন’ বা ‘ট্রায়াঙ্গল অফ লাইফ’। তাই ভূমিকম্পের সময় বড় কোন সোফা বা বড় কোন অবজেক্ট যেটা কম কম্প্রেস করবে- এরকম কিছুর পাশে আশ্রয় নিলে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মান
